• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা, আটক হয়নি কেউ, গ্রামের বাড়িতে দাফন


বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা, আটক হয়নি কেউ, গ্রামের বাড়িতে দাফন

আমাদের নতুন সময় : 07/12/2019

সুজন কৈরী ও আল-আমিন (ময়মনসিংহ): রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যু নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। তাকে কোন ভবন থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে কি-না, মৃত্যুর আগে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন কি না- এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। কাউকে আটকও করা হয়নি।
রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে হত্যা মামলা করেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০ টায় জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদরের বিজয়নগরের নিলক্ষীয়ায় রুম্পার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে গতকাল ফজরের নামাজের পর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় রুম্পার মৃতদেহ। মৃতদেহ পাওয়ার পর শোক স্তব্ধ হয়ে যায় রুম্পার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসী। একমাত্র মেয়েকে হারানোর ব্যাথা সইতে পারছিলেন না বাবা-মা। বাবা পুলিশ কর্মকর্তা রোকন উদ্দিন বার বার ছুটে যাচ্ছিলেন মেয়ের কবরের পাশে। রুম্পার মা নাহিদা আক্তারও কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা যাচ্ছিলেন।
নিহত রুম্পার চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাতিজির সঙ্গে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্র্সিটির একটি ছেলের সঙ্গে সর্ম্পক ছিল। তাদের ভেতরে ঝামেলা চলছিল বলে আমরা শুনেছি। তবে এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে ওই ছেলের কোনো সর্ম্পক আছে কি না, তা আমরা জানি না। তিনি আরো জানান, তার ভাতিজি পাশের একটি বাড়িতে টিউশনি করতে গিয়েছিল। সেখান থেকে সন্ধ্যার দিকে নিজ বাসার নিচে যায় রুম্পা। এরপর রুম্পা দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়–য়া তার এক চাচাতো ভাইকে ফোন করে বাসার নিচে স্যান্ডেল আনতে বলে। পরে সে স্যান্ডেল নিয়ে এলে পায়ের হিল খুলে স্যান্ডেল পরে রুম্পা। এরপর ওই চাচাতো ভাইয়ের কাছে রুম্পা কানের দুল, মোবাইল, ঘড়ি , হিল জুতা ও টাকাসহ ব্যাগ দিয়ে দেয়। সেগুলো ওপরে নিয়ে যেতে বলে তাকে। সেই সঙ্গে মাকে বলতে বলে, তার আসতে দেরি হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন সে এগুলো রেখে যাবে? আত্মহত্যার পরিকল্পনা? তাহলে তো বাড়ির ছাদ ছিলো। ওখানে যাবে কেন ? নাকি কোনো ঝামেলা ছিল, তাই এগুলো রেখে গিয়েছিল ? এসব ভাল করে তদন্ত করতে হবে।
পুলিশের রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার শেখ মোহাম্মদ শামীম বলেন, রুম্পাকে সিদ্ধেশরীর সার্কুলার রোডের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পেছনের একটি বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হতে পারে। এ ঘটনা কে বা কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, রুম্পার মোবাইল ও ফোন নম্বর আমরা পেয়েছি। এটি নিয়ে কাজ চলছে।
নিহত রুম্পা স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের (৬৯ ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গে শান্তিবাগের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তার বাবা রোকন উদ্দিন পুলিশ বিভাগে পরিদর্শক হিসাবে হবিগঞ্জে কর্মরত।
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ নাহিদ নেওয়াজ বলেন, রুম্পা একজন শান্ত ও লক্ষ্মী মেয়ে ছিল। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রে বার্ড নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এএনএম আরিফুর রহমান বলেন, শুক্রবার সকালে পুলিশের একটি টিম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে রুম্পার বিষয়ে তথ্য জানতে চায়। আমরা যাবতীয় তথ্য দিয়েছি।
রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, সিদ্ধেশ্বরীর ৬৪/৪ নম্বর বাড়ির পাশে আরো দুইটি ভবন রয়েছে। আমরা ধারনা করছি, যে কোনো একটি ভবন থেকে তাকে ফেলে দেয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা কাউকে সনাক্ত বা আটক করতে পারিনি। তদন্ত চলছে। তাকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে বা হত্যার আগে তিনি ধর্ষনের শিকার হয়েছেন কি না- সেটি ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে জানা যাবে।
রুম্পা হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। সোচ্চার সর্বস্তরের মানুষও। গতকাল সকালে সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। কর্মসূচীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এএনএম আরিফুর রহমান, ইংরেজী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ নাহিদ নেওয়াজসহ শিক্ষকবৃন্দ অংশ নেন। সম্পাদনা: মাসুদ কামাল।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]