• প্রচ্ছদ » » স্বাধীনতাবিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের বক্তৃতা বা সেমিনার নিয়েও ‘জলাতঙ্ক’ রোগে ভোগে


স্বাধীনতাবিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের বক্তৃতা বা সেমিনার নিয়েও ‘জলাতঙ্ক’ রোগে ভোগে

আমাদের নতুন সময় : 08/12/2019

হাসান বিন বাংলা

অনেক বঙ্গবন্ধুপ্রেমী আছেন যারা বৈশাখ আসলেই প্রশ্ন তুলে, ‘স্বাধীনতা মানে কি রমনার বটমূলে কিংবা শহরে-বন্দরে যুবক-বৃদ্ধ মিলেমিশে পান্তা-ইলিশ খাওয়া’? কি উত্তর দিবো এই নব্য প্রেমীদের? হয়তো নতুন নতুন মুজিব কোট গায়ে দিয়ে তারা আজ মূলধারায়। হয়তোবা তাদের ভিড়ে আমরাই আজ সংখ্যালঘু। এই নতুন প্রেমীদের (গ্রামের দুষ্ট পুলাপাইন কয়, ‘নতুন … জ্বালাইছে, কাহুই কিন্যা দে।) কি জানা আছে, ‘নববর্ষের অনুষ্ঠানে কারা বোমা ফাটায়’? ‘কারা রমনার বটমূলে বোমা হামলা চালায়’? ‘কারা রবীন্দ্র সংগীতের বিরোধিতার নামে আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিকে কলংকিত করতে চায়’? এসব কিছু আমরা বাঙালিরা অর্জন করেছি ৪৭-এর ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এসব আমাদের অর্জন। হ্যাঁ সবাই মিলেমিশে পান্তা-ইলিশ খাওয়াটাও স্বাধীনতার সুফল। যারা এটা মানতে পারে না তাদের জন্য পাকিস্তানের দরজা খোলা আছে। তাদের প্রশ্ন এবং জিজ্ঞাসার ধরন দেখে তাৎক্ষণিকভাবে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারে। সুবহানাল্লাহ। নব্য পীরের মুরিদানও কম নয়। তারা অপ্রাসঙ্গিকভাবে বলে বসবে, ‘সংস্কৃতির নামে ধর্মকে খোয়াবো না’। ভয়ই লাগে। তাই তো। পরনে কাপড় না থাক, কিন্তু ব্রাক্ষণবাড়িয়ার মন্তাজ মিঞার বটিকা চাই-ই চাই। ২. স্বাধীনতা কি রমনার বটমূলে বসে দলবেঁধে গান-আবৃত্তি শোনা? কিংবা স্বাধীনতা কি বুদ্ধিজীবীদের গুরুগম্ভীর আলোচনা? কিংবা স্বাধীনতা কি শহীদ বেদিতে মালা দেয়া? উপরোক্ত কিউরিসিটিগুলো স্বাধীনতাবিরোধীদের জন্মগত অর্জন, কিন্তু এসব নিয়ে যখন প্রোফাইলে বঙ্গবন্ধুর ছবি লাগিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ¯েøাগান তুলে কোনো নবীশ (মূলত খবিশ বা খচ্চর টাইপের) অবতারণা করে, তখন ইচ্ছে হয় কষে কয়েকটা চড় মেরে তার গালে সিলমোহর এঁকে দিই। হ্যাঁ রমনার বটমূলে বসে দলবদ্ধভাবে গান-আবৃত্তি শোনা বা গম্ভীরা শোনাটাও আমাদের স্বাধীনতার সুফল। ৬০-এর দশকে রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে বাঙালিরা ফুঁসে উঠেছিলো। সেদিন বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা ওয়াহিদুল হক প্রমুখের নেতৃত্বে ছায়ানটের ছায়াতলে সমবেত হয়েছিলো। সুতরাং এই বৈশাখী গান-আবৃত্তি শোনাটা বা এর উপলক্ষে একত্রিত হওয়াটাও আমাদের স্বাধীনতার অর্জন।
পছন্দ না হলে পাকিস্তান চলে যান। স্বাধীনতাবিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের বক্তৃতা বা সেমিনার নিয়েও জলাতঙ্ক রোগে ভোগে। কেনরে বাবা, মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তিদের কথা শুনলে যদি শরীরে জ্বালা ধরে তবে এ দেশ তোমার নয়। এ দেশ ৩০ লাখ শহীদের বাংলাদেশ। এখানে রাজাকার বা তাদের পোষ্যদের থাকার কোনো অধিকার নেই। বলি, তোদের বাবারা সেদিন তালিকা ধরে ধরে কাদের হত্যা করেছিলো? কেন হত্যা করেছিলো? এই সত্যিটা-বাস্তবতা না বুঝলে দূরে গিয়ে মর শালারা। শহীদ বেদিতে মালা দেয়াটাও একশ্রেণির নব্য চেতনাবাজদের কাছে মূর্তি পূজা করা। মানে শিরক। তার মানেই হলো … গুলো রাজাকারের পয়দায়েশ। তারাই আবার অনেকে বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের ¯েøাগান তুলে। তাদের ফ্রেন্ডলিস্টে রেখে আমরা পাঁচ হাজারী ক্লাবের গর্বিত সদস্য হিসেবে ফুটানি মারি। যারা আমার মায়ের ভাষা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করে গেলো তাদের ভালোবেসে আমরা যদি সব ধর্মের মানুষ একত্রিত হই, সেটাও তাদের চোখে বেদাত। উস্টার উপর রাখতে হবে এসব চেতনাবাজদের। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]