• প্রচ্ছদ » » বাংলাদেশের ইতিহাস গড়েছিল যে নিবন্ধটি


বাংলাদেশের ইতিহাস গড়েছিল যে নিবন্ধটি

আমাদের নতুন সময় : 11/12/2019

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে : ১৯৭১ সালের ১৩ জুন যুক্তরাজ্যের সানডে টাইমসে একটি নিবন্ধ ছাপা হয়, যার বিষয়বস্তু ছিল বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্খা দমনে পাকিস্তানের নৃশংসতার উপাখ্যান। এতে নিবন্ধকারের পরিবার আত্মগোপনে যায় বটে, কিন্তু তা সামগ্রিক অর্থেই একটি ইতিহাসকে পাল্টে দেয়। সেই লেখক আর কেউ নন, তিনি তদানীন্তন পাকিস্তানের মনিং নিউজের সহকারী সম্পাদক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস, যিনি প্রথমবারের মতো ১৯৭১ সালে পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতা ঠেকাতে পাকিস্তানের মরণপণ যুদ্ধের প্রকৃতিকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেন। এতে নিঃসন্দেহে ওই যুদ্ধ অবসানে মাসকারেনহাসের নিবন্ধটি যথাযথ ভূমিকা রাখে। তাতে বিশ্ব জনমত পাকিস্তানের বিপক্ষে চলে যায় এবং পক্ষান্তরে ভারতকে তার অদম্য ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করে, যেমন- তদানীন্তন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তার ব্যক্তিগত পর্যায়ে কূটনীতির সেতুবন্ধন গড়তে সক্ষম হন।

১৯৭১ সালের মার্চে যখন পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে, তখন মাসকারেনহাস করাচিতে কর্মরত এবং সেই সুবাদে ক্ষমতাসীনদের নৈকট্য লাভ করেন। তিনি ছিলেন শহরের ওলন্দাজ বংশোদ্ভূত গোয়ার খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ভুক্ত এবং তার স্ত্রী ইভনসহ পাঁচ সন্তানের জনক।

বাস্তবে ১৯৭০ সালের নির্বাচনকে ঘিরেই ওই সংঘাতের উৎপত্তি, যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে এবং নিজেদের অঞ্চলে বৃহত্তর স্বায়ত্বশাসনের দাবিটিই মুখ্য প্রতিপাদ্য করে। তাতে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়।

ফলে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানিরা অতর্কিতে আওয়ামী লীগ, বিরোধী পক্ষ, বুদ্ধিজীবি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ শুরু করে। প্রথমেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ছাত্রদের সারিবদ্ধভাবে গুলিতে হত্যা করে। এরপর ক্রমান্বয়ে সেই হত্যাযজ্ঞ গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লে বিদ্রোহী সেনা সদস্যদের সঙ্গে তাদের সংঘাত বাঁধে।

এক পর্যায়ে ‘মুক্তি বাহিনী’ দমনে পাকিস্তানিরা সফলতা দেখানোর কৌশল হিসেবে স্বদেশী সাংবাদিক ডেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দিতে চায়। কেননা আগেই বিদেশী সাংবাদিকরা বহিস্কৃত হন এবং পাকিস্তানিরা শত্রুপক্ষের নৃশংসতা দেখাতে উদগ্রীব ছিল। মাসকারেনহাসসহ মোট ৮ জন সাংবাদিককে প্রদেশে ১০-দিনের একটি সফরে নিয়ে যাওয়া হয়। সফর শেষে ৭ জনকে যা নির্দেশনা দেওয়া হয়, সেটাই তারা প্রকাশ করেন। কিন্তু ১ জন করেননি, তিনি আফগানিস্তান হয়ে লন্ডনে পালিয়ে যান! সানডে টাইমসে ‘জেনোসাইড’ বা ‘গণহত্যা’ শিরোনামে তার নিবন্ধটি ছাপা হয়। সেটা এতোটাই বলিষ্ঠ ছিল, পাকিস্তানিদের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গতার বিষয়টি বিবেচনায় পাঠক পুরোটাই নির্দ্বিধায় লুফে নেয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com