• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » পেঁয়াজের মূল্য ফেব্রুয়ারিতে সহনীয় পর্যায়ে যেতে পারে আমদানি ৬১০ টন, প্রভাব নেই পাইকারি খুচরা বাজারে


পেঁয়াজের মূল্য ফেব্রুয়ারিতে সহনীয় পর্যায়ে যেতে পারে আমদানি ৬১০ টন, প্রভাব নেই পাইকারি খুচরা বাজারে

আমাদের নতুন সময় : 04/12/2019


লাইজুল ইসলাম : পুরো নভেম্বর জুড়ে ১৮টি চালানে আকাশ পথে বাংলাদেশে পৌঁছেছে ৬১০.৬৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। আরো পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। তারপরও পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল হয়নি। চড়া দামেই রাজধানীতে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। বাজারে পেঁয়াজের দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী।
পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে এবারই প্রথম এতটা বিপাকে পরেছে সরকার, যার কারণে ভর্তুকি দিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে পেঁয়াজ। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে আকাশ পথে আনা পেঁয়াজের কেজি প্রতি খরচ পড়েছে ২৫০ টাকা। যা সরকার ভর্তুকি দিয়ে টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি করছে ৪৫ টাকা দরে। তারপরও কোনো প্রভাব পরেনি বাজারে। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে ফেব্রুয়ারির আগে আসবে না।
শুধু হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আকাশ পথে পেঁয়াজের চালান এসেছে। পাকিস্তান, মিশর এবং তুরস্ক থেকে আমদানি করা হয়েছে এসব পেঁয়াজ। যার মধ্যে ২০ নভেম্বর পাকিস্তান থেকে স্বাদ ইন্টারন্যাশনাল (পেঁয়াজ আমদানিকারক) ২টি চালানে এনেছে ৮১.৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। ২১ নভেম্বর মিশর থেকে সোনালী ট্রেডার্স আমদানি করেছে ৭.০৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। একই দিনে তুরস্ক থেকে এম হাসান অ্যান্ড কোং আমদানি করেছে ১০.৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। ২২ নভেম্বর তুরস্ক থেকে কামাল ট্রেডিং লিমিটেড আমদানি করেছে ১০.৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। একই দিনে মিশর থেকে ২টি চালানে সোনালী ট্রেডার্স আমদানি করেছে ১০৯.৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ।
এছাড়া ২৩ নভেম্বর মিশর থেকে সোনালী ট্রেডার্স ১টি চালানে আমদানি করেছে ৫৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, ২৬ নভেম্বর তুরস্ক থেকে এম হাসান এন্ড কোং ১টি চালানে আমদানি করেছে ১০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, একই দিনে তুরস্ক থেকে কামাল ট্রেডিং কোং লিমিটেড ১টি চালানে আমদানি করেছে ১০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, একই দিনে মিশর থেকে সোনালী ট্রেডার্স ২টি চালানে আমদানি করেছে ১০৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, ২৭ নভেম্বর মিশর থেকে ১টি চালানে সোনালী ট্রেডার্স আমদানি করেছে ১০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, ২৮ নভেম্বর পাকিস্তান থেকে স্বাদ ইন্টারন্যাশনাল ২টি চালানে আমদানি করেছে ৪৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, একই দিনে মিশর থেকে সোনালী ট্রেডার্স ১টি চালানে আমদানি করেছে ১০৮ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আর ২৯ নভেম্বর ২টি চালানে পাকিস্তান থেকে স্বাদ ইন্টারন্যাশনাল আমদানি করেছে ৫২ মেট্রিক টন পেঁয়াজ।
এবারই প্রথমবারেরমত সরকার বিপাকে পড়ে ভর্তুকি দিয়ে আকাশ পথে পেঁয়াজ আমদানি করেছে। আর এই পেঁয়াজে আমদানিতে বিমান তাদের চার্জ মওকুফ করেছে। মূলত দেশের নাগরিকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে সরকার তড়িৎ গতিতে পেঁয়াজ আমদানি করার ঘোষণা দেয়।
শ্যামবাজারের পাইকারী পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সামসুদ্দিন বলেন, সোমবার শ্যামবাজারে পাইকারিতে চায়না পেঁয়াজ কেজি ১১০ টাকা, মিশর ১১৮-১২৫ টাকা, তুরস্ক পেঁয়াজ ১১০ টাকা, বার্মা পেঁয়াজ ১৪০-১৫০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ পুরান ১৮০-১৯০ টাকা, নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১৪০-১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁয়াজের দাম কমতে এখনও সময় লাগবে। সোমবার শ্যামবাজারে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১৮ মেট্রিক টন এসেছে। ক্রমশ এখন নতুন পেঁয়াজ আসতে থাকবে। ফলে দামও কমে যাবে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব মতে দেশে প্রতিদিন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে সাড়ে ৬ হাজার টন। এ হিসেবে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ থেকে ২৫ লাখ টন। আর প্রতি বছর পেঁয়াজ আমদানি করতে হয় ৭-৯ লাখ টন। আর সেই আমদানির ৯০ ভাগই ভারত থেকে আমদানি করা হতো। কিন্তু হঠাৎ ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করলে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]