নুরের ঘরে তালা, রব্বানীর ঘরে নয় কেন?

আমাদের নতুন সময় : 05/12/2019

মাসুদ কামাল : ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের একটা ফোনালাপ নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। বলা হচ্ছে সে নাকি কার কাছে ১৩ কোটি টাকা চেয়েছে। নুর অবশ্য এর প্রতিবাদ করেছে। বলেছে, যে অডিও রেকর্ডটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে সেটি বিকৃত। মূল ফোনালাপ থেকে কিছু অংশ নিয়ে অপপ্রচারকারীরা তাদের সুবিধামত অডিও ক্লিপটি তৈরি করেছে।
তবে ভিপি নুরের কথার সত্য-মিথ্যা বিচারের জন্য কেউ কেউ আর অপেক্ষা করেনি। তারা যেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডাকসু ভবনের ভিপি’র কক্ষে একটি তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। তালা ঝুলানোর এই কাজটি করেছে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেছেন, ‘ডাকসু ভিপি হয়ে অর্থ লেনদেনের মত অনৈতিক কাজে লিপÍথাকার দায়ে তিনি আর ডাকসুর ভিপি থাকতে পারেন না। এজন্য প্রতিবাদ হিসাবে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি।’

এ ঘটনায় দুটি প্রশ্ন মনে জেগেছে। প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের অখ্যাত কোন সংগঠনের, অথবা যে কোন সংগঠনেরই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ভিপি’র কার্যালয়ে তালা ঝুলানোর অধিকার আছে কি-না। আর তাছাড়া এমন একটি ‘অপরাধ’র দায় ভিপি নুরের ওপর চাপানো হচ্ছে যা এখনো প্রমাণিত নয়। দ্বিতীয় প্রশ্ন, ডাকসুর জিএস রব্বানীর অফিস কক্ষে কি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কিংবা অপর কোন সংগঠন কখনো তালা ঝুলিয়েছে? ডাকসু জিএসের বিরুদ্ধেও তো দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছিল। সে অভিযোগ এতটাই গুরুতর ছিল যে, সে কারণে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। রব্বানী নিজে অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ বারবারই অস্বীকার করেছেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পর ডাকসু জিএসের সততার বিষয়ে কেউ আর আস্থা রাখতে চাইবেন?
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কাজটি কি অনেকটাই পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে গেল না? এরকম স্বল্প পরিচিত একটা সংগঠনকে অবাধে তালা ঝুলাতে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কি নিজেদের দুর্বলতাকেই প্রকট করে তুলল না?




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]