• প্রচ্ছদ » সাবলিড » রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি হচ্ছে আজ, পর্যবেক্ষণের ভূমিকায় থাকবে বাংলাদেশ


রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি হচ্ছে আজ, পর্যবেক্ষণের ভূমিকায় থাকবে বাংলাদেশ

আমাদের নতুন সময় : 10/12/2019


তরিকুল ইসলাম : নেদারল্যান্ডসের হেগের আদালতে আজ মঙ্গলবার গাম্বিয়ার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু হবে। ১১ ডিসেম্বর বক্তব্য উপস্থাপন করবে মিয়ানমার। পরদিন সকালে গাম্বিয়া পাল্টা যুক্তি দেবে মিয়ানমারের বিপক্ষে। আর দুপুরে মিয়ানমার গাম্বিয়ার জবাব দেবে। আইসিজেতে মিয়ানমারের পক্ষে আইনি প্যানেলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সু চি।
গত ১১ নভেম্বর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে এই মামলা করে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার পক্ষে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। এই শুনানি পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল হেগে পৌঁছেছেন। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মাসুদ বিন মোমেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ, কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া তিন রোহিঙ্গাসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আইসিজের এ ধরনের মামলা কয়েক বছর চলার কারণে গাম্বিয়া কয়েকটি বিষয়ের জন্য অন্তবর্তীকালীন রায় প্রার্থনা করেছে। যেসব বিষয়ের জন্য অন্তবর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে সেগুলো হলোÑ গণহত্যা বন্ধে মিয়ানমার অবিলম্বে ব্যবস্থ নেবে। সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী বেসামরিক অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা যাতে কোনো ধরনের গণহত্যা ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে মিয়ানমার। দেশটি গণহত্যা সংক্রান্ত কোনো ধরনের প্রমাণ নষ্ট এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও খারাপ করে এমন কোনো কাজ করবে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, আগামী ১২ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের প্রথম শুনানির যুক্তি খ-ন হবে। আশা করা হচ্ছে এর এক মাসের মধ্যে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেবেন। ওই আদালতের বিচারকের সংখ্যা ১৫ এবং প্রত্যেকের উপস্থিতিতে শুনানি হবে। অন্তবর্তীকালীন আদেশের চার মাসের মধ্যে কী পদক্ষেপ নেয়া হলো, তা জানাতে হবে গাম্বিয়া ও মিয়ানমার উভয়কেই। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও তার দল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইনি প্রতিষ্ঠান ফলি হগ।
মিয়ানমার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয়। এটিকে তারা স্বীকৃতিও দেয় না। এর ফলে রায়ের বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন ঢাকার একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক। তিনি বলেন, আইসিজির রায় সব দেশের বাধ্যতামূলক। কিন্তু ওই রায় যদি না মানা হয় তবে কী হবে সেটি পরিস্কার করে বলা নেই। রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য এই ইস্যুতে যথাযথ জবাবদিহিতা চায় বাংলাদেশ। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে সেটির তদন্ত করতে আদালতের প্রসিকিউটর ফাতো বেনসুডাকে অনুমতি দিয়েছে আইসিসি। পররাষ্ট্র সচিব জানান, এসব মামলায় বিচারকার্যে সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখতে দেশি-বিদেশি আইনবিদ্দের পরামর্শ নিচ্ছে বাংলাদেশ। মানবিক ও আইনগত দুই উপায়েই রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলা করতে চায় বাংলাদেশ। মানবিক দিক বিবেচনা করে যেভাবে তাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে, তেমনিভাবে এই গণহত্যায় দোষীদের জবাবদিহিতা নিশ্চত করতেও সম্ভাব্য সব তৎপরতা চালাবে বাংলাদেশ। সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]