• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » বিজয় দিবসের দিনে এবার রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করে ঘৃণা প্রকাশ করা হবে, জানালেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী


বিজয় দিবসের দিনে এবার রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করে ঘৃণা প্রকাশ করা হবে, জানালেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

আমাদের নতুন সময় : 03/12/2019


আনিস তপন : মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রাজাকারদের কৃতকর্মের জন্য তাদের বিরুদ্ধে চুড়ান্তভাবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ঘৃণা প্রকাশ করে তিরস্কার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাবে তাদেরকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে। গতকাল সোমবার মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে এসব কথা জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক। এছাড়া অবশিষ্ট রাজাকাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি প্রথম বার সারাদেশের রাজাকারের তালিকাও প্রকাশ করা হবে বলে জানান, মোজাম্মেল হক।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রস্তুত করা হলেও রাজাকারের তালিকা তৈরী করতে এই প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সরকারি নথিতেই তাদের তালিকা রয়েছে।মুক্তিযুদ্ধ বিষয় মন্ত্রী বলেন, এবার প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তাদের মধ্যে প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন। এদের মধ্যে কারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধ বা কারো কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেসব যাচাই-বাছাই করতে দেশের সব উপজেলায় কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তাদের সুপারিশ আবার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নির্বাচন করছে।
এক্ষেত্রে রাজাকার যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন নেই। এজন্য রাজাকারের কোনো তালিকা তৈরী করা হচ্ছে না, কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর তাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। ৭১ সালে পাকিস্তানি সেনা কর্তৃপক্ষের তৈরী করা তালিকাই সরকারের কাছে রয়েছে। যা এবার প্রকাশ করা হবে।এজন্য সারাদেশের সব জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারাই এসব নথি সরবরাহ করছেন। তবে দীর্ঘ দিন এসব নথির বিষয়ে কোনো খোঁজ-খবর না নেয়ায় যেসব রাজাকারে নাম তালিকায় পাওয়া যাবে না অথচ রাজাকার হিসেবে পরিচিত বা অভিযোগ রয়েছে তাদের সম্পর্কেও খোঁজ নিতে ডিসিদের বলা হয়েছে।
মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল বলেন, স্কুটুনি করে সন্দেহাতীতভাবে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার রাজাকারের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিজয় দিবসে প্রকাশ করা হবে। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, জামুকার নিজস্ব আইন অনুযায়ী ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই করার লক্ষ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করে থাকে। তাদের সুপারিশ মতে মন্ত্রণালয় গেজেট নোটিফিকেশনের কাজ করে থকে। তবে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি এবার সারাদেশ থেকে রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এক কর্মকর্তা জানান, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হলেও এখন যে সংখ্যা রয়েছে তার খুব বেশি হেরফের হবে না। কারণ নতুন তালিকায় যাদের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া যাবে তাদের নাম যেমন বাদ যাবে আবার একই সময়ে নতুন কিছু নাম এতে অন্তর্ভূক্ত হবে। সম্পাদনা: দেবদুলাল মুন্না




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]