মাটি দূষণের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে ৬ কোটি লোক উদ্বাস্তÍ হতে পারে

আমাদের নতুন সময় : 05/12/2019


দেবদুলাল মুন্না : আজ বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস। মৃত্তিকার সঠিক পরিচর্যার গুরুত্ব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মৃত্তিকা বিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন (আইইউএসএস) ২০০২ সালে বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করে। পরে এটি জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থার অনুমোদন লাভের পর প্রতি বছর এ দিনে সারা বিশ্বে দিবসটি উদযাপিত হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশের মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) আজ এ উপলক্ষ্যে বিশেষ কর্মসূচী পালন করবে। মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা যায়, দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে মাটিতে জৈব সার রিসাইক্লিং হচ্ছে না, বরং ক্ষয় হচ্ছে। জৈব পদার্থ মাটির প্রাণ। এটা গাছের পুষ্টি ধরে রাখে এবং মাটির নিবিড়তাও রক্ষা করে। অজৈব রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার মাটির উর্বরতা কমিয়ে দিচ্ছে। সরকারি এ সংস্থার হিসাব দেশের ৭ লাখ হেক্টর জমিতে জৈব পদার্থের ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে একাধিক বেসরকারি সংস্থার হিসাব তা ৫২ লাখ হেক্টরের কম নয়। এ অবস্থায় গোবর, মুরগির বিষ্ঠা, সবুজ সার, কম্পোস্ট ইত্যাদি সঠিকভাবে পচিয়ে প্রতি শতাংশ জমিতে ১০ থেকে ২০ কেজি করে প্রয়োগ করলে ধীরে ধীরে মাটি উর্বরতা ফিরে পাবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান সভ্যতাকেই মাটির সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করেন। সভ্যতার কারণে মাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও মাটি দূষণের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ৬ কোটি লোক উদ্বাস্তÍু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইটভাটা, রাস্তা ও ভবন নির্মাণ এবং পুকুর খননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ক্রমাগত মাটির ওপরের স্তর নষ্ট হচ্ছে।
জানা গেছে, দেশের গৃহস্থালি বর্জ্য, কল কারখানার কঠিন ও তরল বর্জ্য মাটি দূষণের একটি বড় উৎস। ল্যান্ডফিলগুলো (ময়লার ভাগাড়) আরেকটি মারাত্মক মাটি দূষণকারী। এ ছাড়া বছরের পর বছর একনাগাড়ে ভূমি কর্ষণও মাটি দূষণের জন্য দায়ী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম ইমামুল হক বলেন, খাদ্যের উৎপাদন ও এর গুণাগুণ সুস্থ মৃত্তিকার ওপর নির্ভরশীল। অথচ মৃত্তিকার সঠিক পরিচর্যার অভাবে এর অবক্ষয় এবং স্বাস্থ্যহানি ঘটছে অনবরত। অধ্যাপক ইমামুল হকের নেতৃত্বে এক গবেষণায় দেখা গেছে, মহাসড়কগুলোতে চলাচল করা পুরনো গাড়িগুলো থেকে বের হওয়া বিভিন্ন ধরনের ধাতবপদার্থ গাছপালা, জলাশয় ও মাটিকে দূষণ করছে। ‘কন্ট্রামিনেসস অব সয়েল অ্যান্ড প্ল্যান্টস ডিউ টু অটোমোবাইল এক্সহাটস’ শীর্ষক এই গবেষণায় তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচলকারী হাজার হাজার বাস ও ট্রাক রাস্তার পাশের মাটি দূষণের জন্য দায়ী। কারণ এসব যানবাহন থেকে প্রতিদিনই নির্গত হচ্ছে আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, সিসা, নিকেলসহ বিভিন্ন ধরনের দূষিত পদার্থ। এসব বিষাক্ত পদার্থ দীর্ঘ দিন ধরে জলাশয়গুলোতে জমে জমে এগুলোর মাটি দূষিত করে ফেলছে। এরফলে বিভিন্ন রোগব্যাধি বৃদ্ধির পাশাপাশি ওসব মাটি সংলগ্ন এলাকা বসবাসেরও অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এতে করে মাটি দূষণ রোধ না করলে কোটি কোটি মানুষ উদ্বাস্তÍু হয়ে যেতে পারে।’ সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com