• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » বিকাশ এজেন্টের লোকসহ জ্বিনের বাদশা চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার সব সমস্যার সমাধানের কথা বলে হাতিয়ে নিতো টাকা


বিকাশ এজেন্টের লোকসহ জ্বিনের বাদশা চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার সব সমস্যার সমাধানের কথা বলে হাতিয়ে নিতো টাকা

আমাদের নতুন সময় : 06/12/2019

সুজন কৈরী : এদের মধ্যে একজন বিকাশ এজেন্টের লোকও রয়েছে। গ্রেপ্তার ৭ জন হলেন-মো. সুমন ফকির (২০), মো. মুনসুর আহম্মেদ (২৫), মো. হাছনাইন ফকির (২০), মো. হাবিবুল্লাহ (৩২), মো. লোকমান ভূইয়া কাজী (২৭), বিকাশ এজেন্টের লোক মো. রিয়াজ উদ্দিন (৩৪), ও মো. ফজর আলী জোমাদার বাড়ি (৩৬)।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মালিবাগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) মোস্তফা কামাল বলেন, গত ৩ অক্টোবর ভুক্তভোগী একজন নারী হাতিরঝিল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, একটি প্রতারক চক্র তার মাকে বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। মামলাটি সাইবার পুলিশ সেন্টার তদন্ত করে। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বুধবার ৪ সাইবার পুলিশ সেন্টারের এএসপি কাজী আবু সাঈদের নেতৃত্বে একটি টিম ভোলা জেলায় অভিযান চালিয়ে ওই সাত জনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী একটি মাধ্যমে নম্বর পান। যে নম্বরে ফোন দিলে সব সমস্যার সমাধান করে দেয়া হবে। আগ্রহবশঃত ওই নম্বরে ফোন করেন এবং ফোন করলে তাকে বলা হয় আমাদের সেবা নেয়ার আগে দুই হাজার ১০০ টাকা দিয়ে প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। চক্রের কথামতো রেজিস্ট্রেশন করার পর জ্বিনের বাদশা টেলিফোনেই হাজির হয়ে ভুক্তভোগীর এক একটি সমস্যার কথা শোনেন এবং প্রত্যেক সমস্যা সমাধানে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। এজন্য ৭টি বিকাশ নম্বর দেয়া হয়। ওই নম্বরগুলোতে বিকাশের মাধ্যমে ৩ মাসে ভুক্তভোগী নারী ২৫ লাখ টাকা দেন। টাকা দেয়ার পর আরো টাকা দেয়ার জন্য পাশের বাসার প্রতিবেশীর কাছে টাকা ধার চাইতে গেলে বিষয়টি তখন ওই নারীর ছেলে জানতে পারেন। এরপর তার কাছ থেকে প্রতারিত হওয়ার বিষয়ে জানতে পেরে মামলা করেন প্রতারণার শিকার ওই নারী।
মোস্তফা কামাল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের সদস্যরা টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তারা সংঘবদ্ধ ভাবে জ্বিনের বাদশা সেজে সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিত। টাকা উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির এনআইডির মাধ্যমে ভূয়া একাউন্ট খুলে ওই একাউন্টের টাকা এজেন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করতো। মামলায় উল্লেখ করা অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ/রকেট নম্বরের হিসাব বিবরণী যাচাই-বাছাই করে মামলার ভিকটিমসহ আরও একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে প্রতারনার বিষয়ে জানা গেছে। গত তিন চার মাস জ্বিনের বাদশা সেজে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এমনকি তাদের চক্রের বড় ভাইয়েরা আছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আমরা বিকাশ স্টেটমেন্ট পেয়েছি। সেখানে ভুক্তভোগী নারী ছাড়াও আরও ৪-৫ জনের টাকা নেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন বিকাশ এজেন্টের লোক রয়েছে। এর বাইরেও যদি আর কেউ জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। সম্পাদনা :সমর চক্রবর্তী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]