• প্রচ্ছদ » » কিছু বিষয় নন নেগোশিয়েবলÑমুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু-এসব বিষয় তার মধ্যে অগ্রগণ্য


কিছু বিষয় নন নেগোশিয়েবলÑমুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু-এসব বিষয় তার মধ্যে অগ্রগণ্য

আমাদের নতুন সময় : 07/12/2019

সাদিয়া নাসরিন

কিছু বিষয় আমার কাছে নন নেগোশিয়েবল। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু এসব বিষয় তার মধ্যে অগ্রগণ্য। এখনো এ দেশে শহীদ বুদ্ধিজীবীর পরিবার জীবিত, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার জীবিত, একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা, বীর নারীরা এখনো জীবিত। আর আপনারা এখনি এই মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতারে দুর্ঘটনা বলে ‘লাইট’ করতে চাইবেন, আর আমাকে বলবেন ‘সিরিয়াসলি’ না নিতে, এতো সোজা নাকি সব? বলছিলাম এক ‘কবি’ আপার কথা। রেল দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে কবি আপা পোস্ট দিসেন ‘আমাদের সব কিছুর নাকি অ্যাক্সিডেন্টালি’ জন্ম হইসে বইলাই এতো অ্যাক্সিডেন্ট হয়। সব কিছু বলতে তিনি যে বাংলাদেশকে বুঝাইছেন সেইটা অবশ্য আমাকে কমেন্ট করে পরিষ্কার হতে হইসে। তো কবি আপার সঙ্গে আমার বহুত মিউচুয়াল। আমার সঙ্গে সম্পর্কও খারাপ না। জলপাইপাড়ায় বসবাস তার। তো ভয়ে ভয়ে আপারে প্রশ্ন করলাম, বাংলাদেশের জন্ম ‘অ্যাক্সিডেন্টালি’ হইসে বলতে তিনি কী বুঝাইছেন?
এরপরের ঘটনা ইতিহাস। তিনি আমারে সব বিষয়ে ‘সিরিয়াস’ না হইতে উপদেশ দিয়া কিছুক্ষণ কুতর্ক করসেন। তারপর তার পোস্ট রিমুভ করসেন। তারপরে গু মাখানো একটা পোস্ট আমাকে উৎসর্গ করসেন। অবশ্য তাতে আমি কিছু মনে করি নাই। যার মাথায় যা তিনি তাই প্রসব করবেন এ আর নতুন কী। তো কথা হচ্ছে এই কবি আপার মতো সাংস্কৃতিক বিপ্লবীদের আমি ভালো করে চিনি। এসব … দিনশেষে কাদের এজেন্ডা পালন করে তা আমার কাছে পরিষ্কার এবং তাদের এ দেশে জন্ম নেয়াটাই আমার কাছে ফুটো সিডির দুর্ঘটনা বলে মনে হয়। লাইট করতে করতে এরা ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ, দুই লাখ বীর নারীর বলিদানকে বানিয়ে ফেলে ‘অ্যাক্সিডেন্ট’। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এসব শব্দে তাদের স্বপ্নদোষ হয়।
মুক্তিযুদ্ধকে লাইট করতে করতে কোটা আন্দোলনের নামে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করাই তাদের অ্যাচিভমেন্ট। তারাই প্ল্যাকার্ড ধরে ‘মুক্তিযোদ্ধার গালে গালে-তালে তালে’। তারাই নূরার মতো শিবিরের চ্যালাকে ‘লাইটলি’ পেট্রোনাইজ করতে করতে অবলীলায় বলতে পারে নূরকে যেইভাবে মারা হয়, আবরারকে যেইভাবে র‌্যাগ দেয়া হয় সেইভাবে শেখ মুজিবকে মেরে ফেলাটা জাস্টিফাইড। না অবশ্যই এগুলো মুখ ফসকে বলা বাক্য নয় বা কথার কথা নয়। এগুলো প্রথমে ‘লাইটলি’ বলে টেস্ট করা হয়। তারপর ধীরে ধীরে বারবার বলা হয়। একসময় এসব ইনডেমনিটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। রাঙ্গাদের মতো সাড়ে বদমাশ রাজনৈতিক হারামীগুলোরে তারাই জন্ম দেয় নূর হোসেনদের নেশাখোর, ইয়াবাখোর বলার ধৃষ্টতা দেখানোর জন্য। কারণ এরা জানে গোল্ডফিস মেমোরির এই জাতিকে এভাবেই কিছু সত্যের সঙ্গে কিছু ‘লাইটলি’ মিথ্যা চাপিয়ে দিয়ে ইতিহাসের হালত খারাপ করে দেয়া যায়। এ রকম সুশীল … সব কিছু ‘সিরিয়াসলি’ না নেয়ার ‘লাইটলি’ কৌশলেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে সেসময়কার সামরিক জান্তার চালানো ভয়ংকর মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কোনো আওয়ামী লীগারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি’। অথচ ১৫ আগস্টের পর থেকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সময় পর্যন্ত দেড় লাখ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিলো। লাখ লাখ নেতাকর্মী আহত অবস্থায় বেঁচেছিলো। লাখ লাখ নেতাকর্মী এই ছয় বছর ঘরে ঘুমাতে পারেনি। জেলখানাগুলো ঠাসা ছিলো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী দিয়ে। এমনকি শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পরদিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের মূল ফটকে যে মিলাদ পড়িয়েছিলেন, সেই মিলাদ থেকেও ৭৬ জনকে আটক করেছিলো পুলিশ। তাদের অপরাধ ছিলো আওয়ামী লীগ করা তো বটেই, বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ করা, বিচ্ছিন্ন ও ছত্রভঙ্গ আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত করার চেষ্টা করা। অথচ কেউ আজ আওয়ামী লীগের এই নেতাকর্মীদের ইতিহাস জানে না। কারণ সামরিক জান্তার ভয়ে এই ইতিহাস কেউ লেখেনি বা লিখলেও প্রচার করতে পারেনি। আগে এসব প্রোপাগান্ডা চালাইতো ১৫ আগস্টের কুশীলব জেনারেল জিয়ার বিএনপি আর যুদ্ধাপরাধী জামায়াতিরা। এখন জামায়াতের অ্যাডভান্সড মুখপাত্র হিসেবে ‘লাইট’ কৌশলে এসব প্রোপাগান্ডা চালায় এই বুদ্ধিনষ্ট বিপ্লবীরা। সো কবিতা লেখুক বা বিপ্লবী মহাগ্রন্থ, কিছু দিয়াই এসব … জামায়াতি বিপ্লবীদের ল্যাঞ্জা লুকানো যায় না। অসম্ভব বিপ্লবী আর মুক্তমনের কথাবার্তা বললেও তারা দিনশেষে জামায়াতের ভাষাতেই কথা বলে, জামায়াতের পারপাসই সার্ভ করে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]