• প্রচ্ছদ » » হতভাগা দেশ আর জাতির সামনে এখন দ্বিতীয় কোনো অজয় রায় জন্মায়নি


হতভাগা দেশ আর জাতির সামনে এখন দ্বিতীয় কোনো অজয় রায় জন্মায়নি

আমাদের নতুন সময় : 11/12/2019

লীনা পারভীন

আমার বড় ভাই ফিজিক্সের ছাত্র ছিলো। ভাইয়া ফিজিক্সে পড়ার জন্য ফরেস্ট্রির মতো হাই ডিমান্ডিং লাইনে পড়তে যায়নি। মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা ইচ্ছা করে খারাপ দিয়েছিলো। একমাত্র টার্গেট ছিলো ফিজিক্সে পড়বে। ঢাবিতে ভর্তি হয়েই প্রিয় ছাত্র হয়ে উঠেছিলেন অজয় রায় স্যারের। অত্যন্ত প্রিয় শিক্ষক ও প্রিয় ছাত্রের মধ্যে আলোচনা চলতো দেশ, সমাজ, রাজনীতি আর বিজ্ঞান নিয়ে। ভাইয়ার ন্যাওটা তাই স্যারের প্রতি আমার গড়ে উঠেছিলো দারুণ এক শ্রদ্ধা। পরবর্তী সময়ে আমি ঢাবিতে ভর্তি হলাম। বাম রাজনীতি করার সুবাদে স্যারের কাছে যাওয়া হতো পত্রিকা বিক্রি ও চাঁদা কালেকশনের জন্য। শ্রদ্ধায় মাথানত হয়ে যেতো। ভাইয়ার সঙ্গে স্যারের যোগাযোগ ছিলো গুরু-শিষ্য হিসেবে। তখনো পর্যন্ত ঢাবির শিক্ষকরা ছিলেন শ্রেষ্ঠ মানুষ। আজকালকার মতো দুর্নীতিবাজ বা কুশিক্ষিত শিক্ষক ছিলেন না কেউই। অজয় স্যারদের মতো মানুষকে পেয়েছিলাম। পার্টির কিছু কর্মসূচিতে স্যারের বক্তব্য শোনার সৌভাগ্য হয়েছিলো। ভাইয়া বিজ্ঞানভিত্তিক যে পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সেখানে স্যার ছিলেন অভিভাবক। স্যারের সঙ্গে অভিজিৎ রায়ও লিখতেন নিয়মিত। ভাইয়ার জন্য অনেক শোকের এ দিন আমি জানি। অনেক স্মৃতি ভাইয়ার।
আমার কেবল আফসোস এমন মানুষগুলোকে আমরা হারিয়ে অভিভাবকহীন হয়ে পড়ছি। হতভাগা দেশ আর জাতির সামনে এখন দ্বিতীয় কোনো অজয় রায় জন্মায়নি, নেই। আর জন্মাবে কিনা জানা নেই। জানা নেই আসলেই। সত্যিকার অর্থে মানুষ, শিক্ষক, প্রগতিশীল মানুষ আর বিজ্ঞানমনস্ক বলতে যা বোঝায় স্যার ছিলেন তার আদর্শ উদাহরণ। স্যারের এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিলো চন্দনা নামের আমাদেরই এক ইয়ারমেট বন্ধুর। সে অনেক ঘটনা। যখনি ভাবি মনটা কেবল খারাপ হয়ে যায়। এই মানুষগুলোকে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়ছি ক্রমশ। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের খুঁটিগুলো ধাক্কা খায়। নড়ে উঠি আমরা। অজ্ঞানতা আর বিজ্ঞানের ভুল ব্যাখ্যায় চারদিকে ওয়াজের জয়জয়কার। ভাবি, হারিয়ে ফেলছি কি আমার প্রাণের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে? ভরসার জায়গাটা শক্ত হাতে পাই না। স্যার আমাদের অপারগতাকে ক্ষমা করবেন। মাফ করে দেবেন। এ সমাজকে আমরা আপনার মতো করতে পারিনি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]