• প্রচ্ছদ » লিড ১ » খালেদা জামিন শুনানিতে আপিল বিভাগে আইনজীবীদের স্লোগান, হট্টগোল ও হাতাহাতি, পরবর্তী শুনানি ১২ ডিসেম্বর, প্রধান বিচারপতি বললেন, নজিরবিহীন


খালেদা জামিন শুনানিতে আপিল বিভাগে আইনজীবীদের স্লোগান, হট্টগোল ও হাতাহাতি, পরবর্তী শুনানি ১২ ডিসেম্বর, প্রধান বিচারপতি বললেন, নজিরবিহীন

আমাদের নতুন সময় : 06/12/2019

নূর মোহাম্মদ : গতকাল বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে ছিল বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি। একে কেন্দ্র করে সকাল নয়টা থেকে দুপুর সোয়া একটা পর্যন্ত চলে চরম হট্টগোল, বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের শ্লোগান।
গতকাল বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ৭ নম্বর ক্রমিকে ছিল খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি। ক্রমানুসারে আবেদনটি শুনানির জন্য আসলে দেখা যায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল থেকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রতিবেদন আসেনি। আপীল বেঞ্চ তখন শুনানি এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১২ ডিসেম্বর নির্ধারণ করে। আর এ সিদ্ধান্ত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ওই তারিখ এগিয়ে আনার দাবিতে হট্টগোল শুরু করেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা মানবিক কারনে এসেছি। বেগম জিয়া অসুস্থ। প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা যে রিপোর্ট চেয়েছি সেটা আসুক। আগামী ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার শুনবো। ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে। জয়নুল আবেদীন তখন শুনানির তারিখ এগিয়ে আনতে বলেন। কিন্তু আদালত রাজি হননি।
এসময় বিএনপির আইনজীবীরা হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এগিয়ে গিয়ে বলেন, মেডিক্যাল রিপোর্ট না আসার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল দায়ী। উনি যেটা উপদেশ দেয় মেডিকল কর্তৃপক্ষ সেটাই করে। বিএনপির আইনজীবীরা বলেন, জামিন শুনানি না হলে তারা কেউ সেখান থেকে যাবেন না। এমন হট্টগোলের মধ্যে আট মিনিট চুপ করে বসে থাকেন বিচারপতিরা। পরে সকাল ১০টার দিকে তারা এজলাস ত্যাগ করেন।
বিচারপতিরা এজলাসে না থাকলেও আদালতে অবস্থান নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন বিএনপির আইনজীবীরা। এসময় বাইরে থেকে চকলেট এনে বিলি করা হয়। ১০.৪৫ মিনিটের দিকে আদালত কক্ষ থেকে বের হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা। তারা এরজন্য ব্যবস্থা নিতে প্রধান বিচারপতির প্রতি দাবি জানান।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবারও ছয় বিচারপতি এজলাসে আসেন। এসময় আবারও জয়নুল দাড়িয়ে কথা বলতে চাইলে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা এখন অন্য কিছু শুনবো না। সব কিছুর, বাড়া-বাড়ির একটা সীমা আছে। আজকে যে অবস্থা হয়েছে আগে কখনো আমরা এমনটা দেখিনি। এটা নজিরবিহীন।
এই পর্যায়ে জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ সিনিয়র আইনজীবীগণ কথা বলতে চাইলেও আদালত ওই প্রসঙ্গে কিছু শুনতে রাজী হননি। তখন সিনিয়র আইনজীবীরা আদালত থেকে বের হতে চাইলে তাদের বাধা দেন বিএনপির অন্য আইনজীবীরা।
একপর্যায়ে আট নম্বর আইটেম ডাকলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি শুনানি করতে এগিয়ে যান। এসময় বিএনপির আইনজীবীরা চিৎকার করে বলতে থাকেন জামিন শুনানি ছাড়া আজকে অন্য কোনো আইটেম হবে না। এ সময় বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা আবারো উঠে যেতে চাইলে তাদের বাধা দেয়া হয়। এসময় তাদের যেতে সহযোগিতার জন্য জন্য আওয়ামী লীগের কয়েকজন আইনজীবী এগিয়ে গেলে বিএনপির আইনজীবীদের সঙ্গে হাতাহাতি হয়।
কিউসি শুনানি করতে চাইলে থেমে থেমে চলে স্লোগান। তবে দুপুর সোয়া ১২টা থেকে থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত টানা স্লোগান দেন বিএনপির আইনজীবীরা। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ছাড়াও মাঝে মধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে বলে স্লোগান দেন তারা। এক আইনজীবী এসময় একটি ছোট প্লে-কার্ডও তুলে ধরেন আদালতে। এরই মধ্যে ঘটে আবার হাতাহতির ঘটনা। এসময় কিউসি শুনানি করতে না পেরে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। আর পুরোটা সময় চুপ ছিলেন আদালতও। দুপুর সোয়া ১টায় আদালতের সময় শেষ হলে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারপতিরা। পরে বের হয়ে যান সব আইনজীবীও।
সম্পাদনা : মাসুদ কামাল।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]