• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » বকেয়া পরিশোধ আর পাট কিনতে ১১০৩ কোটি টাকা চায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়


বকেয়া পরিশোধ আর পাট কিনতে ১১০৩ কোটি টাকা চায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়

আমাদের নতুন সময় : 10/12/2019

 

বিশেষ প্রতিনিধি : রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ এবং পাট কেনার অর্থ পেতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্মরণাপন্ন হয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। এবার সব মিলিয়ে এক হাজার ১০৩ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। টাকা পেলে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করাসহ নতুন পাট কেনা সম্ভব হবে বলে অর্থমন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
বিজেএমসির পাটকলগুলির পাটের বকেয়া পরিশোধ, কমচারী ও কর্মকর্তাদের মজুরি, বেতন-ভাতা বকেয়া থাকায় বর্তমানে পাট ব্যবসায়ী, শ্রমিক কর্মচারীরা দাবী-দাওয়া বাস্তবায়নের জন্য ঘেরাও, অবরোধ, কর্মবিরতি আর মানবন্ধনের মতো কর্মসূচি পালন করছেন।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বকেয়া পরিশোধ ও নতুন পাট ক্রয়ে এক হাজার ১০৩ কোটি টাকা অর্থ মন্ত্রণালয়ে চাওয়া হয়েছে। এরমধ্যে মৌসুমে পাট ক্রয়ের জন্য এক হাজার কোটি টাকা। এবং শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বকেয়া মজুরি ও বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ১০৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সফিয়ান বলেছেন, বিজেএমসি’র বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শ্রমিক, কর্মচারীদের বকেয়া মজুরি, বেতন-ভাতা, পাট ক্রয় এবং পাট ব্যবসায়ীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য অর্থ বিভাগে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে পত্র দেয়ার সিদ্ধন্ত হয়। সে অনুযায়ি পত্র দেয়া হয়েছে।
বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে প্রথম ৫ মে থেকে উৎপাদন বন্ধ রেখে আন্দোলন করে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকেরা। পরে পাটকল শ্রমিক লীগ এবং সিবিএ ও সিবিএবহির্ভূত (নন-সিবিএ) নেতাদের আহ্বানে ১৩ মে থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিজেএমসি আওতায় ২৬টি পাটকলের মধ্যে বর্তমানে চালু আছে ২৫টি। এর মধ্যে ২২টি পাটকল ও ৩টি ননজুট কারখানা। পাটকলগুলোতে গত বছরের জুন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৭২১ জন স্থায়ী শ্রমিক এবং ৩ হাজার ৭৩০ জন কর্মচারী ও কর্মকর্তা ছিলেন। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত ২৩ হাজার ২৭৮ জন বদলি শ্রমিক ও ৬ হাজার ৫৪৮ জন দৈনিকভিত্তিক শ্রমিক কাজ করেন।
লোকসানের চক্র থেকে বের হতে পারছে না রাষ্ট্রায়ত্ত ২২টি পাটকল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাটকলগুলো ৪৬৬ কোটি টাকার লোকসান গুনেছে এবং চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসেই লোকসান হয়েছে ৩৯৫ কোটি টাকা।
বিজেএমসি জানায়, দুই অর্থবছর ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর আয় কমছে। পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি ও স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা আয় করে পাটকলগুলো। পরের অর্থবছরে সেটি কমে ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। গত বছর আরও কমে আয় হয়েছে ১ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা।
গত অর্থবছরে বিজেএমসির আয় ছিল ১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫৪ শতাংশ বা ৬৩৯ কোটি টাকা শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তার মজুরি ও বেতন বাবদ ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে শ্রমিকের মাসিক মূল মজুরি ৪ হাজার ১৫০ টাকা। ২০১৫ সালের মজুরি স্কেল বাস্তবায়িত হলে মাসিক নি¤œতম মজুরি ৮ হাজার ৩০০ টাকায় দাঁড়াবে।
জানা গেছে, সরকারি পাটকলে লোকসানের বড় কারণ কাঁচা পাট কেনায় অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি। পাটকলগুলো পাট কেনে দেরিতে ও বেশি দামে। এ ছাড়া সরকারি পাটকলের উৎপাদনশীলতা কম, উৎপাদন খরচ বেশি, যন্ত্রপাতি পুরোনো এবং বেসরকারি খাতের তুলনায় শ্রমিকের মজুরি বেশি। লোকসান ও অব্যবস্থাপনার কারণে শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারে না পাটকলগুলো। অবিক্রিত পণ্য গুদামে পড়ে থাকে।
বিজিএমসি সূত্র জানায়, প্রতিবছরই পাটের মৌসুমে কাঁচা পাট কিনতে ও শ্রমিকের বেতন-ভাতা দিতে অর্থমন্ত্রণালয়ের স্মরণাপন্ন হতে হয় বিজেএমসিকে। গত এক দশকে আর্থিক সংকট কাটাতে করপোরেশনকে ৭ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা দিয়েছে সরকার।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]