• প্রচ্ছদ » » মানুষ কেন ধর্ষকদের এনকাউন্টার চায়?


মানুষ কেন ধর্ষকদের এনকাউন্টার চায়?

আমাদের নতুন সময় : 08/12/2019

গৌতম চক্রবর্তী

মানুষ বিচার পায়নি। বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় অপরাধী খোলা ঘুরে বেড়াচ্ছে। জামিন পেয়ে নির্যাতিতাকে ধমকি দিচ্ছে, জ্বালিয়ে দিচ্ছে, খুন করছে। ফলে মানুষ এনকাউন্টার সমর্থন করছে। এই অবধি বুঝি। মানুষের উদ্বেগটাও বুঝি, বুঝি তীব্র হতাশা ও রাগটাও। কারণ আমারও একটা ছোট্ট কন্যা আছে। তাকে নিয়ে আমারও বুক কাঁপে এই সমাজ ব্যবস্থায়। আমরা দু’ভাগ হয়ে যাবো, কেউ এনকাউন্টার চাইবো, কেউবা আইনের শাসন। এই নিয়ে ফেবুতে ঝড় উঠবে। আর শাসক মুচকি হাসবে। প্রেশার কুকারে বাতাসের চাপ বেড়ে গিয়েছিলো, তাই চারজনকে এনকাউন্টার করে সেই চাপ অনেকটা কমে গেলো। মানুষ খুশি, তারা আপাতত বাকি অপরাধীদের ভুলে থাকবে। ফের প্রেশার বাড়বে, ফের একটা এনকাউন্টার। এভাবেই চলবে। কোথায় কিচ্ছু বদল হবে না। এই হিংস্রতা সামান্য একটুও কমবে না। আচ্ছা বিধানসভা বা লোকসভা আলো করে এমন বহু মানুষ বসে আছে যারা ধর্ষণে অভিযুক্ত। এদের কারা নির্বাচন করেছে বলতে পারেন? আমি, আপনি, আমরা, তাহলে আমরা নিজেরা এর দায় কীভাবে এড়িয়ে যাই? এই দোষে কী আমরাও সমান দোষী নই? সেই আমরাই এখন ধর্ষকের এনকাউন্টার চাইছি। তাও ফেসবুকে। এতে কোথাও কী সামান্য কিছু পরিবর্তনের আশা করেন? পরিবর্তন যদি চান তবে সরকারকে চাপে ফেলুন। চাপে ফেলুন প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে। ঘোষণা করুণ আজ থেকে যে দল কোনো ধর্ষককে বা ধর্ষণে অভিযুক্তকে বিধানসভা বা লোকসভায় প্রার্থী করবে তাদের ভোট নেই। তা সে যেকোনো রাজ্যেই হোক। কোনো মূল্যেই তাদের ভোট দেবেন না, এই আওয়াজ তুলুন। বয়কট করুন সেই দলগুলোকে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে তথা সরকারকে বার্তা দিন, ধর্ষণের ব্যাপারে আপনার অবস্থান নিয়ে। যতো বড় নেতা হোক, অভিযোগ মুক্ত না হলে রাজনীতি থেকে বাইরে রাখতে বাধ্য করুন তাদের। পারবেন? পারবেন সবাই মিলে এই একটা জায়গায় একমত হতে? তাহলে সরকারের কাছে সরাসরি একটা বার্তা যাবে। মানুষকে ভুলিয়ে চারটে-পাঁচটা এনকাউন্টারের লজেন্স ধরিয়ে শান্ত রাখা যাবে না। সরকার বাধ্য হবে ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্টে তাদের দ্রæত বিচার করে শাস্তি দিতে। এটা করতে পারলে এনকাউন্টার করার প্রয়োজন হবে না। সমস্যার শিকড় কাটুন, ডালপালা ছেঁটে বড়জোর মানসিক শান্তি পাবেন, পরিস্থিতি বদলাবে না। আমি পরিষ্কার জানাচ্ছি, যে দল কোনো ধর্ষককে বা ধর্ষণে অভিযুক্তকে লোকসভা বা বিধানসভার টিকিট দেবে, আমি সেই দল বয়কট করবো। প্রয়োজনে নির্দল বা নোটায় ভোট দেবো, তবু তাদের কাউকে ভোট দেবো না। দেখতে চাই, ফেবু প্রতিবাদটা পছন্দের দলের সামনে এসে গলা নামিয়ে নেয়, নাকি এই সামাজিক অরাজকতার সত্যিকারের সমাধানে সত্যিই আগ্রহী আপনি। বল এখন আপনার কোর্টে, এবার আপনার প্রতিবাদের পালা। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]