• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » ভারতজুড়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের তীব্র প্রতিক্রিয়া, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই আইন অসাম্প্রদায়িক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক


ভারতজুড়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের তীব্র প্রতিক্রিয়া, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই আইন অসাম্প্রদায়িক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক

আমাদের নতুন সময় : 07/12/2019

 

আসিফুজ্জামান পৃথিল : ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী আনা হয়েছে এই বিলের মাধ্যমে। এতে বলা হয়েছে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ সহ আরও কিছু অমুসলিম ধর্মাবলম্বীরা, যারা নিজের দেশে ধর্মীয় কারণে নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন, তারা যদি ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ সালের আগে ভারতে প্রবেশ করে থাকেন, তবে তারা এই আইনের আওতায় ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার উপযুক্ত। বিবিসি
২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ের আগে বর্তমান ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল এটি। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে বিলটি পার্লামেন্টের একটি কমিটির কাছে পাঠানো হয়। এর পর গত বছরের জুলাই মাসে ভারতের লোকসভায় সেটি নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কিছু জাতিভিত্তিক গোষ্ঠী এর বিরোধিতা করে আসছে। তারা মনে করে এসব অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দিলে সেটি স্থানীয় মানুষদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আসামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আশঙ্কা বাংলাভাষী হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিলে তারা সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। এসব সম্প্রদায়ের মানুষজন ভারতে ছয় বছর বসবাসের পর সেখানকার নাগরিকত্ব পাবেন যা আগে ছিলো এগারো বছর। তাদের কোন কাগজপত্র না থাকলেও চলবে।
আসাম ভিত্তিক দৈনিক দ্য সেন্টিনালে লেখা হয়েছিলো যে, এই আইনের কারণে ভারতের অন্য প্রদেশগুলোর তুলনায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেশি প্রভাব পড়বে। এবছর জানুয়ারি মাসে একটি সমাবেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার বক্তৃতায় বলেছিলেন, অতীতে সংগঠিত নানা ধরনের অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে তার সরকার বিলটি পাশ করতে বদ্ধ পরিকর। এই বিল নিয়ে মতবিরোধের কারণে আসামে বিজেপির মৈত্রী সংগঠন আসাম পিপলস পার্টি জোট সরকার ত্যাগ করেছে। প্রতিবাদ হিসেবে আরও পদত্যাগ করেছিলেন আসামে বিজেপির মুখপাত্র মেহদি আলম বোড়া। বিলটির প্রতিবাদ করে আসছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন, নর্থ ইষ্ট স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন। তাদের নেতা প্রিতমবাই সোনাম সেন্টিনালকে বলেন, ‘বিলটি আদিবাসীদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।’
ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস সহ বেশিরভাগ বিরোধীদল মনে করে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দিলে তা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ভীতকে দুর্বল করবে। কংগ্রেস মনে করে এই আইনের কারণে সম্প্রতি হালনাগাদ করা ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেন (এনআরসি) অকার্যকর হয়ে যাবে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]