• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » গ্রেটা থানবার্গ হচ্ছে ক্যাপটেলিজমেরই স্বার্থরক্ষার একটা প্রোডাক্ট, মন্তব্য স্লাভায় জিজেকের


গ্রেটা থানবার্গ হচ্ছে ক্যাপটেলিজমেরই স্বার্থরক্ষার একটা প্রোডাক্ট, মন্তব্য স্লাভায় জিজেকের

আমাদের নতুন সময় : 10/12/2019

দেবদুলাল মুন্না: সুইডেনের গ্রেটা থানবার্গকে নিয়ে বিশ্বে এখন তোলপাড়। মাত্র ১৬ বছর বয়সী মেয়েটি জলবায়ুর জন্য লড়ছেন। নোবেল পুরস্কারের শর্ট লিস্টেও তার নাম ছিল। তিনি নিবেন না বলে সেসময় জানিয়েছিলেন। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটের উদ্বোধনে এক আবেগময় ভাষণে গ্রেটা বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন , ‘আপনাদের অন্তঃসার শুন্য কথা দিয়ে আপনারা আমার শৈশব, আমার স্বপ্ন চুরি করে নিয়েছেন।’ কিন্তু তার এ আন্দোলনের পেছনে মুল মদদদাতা কে এ প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমানে বিশ্বে সাড়া জাগানো দার্শনিক স্লাভায় জিজেক। ‘ম্যানুফেকচারিং পলিটিক্স জার্নাল’ এ থানবার্গের ভুমিকা নিয়ে অনেক অজানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। স্লাভায় জিজেক থানবার্গ সম্পর্কে হাফিংটনপোস্টে বলেছেন, ‘থানবার্গের পেছনে বিনিয়োগ , প্রমোট করা থেকে শুরু করে সবই করছে ক্যাপিটেলিজম। সে একটা প্রোডাক্ট মাত্র। তাকে খাওয়ানো হচ্ছে। অনেকে খাচ্ছেন।’
‘ম্যানুফেকচারিং পলিটিক্স জার্নাল’ এ প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, গ্রেটা থানবার্গ না জেনেই ২০১৪ সালে একটা পণ্যের মডেল হয়েছিল। সেসময় নেট দুনিয়ায় অন্যতম কর্ণধার জোসেফ কড্রস্কির দরকার ছিল এমন একটা ইস্যু নিয়ে কাজ করা যেটি নেটদুনিয়ায় ভালো সাড়া জাগাতে পারে। নেটিং সিস্টেমকে এক্সপ্লোর করা। ভাইরাল করা। ফেসবুকে প্রতিদিন ১০,০০০ নতুন গ্লোবাল ফলোয়ার বাড়তে থাকে।( সূত্র: মিলাজা এবং উটভেকলিংয়ের সাথে ইঙ্গমার রেন্টজোগ সাক্ষাতকার, অক্টোবর ১৫, ২০১৮) এরপর পেরিয়ে যায় চারবছর। এরপর জোসেফ কড্রস্কির সঙ্গে যোগাযোগ ঘটে আল-গোরের। আল গোর ১৯৯৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিল ক্লিনটন। তার টেলিভিশন চ্যানেল কারেন্ট টিভি একটি এমি পুরস্কারপ্রাপ্ত। আল গোর ২০০৭ সালে ইন্টারগভার্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের সাথে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। জোসেফ কড্রস্কি আল-গোরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন গ্রেটা থানবার্গের। থানবার্গের বাবা পত্রিকায় জলবায়ু বিষয়ক নিবন্ধ লেখতেন। মা অপেরা শিল্পী। আল-গোর থানবার্গকে বোঝান জলবায়ুর কারণে মানুষ মারা যাচ্ছে। কার্বন কর দিচ্ছে না অনেক দেশ। সেসবের জন্য মানুসকে সচেতন করতে হবে। আন্দোলন করতে হবে। সাহায্য করবেন তিনি। থানবার্গ আল-গোরের এ টোপটি সরল বিশ্বাসে গিলেন। শুরু হয় জলবায়ু নিয়ে আন্দোলন। সামিট হয়। বিভিন্ন দেশকে কার্বন ট্যাক্স দেওয়ার কথা বলা হয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ঘটানোর উদ্দেশ্যে শুরু হয় এ মুভমেন্টকে নেপথ্যে থেকে পুজিঁবাদী প্রতিষ্ঠান গুলোর সাহায্য করা এবং থানবার্গকে সন্দেহাতীতভাবে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে একটি সাজানো নাটকে প্রতিবাদী চরিত্র হিসেবে দাঁড় করানো। এ জন্য থানবার্গ জলবায়ু আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য চলতি বছরের পরিবেশ বিষয়ক পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে আন্ত:সংসদীয় সহযোগিতা বিষয়ক আঞ্চলিক সংস্থা নরডিক কাউন্সিলের পক্ষ থেকে দেওয়া পুরস্কারও প্রত্যাখান করেন। রাজনৈতিক দার্শনিক স্লাভায় জিজেক বলেন, ‘ থানবার্গ পলিটিক্যাল ইকোনমি’র ব্রা-িং। এর বেশি কিছু না। সে ক্যাপিটেলিজমেরই সাজানো পুতুল।’ ফ্রাইডেস ফর ফিউচার অর্থাৎ সপ্তাহের একদিন ভবিষ্যতের জন্য ব্যয় করার ডাক দিয়ে কিশোরী গ্রেটা জলবায়ু আন্দোলনে লাখ লাখ মানুষকে সমবেত করে নজর কেড়েছিল। ২০১৮ সালের আগস্টে নিজ দেশের পার্লামেন্টের সামনে ‘স্কুল স্ট্রাইক ফর ক্লাইমেট’ আন্দোলনের ডাক দেয় সে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]