• প্রচ্ছদ » সর্বশেষ » রুম্পা হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়নি, ধর্ষণ কি-না জানতে আরও সময় লাগবে, চলছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ


রুম্পা হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়নি, ধর্ষণ কি-না জানতে আরও সময় লাগবে, চলছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আমাদের নতুন সময় : 10/12/2019

সুজন কৈরী : রুম্পা হত্যার রহস্য ভেদ করতে থানা পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে গোয়েন্দা বিভাগ ও সিআইডি। তবে এর মধ্যে চারদিন কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত প্রেমিক সৈকতকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেয়া ছাড়া দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি। তাকে হত্যা করা হয়েছে না তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সেটিই এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। সৈকতকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ।
এদিকে রুম্পার মৃত্যুর বিচারের দাবিতে গতকাল সোমবার দুপুরে সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে একত্রিত হয়ে কর্মসূচিটি পালন করেন। তাদের হাতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ‘রুম্পা হত্যার বিচার চাই’, ‘বিচার হতেই হবে’, ‘আর কত?’ ‘স্টপ, স্টপ, স্টপ’সহ নানা স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। আন্দোলনের মুখপাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জিসাদ মোহাম্মদ বলেন, রুম্পা হত্যার পাঁচদিন পার হলেও হত্যার কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। রুম্পা হত্যার রহস্য তার সহপাঠীরা জানতে চায়, তাই দ্রুত এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। তিনি বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে রুম্পার ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা না হলে আগামী বুধবার থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে কঠোর আন্দোলন শুরু করবেন।
ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান শেখ নাহিদ নিয়াজ বলেন, রুম্পার মতো একটি মেধাবী ছাত্রীকে আমরা অকালে হারিয়েছি। আর কোনো সন্তানকে আমরা অকালে হারাতে চাই না। ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এ আন্দোলন শুধু আমাদের নয়, দেশের প্রতিটি মানুষের সমর্থন রয়েছে।

ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষিকা সাকিরা বলেন, আমরা কোনো শিক্ষার্থীকে হারাতে চাই না। আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক, এটাও আমরা দেখতে চাই না।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৈকতের সঙ্গে রুম্পার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপে কথোপকথন হতো। মোবাইল ফোনে খুব কমই কথা হতো। একপর্যায়ে গত তিন চার মাস আগে সম্পর্ক আর রাখা সম্ভব নয় বলে রুম্পাকে জানিয়ে দেন সৈকত। কিন্তু রুম্পা সেকতের প্রতি খুবই দুর্বল ছিলেন। তার সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে চাইতেন। সৈকতকে নিয়ে তার আবেগও ছিলো খুব বেশি।
ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি কোন মারধরের জখমের চিহ্নও। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তিনি উপর থেকে পড়েছেন। এর ফলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি আরো বলেন, মৃতদেহ থেকে হাই ভেজাইনাল সোয়াব, ভিসেরা, রক্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত কেমিক্যাল এ্যানালাইসিস এবং মাইক্রোবায়োলজিক্যাল এ্যানালাইসিস রিপোর্ট আমাদের কাছে না আসবে এ ব্যাপারে আমরা চূড়ান্ত মতামত দিতে পারবো না। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেতে কিছু সময় লাগবে।
তবে ঢামেক ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৪ ডিসেম্বর পরীক্ষাগার থেকে রুম্পার ডিএনএ নমুনা, ভিসেরা ও ব্লাড পরীক্ষার রিপোর্ট দেয়ার কথা রয়েছে। ফরেনসিক বিভাগে রিপোর্টটি পৌঁছানোর পর রুম্পাকে ধর্ষণের বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া যাবে। সম্পাদনা: মাসুদ কামাল।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com