• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » ফিজিবিলিটি স্টাডি ছাড়াই ৯৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে


ফিজিবিলিটি স্টাডি ছাড়াই ৯৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে

আমাদের নতুন সময় : 04/12/2019

 

সাইদ রিপন : বাংলাদেশ সরকার শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রধিকার দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বিশে^র অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বাংলাদেশে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিশেষ করে দেশের হাওর অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানের চেয়ে খুবই নাজুক। এরই ধারাবাহিকতায় “হাওর এলাকার নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন” শীর্ষক একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের পর প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই থেকে জুন ২০২২ সালে বাস্তবায়ন করবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাবিত ডিপিপি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডিপিপি সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলের প্রায় ১২টি উপজেলায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩ হাজারটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ হাজারটি দাখিল/ফাজিল/আলিম মাদ্রাসা, এক হাজার ৫০০টি বেসরকারি মহাবিদ্যালয়ের ভবনসহ অন্যান্য সুবিধা দিয়ে প্রকল্প চলমান আছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা ও অন্যান্য সুবিধায় বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু হাওর এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আলাদা কোন কার্যক্রম নেই।
প্রকল্পটির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের শিক্ষা উইং এর মতামতে বলা হয়েছে, সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন পদ্ধতি (অক্টোবর ২০১৬) অনুযায়ী ২৫ কোটি টাকার উর্ধ্বে প্রাক্কলিত ব্যয় সম্পন্ন সকল বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাই করার বিধান থাকলেও আলোচ্য প্রকল্পের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্যতা জরীপ করা হলে প্রকল্প গ্রহণ, বাস্তবায়ন ইত্যাদি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তাই প্রকল্পটি গ্রহণের আগে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি করা প্রয়োজন।
এছাড়া, প্রকল্পটি গ্রহণের পটভূমিসহ তথ্যভিত্তিক যৌক্তিকতা অত্যান্ত দুর্বল এবং ডিপিপিতে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রদান করা হয়নি। প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ভূমি সংক্রান্ত তথ্যসহ বিদ্যমান একাডেমিক, প্রশাসনিক, আবাসিক অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যবহার সম্পর্কিত তথ্য এবং প্রস্তাবিত ভৌত অবকাঠামো নির্মাণসহ অন্যান্য চাহিদা কিসের ভিত্তিতে নিরুপন করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভায় হাওর ও জলাভূমি এলাকায় প্রকল্প প্রহণে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের সুপারিশ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ প্রকল্পটির ক্ষেত্রে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা তা সভাকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রণীত হাওর উন্নয়ন মহাপরিকল্পনায় এ ধরনের প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে কিনা তার সভাকে জানাতে হবে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]