• প্রচ্ছদ » » প্রিয়াঙ্কা রেড্ডির চার ধর্ষক এবং হত্যাকারীকে পুলিশ তেলেঙ্গানায় এনকাউন্টার করেছে, তা কীভাবে দেখছি আমরা?


প্রিয়াঙ্কা রেড্ডির চার ধর্ষক এবং হত্যাকারীকে পুলিশ তেলেঙ্গানায় এনকাউন্টার করেছে, তা কীভাবে দেখছি আমরা?

আমাদের নতুন সময় : 08/12/2019

আবু জাহেদ

প্রিয়াঙ্কা রেড্ডির চার ধর্ষক এবং হত্যাকারীকে পুলিশ আজ তেলেঙ্গানায় এনকাউন্টার করেছে। ঠিক যে স্থানে প্রিয়াঙ্কা রেড্ডিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো, তার খুব নিকটেই এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছে। ভারতের আইনমন্ত্রী নাকি বলেছেন, এটা হলো ভগবানের বিচার। প্রিয়াঙ্কা রেড্ডির পরিবার খুশি হয়েছে, এমনকি নির্ভয়ার মাও বলেছেন, যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। এখন এই এনকাউন্টারের ঘটনা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন উঠতে পারে, এটা ঠিক না বেঠিক তা নিয়ে তর্কবিতর্ক চলতে পারে। এই বিষয় ঠিক না বেঠিক তা নিয়ে চিন্তা করার জন্য, আমার এই বর্তমান পোস্টের অবতারণা করা নয়। তবে বহু মানুষ এই ধরনের ঘটনাগুলোতে খুশি হয় মূলত বিচার বিভাগের দুর্বলতার কারণে সেটা খুব নিশ্চিত। চারজন ধর্ষক এনকাউন্টার হয়েছে তাতে করে খুব স্বস্তিবোধ করছি না। কেননা যখনই ভাবছি আমাদের সমাজে এই ধরনের লোকের আসলে অভাব নেই এবং তাদের সংখ্যা লাখ কোটি ও ছাড়িয়ে যাবে। নিচে যে ছেলেটার ছবি এবং মন্তব্য পোস্ট করেছি তাকে কি বলবেন? আর এ শুধু এই ছেলের চিন্তার বহিঃপ্রকাশই নয়, এ হলো সমাজের লক্ষ্য কোটি ধর্ষক পুরুষদের মনের কথা। তাদের কোনো আইনের আওতায় এনে কীভাবে বিচার করা যাবে, আর কীভাবেই বা শনাক্ত করা সম্ভব।
প্রিয়াঙ্কা রেড্ডির এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মানুষ যখন রাগে ক্ষোভে ফুঁসছে, ঠিক তখনই ভারতের এক সিনেমা পরিচালক ড্যানিয়েল শ্রদবান, তার ফেসবুক পেজে লেখেন, মহিলাদের উচিত কনডম সঙ্গে রাখা এবং ধর্ষকদের সাহায্য করা। এই ব্যক্তি আরও লিখেছিলেন, মহিলাদের ধর্ষকদের সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত। তাহলেই ধর্ষণের পর খুনের ঘটনা আটকানো সম্ভব। নির্ভয়া এবং প্রিয়াঙ্কারা কোনোদিন বিচার পাবেন না। যৌন চাহিদা পূরণের জন্যই মানুষ ধর্ষণ করে। যা নির্ভর করে সময় এবং মর্জির উপর। যদি মহিলারা পুরুষদের যৌন চাহিদায় বাধা দেয়, তাহলে ধর্ষণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এই শিক্ষিত মানুষরূপী জানোয়ারকেইবা কী বলবেন? এদের শাস্তি অথবা বিচার বা এই ধরনের বিকৃত মানুষগুলোকে কোনো এনকাউন্টারে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া যাবে? প্রিয়াঙ্কা রেড্ডির ঘটনা চারদিকে চাউর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, যে অসংখ্য মানুষ পর্নোহাব এবং এক্স ভিডিওর সাইটে গিয়ে সার্চ করে খুঁজেছিলো, প্রিয়াঙ্কা রেড্ডি রেপ ভিডিও লিখে এবং যে কারণে এই সাইটগুলোতে এটা ভাইরাল হয়ে যায়Ñ সেই অসংখ্য বিকৃত মস্তিষ্কের ধর্ষক পুরুষদের কীভাবে শাস্তির আওতায় আনা যাবে? আপনি একবার চিন্তা করে দেখুন, ছোট্ট একটি শরীর চারজন পশু খুবলে খাচ্ছে, আর সেই ভিডিও দেখার জন্য অসংখ্য মানুষ পর্নো সাইটগুলোতে সার্চ করছে। এ সমাজকে আপনি পশুর সমাজ না বলে আর মানুষের সমাজ বলবেন কি করে। অতীতে বহুবার লিখেছি, আজকেও লিখছি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের পুরুষদের নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা না গেলে, এমন ধরনের ঘটনা কোনোদিনও বন্ধ করা সম্ভব হবে না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]