• প্রচ্ছদ » » শিক্ষকদের লোভ, লবিং ও নোংরামি কিছুই বন্ধ হবে না, কারণ তারা সেসব লালন-পালন করেন


শিক্ষকদের লোভ, লবিং ও নোংরামি কিছুই বন্ধ হবে না, কারণ তারা সেসব লালন-পালন করেন

আমাদের নতুন সময় : 02/12/2019

কামরুল হাসান মামুন :‘শিক্ষকেরা প্রশাসনের বিভিন্ন পদ-পদবি পাওয়ার লোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে ঠিকমতো অংশ না নিয়ে বিভিন্ন লবিংয়ে ব্যস্ত থাকেন।’ Ñমহামান্য রাষ্ট্রপতি। আমাদের রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত রিঃঃু। এই রসবোধের সঙ্গে এর চেয়ে সত্য কথা আর কেউ বলে না বা বলতে পারেও না। যাদের উদ্দেশ্যে তিনি এই চপেটাঘাত করেছেন তারা এতে লজ্জা পেয়েছেন কিনা আমার সন্দেহ। কারণ তাদের লজ্জার পরত পর্দা অনেক আগেই ছিঁড়ে গেছে। আবার একইসঙ্গে উচ্চ শিক্ষার জন্য এর চেয়ে ক্ষতিকরও আর কিছু হতে পারে না। তবে এখানে একটি ‘তবে’ আছে। শিক্ষকদের মধ্যে কারা এ রকম পদ-পদবি পাওয়ার লোভে লবিংয়ে ব্যস্ত? মুষ্টিমেয় একটি গোষ্ঠী। তারা সর্বদা সরকার দলীয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতি যদি একইসঙ্গে তাদের কারা লোভী বানিয়েছে সেই বিষয়ে বলতেন তাহলে বিষয়টা আরও পোক্ত হতো। সময় এসেছে এই লোভী শ্রেণির শিক্ষকদের উন্মোচিত করা। আবার দেখা গেছে কোনো একটি পদ-পদবি পেলেই আরেকটি গোষ্ঠী আছে যারা ফুল দিয়ে বরণ করে নিজেদের আনুগত্য প্রকাশে ব্যস্ত হয়ে যান। এখানেও চলে লোভ আর লবিংয়ের খেলা। আবার এদিকে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন ‘শিক্ষকদের নোংরামি বরদাশত করবো না’। যখন বিরোধীদলে ছিলেন বা চিপায় পড়েন তখন শিক্ষকরা আন্দোলন করলে খুব ভালো লাগে। তখন তারা খুব ভালো। সবাই দেখি সময় ও সুযোগ পেলেই শিক্ষকদের এক হাত নিচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রী অবশ্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন। তিনি ক্ষমতাসীন দলের শিক্ষকদের নোংরামির কথা বলছেন না। তার চোখে তারা একদম ধোয়া তুলসী পাতা। এতো সবের পরও শিক্ষকদের লোভ, লবিং ও নোংরামি এসব কিছুই বন্ধ হবে না। কারণ তারাই সেসব লালন-পালন করেন। তাদের আস্কারাতেই উচ্চ শিক্ষার আজ এই বেহালদশা। গুটিকয়েক শিক্ষকের লোভ-লালসা আজ গোটা শিক্ষক সমাজের গায়ে কলংকের কালিমা লেপে দিচ্ছেন এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতির পথ পিচ্ছিল করছেন। শিক্ষকদের নিয়ে কথা বলার আগে একটু চিন্তাভাবনা করে বলা উচিত। এই সমাজে এখনো শিক্ষকরাই একটু প্রতিবাদ-ট্রতিবাদ করেন। তাই তাদের প্রতি একটু রাগ থাকা স্বাভাবিক।
২. ‘কিউএস র‌্যাংকিংয়ে ঢাবির সুখবর জানালেন উপাচার্য’। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কোয়াকারেলি সাইমন্ডসের (কিউএস) তৈরি করা এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় ১৩৫তম অবস্থানে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যেটা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে। আর ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিংয়ে? আসুন একটু তলিয়ে দেখি। সুখ পাওয়া বা খুশি হওয়া জিনিসটা আপেক্ষিক। এবার আসুন দেখি আসলে আমাদের কতোটুকু খুশি হওয়ার কারণ আছে। আমরা কাদের সঙ্গে তুলনা করবো? আমরা নিশ্চয়ই ইউরোপ-আমেরিকার সঙ্গে তুলনা করবো না। করলে ভৎঁংঃৎধঃরড়হ বেড়ে যাবে। এমনকি চীন-ভারতের সঙ্গেও নয়। তারাও শিক্ষা ও গবেষণায় অনেক এগিয়ে গেছে। আমরা বড়জোর পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনামের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। এবারের কিউএস ওর্য়াল্ড র‌্যাংকিংয়ে চধশরংঃধহ ওহংঃরঃঁঃব ড়ভ ঊহমরহববৎরহম ধহফ অঢ়ঢ়ষরবফ ঝপরবহপবং (চওঊঅঝ)-এর অবস্থান ৩৭৫। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৮০০-১০০০-এ। চওঊঅঝ-এর রিসার্চ আউটপুট হলো ‘ঠবৎু যরময’ আর আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলো ‘গবফরঁস’। অর্থাৎ আমাদের রিসার্চ আউটপুট ‘যরময’ হলেও একটু সান্ত¡না পাওয়া যেতো। শুধুই কি চধশরংঃধহ ওহংঃরঃঁঃব ড়ভ ঊহমরহববৎরহম ধহফ অঢ়ঢ়ষরবফ ঝপরবহপবং? না, এছাড়াও ছঁধরফ-র-অুধস টহরাবৎংরঃু’র ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিংয়ে ৫১১-৫২০-এর মধ্যে এবং তাদের জবংবধৎপয ঙঁঃঢ়ঁঃ : ঠবৎু ঐরময। এমনকি খধযড়ৎব টহরাবৎংরঃু ড়ভ গধহধমবসবহঃ ঝপরবহপবং (খটগঝ)’র ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিং ৭০১-৭৫০ এবং জবংবধৎপয ঙঁঃঢ়ঁঃ : ঐরময।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিং ৬৫১-৭০০ এবং তাদের রিসার্চ আউটপুট ‘াবৎু যরময’ আর আমরা মিডিয়াম। যদিও ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে তাদের ইনস্টিটিউটগুলো অনেক ভালো। আবার রাজ্য সরকার পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা বেশ খারাপ। তাদের কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা ও উচ্চ শিক্ষার মানের দিক থেকে অনেক ভালো করছে। কারণ রাজ্য সরকার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনীতি বেশি। কেন্দ্র পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম রাজনীতি। তাহলে বোঝা যাচ্ছে যেই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা বেশি রাজনীতিতে জড়িয়ে সেগুলো শিক্ষা ও গবেষণায় খারাপ করে। এসব তুলনা করলে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে আমাদের উচ্চ শিক্ষা তলানিতে। এবার বোঝেন আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় আমরা কোন নরকে আছি। অথচ আমাদের জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করলে আমাদেরই দায় বেশি। কারণ আমাদের তো আর কোনো সম্পদ নেই। মানব সম্পদই হতে হবে আমাদের উন্নতির চাবিকাঠি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]