দেশে শিশু মৃত্যুর হার কমলেও প্রতিবন্ধীর ঝুঁকি বাড়ছে

আমাদের নতুন সময় : 03/12/2019


দেবদুলাল মুন্না : ২৮তম বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস আজ। প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বরকে বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৯২ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে। অন্যদিকে বাংলাদেশে দিবসটি ২১তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। দিবসটি উদযাপনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দেশব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় শতকরা ৭ ভাগেরও অধিক প্রতিবন্ধী। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বর্তমানে ১৬ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৮ জন।
এদিকে এপিডেমিওলজিকাল সার্ভে অব চাইল্ডহুড ইমপেয়ারমেন্টস অ্যান্ড ডিজঅ্যাবিলিটিস অ্যারাউন্ড ফাইভ মেডিকেল কলেজ হসপিটাল’ শীর্ষক সর্বশেষ গবেষণাটি করেছেন শিশু বিকাশ কেন্দ্রের সমন্বয়ক অধ্যাপক নায়লা জামান খান। তিনি জানান, ‘বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। কিন্তু শিশু প্রতিবন্ধীর ঝুঁকি বাড়ছে। দারিদ্র্য ও অপুষ্টি এর মূল কারণ।’ জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি খন্দকার জহুরুল আলম বলেন, বাংলাদেশে মাত্র ৪ শতাংশ প্রতিবন্ধী শিশু স্কুলে যায়। এদের পরিপূর্ণ বিকাশের সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে গত বছর সেভ দ্য চিলড্রেন সুইডেন-ডেনমার্ক প্রকাশিত প্রতিবন্ধী শিশুশ্রম নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিবন্ধী শিশু আছে এমন পরিবারগুলোর ৭৭ শতাংশ এসব শিশুর আয়ের ওপর নির্ভরশীল। এই শিশুরা ভিক্ষা করে, অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় জড়িত। প্রতিবন্ধিতার কারণে তারা কর্মক্ষেত্রে মালিকের মারধর সহ্য করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে নায়লা জামান খানের নেতৃত্বে প্রশিক্ষপ্রাপ্ত একদল স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে দুই হাজার ৪৯৪ জন শিশুকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এই শিশুরা ঢাকা, স্যার সলিমুল্লাহ, বরিশাল ও সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় বসবাস করছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায় আসা শিশুদের প্রত্যেকের মধ্যেই কিছু না কিছু সমস্যা ধরা পড়ে। এদের অনেকে ঠিক সময়মতো উপুড় হতে, হাঁটতে, বসতে, দাঁড়াতে বা চলতে শেখেনি (গ্রস মটর সমস্যা); কেউ কেউ ঘাড় নাড়তে পারে না (ফাইন মটর সমস্যা), কেউ চোখে কম দেখে বা কানে কম শোনে, কেউ কথা বলতে পারে না, কেউ হাসে না বা কেউ ডাকলে সাড়া দেয় না, জিনিস চিনতে পারে না, কারও খিঁচুনি হয় আবার কেউ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যায়। নায়লা জামান খান বলছেন, শহরের দরিদ্র পরিবারগুলোর শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নায়লা জামান খান বলেন, পরিবারের অসহযোগিতার কারণে এসব শিশুর প্রতিবন্ধিতার মাত্রা নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, যেসব শিশুর ছোটখাটো সমস্যা এরই মধ্যে ধরা যাচ্ছে, তাদের নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন। এতে করে ক্ষতির পরিমাণ কমবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]