• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » কিশোর পারেখের ‘বাংলাদেশ: অ্যা ব্রুটাল বার্থ’ ও একটি ধাঁধাপূর্ণ ছবি


কিশোর পারেখের ‘বাংলাদেশ: অ্যা ব্রুটাল বার্থ’ ও একটি ধাঁধাপূর্ণ ছবি

আমাদের নতুন সময় : 09/12/2019

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে : ১৯৬১-১৯৬৭ সালে হিন্দুস্তান টাইমসে কর্মরত প্রধানচিত্রগ্রাহক কিশোর পারেখ ছিলেন ভারতীয় গণমাধ্যমে ছবির গল্প প্রচলনের অগ্রদূত। পরে সেখান থেকে চলে যান হংকংয়ের এশিয়া ম্যাগাজিনে এবং ১৯৭২ সাল নাগাদ প্যাসিফিক ম্যাগাজিনের চিত্র সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রায়শই তার তোলা ছবির স্থান সংকুলান নিয়ে তার সম্পাদকের সঙ্গে বচসা হত। তিনি খ্যাতিমান উইলিয়াম ইউজিন স্মিথ, হেনরি কার্টিয়ার-ব্রেসো ও মার্গারেট বুর্ক-হোয়াটের চিত্রকর্মে যথেষ্ট প্রভাবান্বিত ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর তার চিত্রকর্ম এক অভাবনীয় সাফল্য বয়ে আনে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, তার স্বত্ত্বসংবলিত সে সকল ছবি নানা ভাবে দেশে ব্যবহৃত হলেও তার স্বত্ত্বাধিকারের প্রতি কেউ গুরুত্ব দেয়নি।

তার সে সকল ছবিতে এক ভিন্ন যুদ্ধের প্রতিরূপ প্রতিফলিত; যেখানে একজন বৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশের ক্ষুদ্র পতাকা তুলে ধরেছেন, এক কিশোরী পথে পড়া থাকা বিভৎস মৃতদেহের পানে আঁড় চোখে নিষ্পলক তাকিয়ে আছে, উচ্ছ্বসিত শিশুরা প্রস্ফুটিত শর্ষে খেতের মাঝ দিয়ে দৌড়াচ্ছে, এমনকী নিরব নারীকূলের অশ্রু ঝরছে। ধারণা করা হয়, ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বরে ভারত-পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে লিপ্ত হলে তিনি হংকং থেকে ভারতে অবতরণ করেন এবং ‘আমাকে নাও, কিংবা এখনই গুলি করো’ এমনটাই ভারতীয় মেজরকে বলেন। কেননা তাকে রণাঙ্গনে নেবার যথাযথ অনুমোদনপত্র ছিল না। তথাপি ওই কথা বলে পারেখ হেলিকপ্টারে উঠতে সক্ষম হলেও নিজের পথটি নিজেই খুঁজে নেন। সেভাবেই সীমিত ছবির ফিল্মে সংগ্রামী সাধারণ নারী, পুরুষ ও শিশুর ছবিতে একাত্তরের রণাঙ্গনটি তার ক্যামেরাবন্দি হয়।

তাতেই তার ‘বাংলাদেশ: অ্যা ব্রুটাল বার্থ’ ‘দুঃখক্লেশভোগী মানুষের প্রতি উৎসর্গিত’ বইটি হংকংয়ের ইমেজ ফটোগ্রাফিক সার্ভিসেস থেকে ১৯৭২ সালে প্রকাশ পায়। পুরোটাই ছিল নিজস্ব প্রয়াস, অর্থায়ন, সহজাতপ্রবৃত্তি, আবেগ ও সংকল্পের বর্হিপ্রকাশ, যেখানে মাত্র দুই সপ্তাহে চমকপ্রদ সব ছবিতে বলিষ্ঠ বক্তব্যের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ভারত সরকার যুদ্ধসচেতনতায় সে বইয়ের ২০ হাজার কপি সংগ্রহ করে।
কিন্তু অদ্যাবধি বাংলাদেশের অনেকের কাছেই ওই বইয়ের একটি ছবির ক্যাপশন বা আখ্যান ধাঁধাতুল্য থেকে গেছে, যেমন- এক ব্যক্তির লুঙ্গির ভেতর একজন সৈন্য উঁকি দিচ্ছে।

বাস্তবে তাৎক্ষণিক প্রমাণ হিসেবে কিশোর পারেখের ওই বইটি অনলাইন ইউটিউবে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনের সংগ্রহ থেকে ও গুগল সার্চে খুঁজে পাওয়া সম্ভব, যেখানে দুই পৃষ্টায় মুদ্রিত ওই সুনির্দিষ্ট ছবির পাশাপাশি ওই ব্যক্তিসহ দলবদ্ধভাবে পাকড়াও অপর আরেকটি ছবির আখ্যানে সুস্পষ্টভাবে ইংরেজিতে লেখা রয়েছেÑ ‘ইন্ডিয়ান ট্রুপস গ্রিমলি রাউন্ড আপ ভিলেজার্স সাসপেক্টেড টু বি পাকিস্তানি স্পাইজ। দে পিয়ার ইন্টু লুঙ্গিজ ইন সার্চ অব ওয়েপনস। দ্য জাওয়ানস আই ওয়াজ ট্রেভেলিং উইদ ওয়্যারনট টু জেন্টল। দে হ্যাড সাফার্ড ক্যাজুয়ালিটিজ।’ অর্থাৎ গ্রামবাসীকে পাকিস্তানি চর সন্দেহে ভারতীয় সৈন্যরা কঠোরভাবে পাকড়াও করে। তারা অস্ত্রের সন্ধানে লুঙ্গির ভেতর উঁকি দেয়। আমি যে সব সৈন্যের সফরসঙ্গী ছিলাম তারা ততোটা ভদ্রচিত থাকেনি। কেননা তারা হতাহতের শিকার হয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]