• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু মারা গেছেন, তিনি ছিলেন ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী


ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু মারা গেছেন, তিনি ছিলেন ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী

আমাদের নতুন সময় : 04/12/2019

দেবদুলাল মুন্না : ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু গতকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।(ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন) তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। বেশ কয়েকদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন। রওশন আরা বাচ্চু’র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। রওশন আরা বাচ্চুর মেয়ে তাহমিদা খাতুন এ খবর নিশ্চিত করেছেন। সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বিকেলে রওশন আরা বাচ্চুর মরদেহ বাংলা একাডেমিতে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলা একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা পিয়াস মজিদ জানান, বাংলা একাডেমিতে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পর এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রওশন আরা বাচ্চুর মেয়ে তাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলা একাডেমি থেকে মিরপুরের পশ্চিম মণিপুরের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আসরের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি কুলাউড়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে রাতেই তাকে দাফন করা হবে।
ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চুর মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমরা তাকে চাচী বলে ডাকতাম। তিনি আমাদের কাছে প্রেরণা ছিলেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে একুশে ফেক্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু নারীদের সংখ্যা সেসময় কম থাকাই স্বাভাবিক। তিনি ছিলেন ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী।’ ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে রওশন আরা বাচ্চু সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সংগঠিত করা ছাড়াও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হলের ছাত্রীদের ভাষা আন্দোলনের পক্ষে সুসংগঠিত করেন। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি হরতাল আহ্বান করায় সরকার বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে। এ সময় যে সব ছাত্রছাত্রী ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করাই আন্দোলনের জন্য প্রয়োজন মনে করেন, রওশন আরা বাচ্চু তাদের মধ্যে একজন। ২১ ফেব্রুয়ারিতে তিনি ইডেন কলেজ ও বাংলাবাজার বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের একত্রিত করে আমতলার সমাবেশস্থলে নিয়ে আসেন। তারা ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে মুখরিত করেছিলেন চারদিকে। সেদিন বিকেলে পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের সদস্য আনোয়ারা খাতুন বক্তব্য রাখতে গিয়ে যে দুজন আহত ছাত্রীর পরিচয় তুলে ধরেছিলেন তাদের মধ্যে একজন ছিলেন বেগম রওশন আরা বাচ্চু। ১৯৩২ সালের ১৭ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলায় কুলাউড়ার উছলাপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন রওশন আরা বাচ্চু। তার বাবা এম আফরেফ আলী, মা মনিরুন্নেসা খাতুন। ১৯৪৭ সালে রওশন আরা বাচ্চু শিলং লেডি কিন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৯ সালে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট, ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতক সম্মান পাশ করেন। পরবর্তীকালে ঢাকার আনন্দময়ী গার্লস স্কুল, নজরুল একাডেমী, কাকলী হাইস্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]