• প্রচ্ছদ » » ধর্ষণ ছাড়া কোনো নারী আজকাল আর খুন হয় না


ধর্ষণ ছাড়া কোনো নারী আজকাল আর খুন হয় না

আমাদের নতুন সময় : 08/12/2019

মুনমুন শারমিন শামস

ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকার রুবাইয়াৎ শারমিন রুম্পা নামের ২১ বছরের মেয়েটিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাটি নিয়ে আমি আশঙ্কা করছি যে, ঘটনাটা শেষ পর্যন্ত তনু কেস হয়ে যায় কিনা। আশা করি, তা হবে না। এই ব্যস্ত সমস্ত যানজটবহুল লোকে লোকারণ্য ধান্ধাবাজ শহরের ভেতরে ২১ বছরের একটা মেয়েকে ভর সন্ধ্যায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে আবার উঁচু বিল্ডিং থেকে লাশও ফেলে দেয়া যায় নিচে। তো এই শহরেই খুন আর ধর্ষণের মামলা অন্ধকারে চাপা পড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ মিথিলার ‘হিন্দু দাদা’ বিয়ে করা, সিনেমার নায়িকার নাম আয়েশা হওয়াসহ বহুবিধ ধর্মীয় সমস্যায় আমরা ব্যতিব্যস্ত থাকি। যেহেতু ধর্মই সকল সুখের মূল, ধর্ম আমাদের ইহজগতের সকল ছুঁচামি, চোরামি, বজ্জাতি, হারামজাদাপনাকে বৈধতা দিয়ে লোকসমাজে আমার সম্মানের আসন অক্ষুণœ রাখতে পারে, তাই সবার আগে ধর্ম নিয়ে ছুঁচামি করাটাই জরুরি। এজন্য রুম্পার খুনের খবরের নিচে আমরা লিখে রাখি, ‘বিয়া না কইরা নোংরামি করলে এমনই হয়’। তাও আবার লেখেন এক নারী। তার পরনে হিজাব।
রুম্পা নামের মেয়েটা ইংলিশে অনার্স পড়তো। তাকে খুন করা হয়েছে। খুনের আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণ ছাড়া কোনো নারী আজকাল আর খুন হয় না। এমনকি মৃতদেহও ধর্ষণ হয়। শিশুদেহ ধর্ষণ হয়। মাতৃদেহ ধর্ষণ হয়। বোন, ভাই দ্বারা, কন্যা, বাপ দ্বারা ধর্ষণ হয়। স্বামী দ্বারা স্ত্রী বহু আগে থেকেই হয়, তবে সুশীল সমাজে তা বললে সমাজ রেগে যায়।ধর্ষণ এখন এই সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতমূলক চিহ্ন। একটা তরতাজা মেয়ে খুন হয়ে গেলো। এখন পর্যন্ত বিষয়টার সুরাহা হয়নি। জানি না, তদন্ত কোন খাতে চলেছে। আবার আমাদের শাহবাগে গিয়ে দাঁড়াতে হবে কিনা। আবার চেঁচাতে হবে কিনা। আবার বিচার চেয়ে চেয়ে মুখের ফেনা তুলে ফেলতে হবে কিনা। আমার বাংলাদেশ এখন রুম্পার লাশের মতো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে প্রকাশ্য সড়কে। পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের স্রোতধারা। তার পাশে ক্ষীণ রক্তের দাগ আর ধর্ষণের চিহ্ন নিয়ে পড়ে আছে ২১ বছরের তরতাজা একটা মেয়ে। এই দেশে নারীর মূল্য পেঁয়াজের চেয়ে কম। বলতে পারেন নারী হলো কচু শাক, যে কেউ তুলে এনে রেঁধে খেয়ে নিতে পারে। বলতে পারেন নারী হলো সস্তার বনরুটি, যে কেউ গিলে ফেলতে চায়। বলতে পারেন নারী হলো আকিজ বিড়ি, নেশা ধরলে যে কেউ তা নিয়ে শরীর ঠাÐা করতে পারে। বাঙালির উদরপূর্তির জন্য আরও দশটা খাবারের মতো নারীও একটা খাবারই। যে কেউ খায়, সবাই খায়। মন্ত্রী-মিনিস্টার থেকে শুরু করে রাস্তায় বসে থাকা নেশাখোর টোকাইশুদ্ধ। রুম্পার ধর্ষণ ও হত্যা মামলা গতি পাক। তদন্ত দ্রæত শেষ হোক। গ্রেপ্তার হোক অপরাধী। কঠিন শাস্তি হোক। এ মুহূর্তে আবারও দাবি জানাই। আপনারা সবাই রুখে দাঁড়ান। আপনাদের কাছে অনুরোধ করি, এই ধর্ষক সমাজকে প্রতিরোধ করুন। এখনো সময় আছে। আপনারা জেগে উঠেন। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]