• প্রচ্ছদ » লিড ১ » নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম রোকেয়ার স্বপ্নসারথি হয়ে কাজ করছে সরকার, বললেন প্রধানমন্ত্রী


নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম রোকেয়ার স্বপ্নসারথি হয়ে কাজ করছে সরকার, বললেন প্রধানমন্ত্রী

আমাদের নতুন সময় : 10/12/2019

বাশার নূরু : সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবস উদ্যাপন ও রোকেয়া পদক ২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া নারীদের নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছি। নারীরা একদিন লেখাপড়া শিখে জজ, ব্যারিস্টার হবে। বেগম রোকেয়ার এই স্বপ্ন এখন বাস্তব। নারীরা শুধু জজ-ব্যারিস্টার নয় এখন সব জায়গাতেই নারী দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। বেগম রোকেয়ার আদর্শ ধারণ করে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যেভাবে এগিয়ে গেছে দেশ, তেমনি নারীর ক্ষমতায়নেও এগিয়েছে। নারীমুক্তির অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার আদর্শে নারী-সমাজকে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের পাশে সরকার সব ধরনের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সমাজের অর্ধেক জনসংখ্যা হলো নারী। সেই নারীদের বাদ দিয়ে একটি সমাজের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব না। বর্তমানে নারী-পুরুষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ কারণে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার নারীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের জন্য জাতীয় কৌশল, নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সনদ ও এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, শিশু আর নারীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন মানসিক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে গেছে। আসলে নির্যাতন তো করে পুরুষেরা। তাদের তো এটা ভাবা উচিত তার নিজেরও সন্তান আছে, কন্যাসন্তান আছে। সেই সন্তান যদি কারো দ্বারা নির্যাতিত হয়। তখন তিনি কি চিন্তা করবেন বা ভবিষ্যতে তার কি চিন্তা হবে। নারী-শিশু নির্যাতন রোধে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু আইন দিয়ে সব হয় না।
শেখ হাসিনা বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বেগম রোকেয়া যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে যা যা করণীয় সরকার তা করে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি নারীদের পুনর্বাসনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের পুনর্বাসনের জন্য জাতির পিতা পুনর্বাসন বোর্ড তৈরি করে দেন, আলাদা বাজেট দেন এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সেই মেয়েদের চিকিৎসার জন্য তিনি সুইজারল্যান্ড থেকে নার্স, জার্মানি এবং ইংল্যান্ড থেকে ডাক্তার নিয়ে আসেন। তাদের চিকিৎসা করানো হয়। বাবার সঙ্গে মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের কথাও স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক পরিবার তাদের (নির্যাতিত নারীদের) নিয়ে যায়। অনেক পরিবার তাদের নেয় না। তাদেরকে একসাথে করে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেন আমার মা, নিজে থেকে অনেক এই ধরনের নির্যাতিত মেয়েদেরকে বিয়ে দিয়েছেন। তিনি সব সময় এই ধরনের মেয়েদের কথা চিন্তা করতেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেগম রোকেয়া পদকের জন্য মনোনীতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পদকপ্রাপ্তরা হলেন বেগম সেলিনা খালেক, অধ্যক্ষ শামসুন নাহার, ড. নুরুন্নাহার ফয়জননেসা, পাপড়ি বসু ও বেগম আখতার জাহান। সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com