• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » সিগন্যাল কোর সেনাবাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশীদার, বললেন রাষ্ট্রপতি


সিগন্যাল কোর সেনাবাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশীদার, বললেন রাষ্ট্রপতি

আমাদের নতুন সময় : 04/12/2019


ইসমাঈল ইমু ও জাহিদুল কবীর : যশোর সেনানিবাসে অবস্থিত সিগন্যাল ট্রেনিং সেন্টার এন্ড স্কুলে সিগন্যাল কোরের ষষ্ঠ কোর পুনর্মিলনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার সকালে প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অভিবাদন গ্রহণ এবং বক্তব্য প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশ গঠন এবং দেশ মাতৃকার সেবায় এই কোরের সদস্যরা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে যে কোনো দুর্যোগময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষের সাথে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্ববধানে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সেবামূলক কর্মকা-ে সেনাবাহিনীর অংশ হিসেবে সিগন্যাল কোরের সদস্যদের অবদান প্রশংসনীয়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে এবং কুয়েত পুনর্বাসন মিশনে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে সিগন্যাল কোর আন্তর্জাতিক পরিম-লেও প্রশংসা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও একইভাবে জনকল্যাণমূলক কাজে সশস্ত্রবাহিনীকে অবদান রাখতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বক্তব্যের শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল শহীদদের পাশাপাশি সিগন্যাল কোরের সদস্যদের আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ অভিজাত স্যাটেলাইট ক্লাবের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। বিদেশি স্যাটেলাইট নির্ভরতা পরিহার করে ইতোমধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যার সুফল দেশবাসী উপভোগ করছে।
জনগণের সুখ-দু:খে সেনাবাহিনীকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক। রাষ্ট্র ও সরকারের সকল কর্মকা- পরিচালিত হয় জনগণের কল্যাণে। তাই আপনাদের দায়িত্ব পালনকালে জনস্বার্থ ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। মনে রাখতে হবে জনগণের কষ্টার্জিত টাকায়ই দেশের উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রের যাবতীয় ব্যয় মেটানো হয়। তাই জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি জনগণের সুখ, দু:খে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির পিতা সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার সত্ত্বেও একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি স্থাপন করেন এবং প্রথম ব্যাচের ক্যাডেটদের সমাপনী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ ‘অমর প্রাণ’ এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) ডা. নাসির উদ্দিন। এছাড়াও ঊর্ধ্বতন সামরিক ও আধা সামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক এটাশে এবং সিগন্যাল কোরের বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার ও অন্যান্য পদবীর সদস্যবৃন্দ। সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]