• প্রচ্ছদ » » অভিজিৎ রায় বিজ্ঞানবাদী, যুক্তিবাদী ও মুক্ত মতবাদী বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষ গড়তে চেয়েছিলেন


অভিজিৎ রায় বিজ্ঞানবাদী, যুক্তিবাদী ও মুক্ত মতবাদী বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষ গড়তে চেয়েছিলেন

আমাদের নতুন সময় : 11/12/2019

কুলদা রায়

অজয় রায় চলে গেলেন। থেকেই বা কী করতেন? চলে যাওয়াই নিয়তি। তিনি অবশেষে জেনে গিয়েছিলেন রাষ্ট্র তার বিজ্ঞানবাদী মুক্তমনা ছেলে হত্যার বিচার করবে না তার জীবদ্দশায়। আমার ধারণা রাষ্ট্র তার মরণদশায়ও বিচার করবে না। রাষ্ট্র মুক্তমতকে কখনোই বাঁচিয়ে রাখতে চায়নিÑ চায় না, চাইবেও না। আর বাংলাদেশ তো ধীরে ধীরে নিপীড়ক মৌলবাদনির্ভর রাজতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। সো রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োগকৃত আইনজীবী জানেন না অভিজিৎ কোন তারিখে নিহত হয়েছিলেন। এরপর কেউ জানবে না এ দেশে অভিজিৎ নামে একজন মানুষ ছিলেন। লেখার জন্য তাকে প্রকাশ্য দিনের আলোয় হাজার হাজার মানুষের সামনে কিরিচ দিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো। অবশেষে অভিজিৎ নামটিই হারিয়ে যাবে। তার বাবা, একদা যিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন, সাহসী মানবিক মানুষ ছিলেনÑ তিনিও বিস্মরিত হবেন। তার বদলে আমাদের বিশ্বাস করানো হবে চাঁদে মৌলবাদীদের মুখ দেখা যায়। মাটির নিচে আরেকটি রাষ্ট্র আছে। সেখানে হিটলার লাখ লাখ যোদ্ধা নিয়ে পালিয়ে আছে। আর নাগরিক মানেই হলো ক্ষমতার স্তাবক। সেটা হতে পারে রাষ্ট্র ক্ষমতার, হতে পারে পীর ক্ষমতার। হতে পারে ব্যক্তিক্ষমতার। সবই একই সূত্রে গাঁথা। তুমি স্তুতি করবে। নইলে মরবে। ফাইনাল।
অভিজিৎ রায় বিজ্ঞানবাদী যুক্তিবাদী মুক্তমতবাদী বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষ গড়তে চেয়েছিলেন। কিছু মানুষ জড়োও হয়েছিলো তার সঙ্গে। কিন্তু শেষে দেখা গেলো তাদের উদ্যোগও আরেকটি ক্ষমতার প্রতিষ্ঠান হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাদের মতের পক্ষে একধরনের বাকোয়াজ উগ্র ক্যাডার সৃষ্টি হচ্ছে। তারাও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে না। ভিন্নমতের প্রতি অশ্রদ্ধা অসহিষ্ণুতা প্রকাশ করছে। অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে হল্লাগল্লা করছে। একধরনের মৌলিবাদী ঝোঁক তাদের মধ্যেও দেখা গেলো। তারা হয়ে উঠেছে সার্ভেন্টিসের ডন কিহতে। অভিজিৎ নিহত হলে তার অনুসারীরা নিজেদের বাঁচাতেই তৎপর হলো। কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা দেখানোর বদলে তারা লুকিয়ে পড়েছেন। অভিজিৎ রায় বা তার মতো যারা নিহত হয়েছেন বা হবেন তাদের জন্য কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলা বাদ দিইÑ ন্যূনতম আইনি পদক্ষেপও নেয়ার মতো দায়িত্বশীলতা দেখাতে পারছেন না। ফলে অজয় রায়কে হুইল চেয়ারে কোর্টে নেয়ার মতোও তাদের কেউ এসে দাঁড়ায়নি। তিনি মারা গেলেন। হাহাকার নিয়ে মরে যাওয়াই এই মহৎ মানুষদের নিয়তি। ক্ষমা করবেন শ্রদ্ধেয় অজয় রায়। আমরা মানুষ হতে পারিনি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]