তাহলে কি বুয়েটে আবরারের মতো পোস্ট আর কেউ দিতে পারবে না?

আমাদের নতুন সময় : 04/12/2019

আলী রীয়াজ : বুয়েট কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি যেসব নতুন নীতিমালা জারি করেছেন তাতে বলা হয়েছে যে, ‘বুয়েটে কেউ সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি করলে সর্বোচ্চ সাজা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বহিষ্কার। এতে আরও বলা হয়, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতিতে জড়িত থাকলে, রাজনৈতিক পদে থাকলে, রাজনীতি করতে কাউকে উদ্বুদ্ধ বা বাধ্য করলে অপরাধ সাপেক্ষে শাস্তি সতর্কতা, জরিমানা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো মেয়াদে বহিষ্কার’ (প্রথম আলো, ৩ ডিসেম্বর ২০১৯)। এই নীতিমালা ঘোষণার প্রেক্ষাপট আমাদের সবার জানা আছে তবুও স্মরণ করা দরকার। গত ৬ অক্টোবর বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। তাকে হত্যা করার পেছনে একমাত্র না হলেও অন্যতম কারণ ছিলো ফেসবুকে দেয়া তার পোস্ট, এই পোস্টকে আর যাই হোক অরাজনৈতিক বলা যাবে না।
সম্প্রতি যে নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে তার আওতায় আবরারের মতো কেউ আগামীতে যদি এই ধরনের পোস্ট দেয় তাকে কী ‘পরোক্ষভাবে রাজনীতিতে জড়িত’ থাকা বলেই বিবেচনা করা হবে? তার মানে কি তাহলে এই দাঁড়ালো যে আবরারের মতো আর কেউ কোনোদিন যেন সাহস করে কথা না বলে সেই ব্যবস্থাই প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই প্রতিষ্ঠা করা হলো? বলতে পারেন বুয়েটে তো রাজনীতি করা তো আগে থেকেই নিষিদ্ধ। ২০০২ সালের ছাত্রদলের দু’গ্রুপের সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে সাবেকুন নাহার সনির মৃত্যুর পরে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট প্রশাসন ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলো ক্যাম্পাসে। সেই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়নি। তারপরও ছাত্ররাজনীতি হয়েছে। কিন্তু তার চেয়েও ভয়াবহ যা হয়েছে তাহলো হলে হলে টর্চারসেল হয়েছে। কিন্তু আবরার হত্যাকা- ছাত্রলীগের যে ভয়াবহ দিককে তুলে ধরেছিলÑ কেবল বুয়েটে নয়, অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলো না, বুয়েট প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও ব্যর্থতার দায় কাউকে নিতে হলো না, উপাচার্য থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তর থেকে হল কর্তৃপক্ষ নিলেন না সবাই থাকলেন বহাল তবিয়তে। কিন্তু খড়গটা নামলো ‘ছাত্ররাজনীতির’ উপরে। এই পদক্ষেপে চমৎকারিত্ব আছে, এর পক্ষে-বিপক্ষে অক্টোবর মাস থেকেই অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এই নীতিমালার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করা যাতে পারে ১৯৬২ সালের বুয়েট অধ্যাদেশের ১৬ নং ধারা কী তাহলে থাকলো না?
১৯৬২ সালের বুয়েট অধ্যাদেশের ১৬নং ধারা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, হল ছাত্র সংসদ ছাড়া ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের লিখিত অনুমোদন না নিয়ে কোনো ধরনের ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না বলা হয়েছে। ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের হাতে এই অনুমোদনের কোনো সুযোগ থাকলো কী? আগামীতে যদি কোনোদিন বুয়েটের ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয় তখন এই ধারা প্রয়োগের নামে কেবল পছন্দের সংগঠনগুলোকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ তৈরি করা হয়েছে বললে বাড়িয়ে বলা হবে না, অন্যদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ না হলেও ‘পরোক্ষ রাজনীতির’ অভিযোগ তো আনা যাবেই। আগামীর কথা না হয় আগামীতে হবে, কিন্তু এখন যে বিরাজনীতিকরণের পথে একটা বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হলো তার কী করবেন? এখন থেকে এক বছরেরও বেশি সময় আগে কিছু প্রশ্ন তুলেছিলামÑ ‘বাংলাদেশের তরুণদের জন্য কী রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে বা হচ্ছে? তারা রাজনীতিতে অংশ না নিক, সেটাই কি কাক্সিক্ষত হয়ে উঠেছে? তাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা কী এখন অপরাধ বলে গণ্য করা হচ্ছে’? (‘তরুণদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা কি অপরাধ’? প্রথম আলো, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮)। প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাচ্ছেÑ বুয়েটে এখন তা আইন করেই ‘অপরাধ’ ঘোষণা করা হলো। এর পরে কোথায়? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]