• প্রচ্ছদ » » আমরা তাকে মূল্যায়ন করতে পারলাম কই


আমরা তাকে মূল্যায়ন করতে পারলাম কই

আমাদের নতুন সময় : 11/12/2019

আবু জাহেদ

মানুষ তো অমর নয়, এখনো পর্যন্ত মৃত্যু এক অনিবার্য ঘটনা। প্রতিদিন বহু মানুষ মারা যায়, আমিও মারা যাবো। কিন্তু কিছু মৃত্যু, ডক্টর অজয় রায়ের মতো কিছু মানুষের এভাবে চলে যাওয়া, এক অসীম শূন্যতা তৈরি করে হৃদয়ে। যদি ডক্টর অজয় রায় ডক্টর অভিজিৎ রায়ের পিতা না হতেন, তাহলেও এমন গুণী বটবৃক্ষের সমান মানুষের চলে যাওয়া, যেকোনো রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য ঠিক এখনকার মতো এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবেই বিবেচিত হতো। কিন্তু আমরা তাকে মূল্যায়ন করতে পারলাম কই। এই কিছুদিন আগেও আদালতে তার ছবি দেখেছিলাম, বার্ধক্য এবং অসুস্থতাজনিত কারণে হেঁটে চলাই তার জন্য মুশকিল। দেখেছিলাম দুজন পুলিশ এক প্লাস্টিকের চেয়ারে তাকে বসিয়ে তাই উঁচু করে নিয়ে চলেছে, একটি হুইল চেয়ারও তার জন্য জোটেনি। সেটা বেশ কষ্টকর, তিনি বসেও ছিলেন বেশ কষ্টকর ভঙ্গিতে। ছবি দেখে সেটা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করা যাচ্ছিলো। অথচ অনেক রাজাকার, আলবদর কমান্ডারদের কোর্টে হাজির করার সময়, হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে আমরা দেখেছি। অথচ এই মানুষটি, এ দেশের প্রতিটি গৌরবজনক আন্দোলন সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন, ছিলেন একজন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। সারাজীবন মুক্তবুদ্ধির চর্চার আন্দোলন করে গেছেন, আমৃত্যু সমাজের মানুষের হৃদয়ে জ্ঞানের দীপশিখা জ্বালাতে চেষ্টা করে গেছেন। অথচ সেই মানুষটি তার পুত্র হত্যার বিচার দেখে যেতে পারলেন না। এই বয়সে অসুস্থ শরীরে তিনি আদালত পাড়ায় এখানে-ওখানে ঘুরে বেড়িয়েছেন, মাঝে মধ্যে নিজের আক্ষেপও গোপন করেননি। রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তায় তিনি ব্যথিত হয়েছেন। আজ বড্ড খারাপ লাগছে, নিজেকেই অপরাধী বলে মনে হচ্ছে। অভিজিৎ রায়ের খুনিদের বিচার হয়েছে এটাও যদি তিনি দেখে যেতে পারতেন, তাহলেও কিছুটা সান্ত¡নার জায়গা থাকতো, এখন তাও নেই। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]