অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা

আমাদের নতুন সময় : 10/12/2019

বিশেষ প্রতিনিধি : দেশের পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ের প্রধান ভরসা ইউরোপ, আমেরিকা ছাড়া অপ্রচলিত বাজারগুলোতে জায়গা করে নিতে মরিয়া ব্যবসায়ীরা। গত বছরের শেষ নাগাদ এই বাজারগুলোতে প্রবৃদ্ধি ভালোই ছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরে এসে অপ্রচলিত বাজারেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে নতুন বাজারগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমেছে ৬.০৭ শতাংশ। সর্ব শেষ হিসাব অনুযায়ি চলতি অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি হয়েছে ১২৮ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার। অথচ গত বছরের একই সময়ে এ খাতের রপ্তানি আয় ছিল ১৩৬ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। নতুন বাজারের তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চীন, জাপান, ভারত, চিলি, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্কসহ আরো কয়েকটি দেশ। নতুন বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি হয়েছে জাপানে। গত অর্থবছরে দেশটিতে ২৯ শতাংশ বেড়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১০৯ কোটি ডলারের। অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতে রপ্তানি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি হারে, ৭৯ শতাংশ। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় ৭২ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি সাড়ে ১৩ শতাংশ; চীনে ৫১ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ২৯ শতাংশ, ভারতে ৫০ কোটি ডলার; কোরিয়ায় ২৮ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ৪৫ শতাংশ; ব্রাজিলে ১৬ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অন্যদিকে তুরস্কে রপ্তানি না বেড়ে উল্টো ২৭ শতাংশ কমে গেছে।
বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি মূলত ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকানির্ভর। রপ্তানির ৮২ শতাংশই যায় এ দুটি বাজারে। তবে কোনো কারণে এসব বাজারে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা রপ্তানি তথা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমন চিন্তা থেকে সরকার এ দুটি বাজারের বাইরে নতুন ও অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়। এর অংশ হিসেবে এসব বাজারে রপ্তানির ওপর নগদ সহায়তা দিতে শুরু করে। বর্তমানে নতুন বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। ফলে নতুন বাজারে রপ্তানি বাড়তে শুরু করেছে। এক দশক আগে নতুন বাজারে মোট গার্মেন্টস পণ্যের ১০ শতাংশ রপ্তানি হলেও ধীরে ধীরে এই হিস্যা বাড়ছে। সর্বশেষ অর্থবছরে তা প্রায় ১৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
ইপিবির তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের আলোচিত সময়ে চীনের বাজারে পোশাক রপ্তানি করে আয় করেছে ১৩ কোটি ৮৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। অথচ গত বছরের একই সময়ে চীন থেকে পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ছিল ১৭ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি কমেছে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
চীন বিশ্বের এক নম্বর পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। অবশ্য দেশটি বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের পাঁচ হাজারেরও অধিক পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে আসছে।
ইপিবির তথ্য আরও বলছে, জুলাই-অক্টোবর সময়ে চিলিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ কোটি ৮৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। এই বাজারে প্রবৃদ্ধি কমেছে দশমিক ৮৩ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ার বাজারে আলোচিত সময়ে এ খাতের রপ্তানি আয় হয়েছে ২৩ কোটি ৬৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এই বাজারেও পোশাক রপ্তানিতে ভাটা দেখা দিয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ২৫ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]