অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত জাহাঙ্গীরনগরের লেক, এবার এসেছে অর্ধশতাধিক প্রজাতির পাখি

আমাদের নতুন সময় : 12/12/2019

নুরহাছান নাঈম : বাতাসে শীতের ছোয়াঁ। চারদিক ঘনকুয়াশা। কিচিরমিচির শব্দে হঠাৎ গা চমকে ওঠে। মাথার ওপরে নীল আকাশ আর চারদিকের জলাশয়ে অতিথিদের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে জাহাঙ্গীরনগরবাসীর। প্রতিবছর শীতের শুরুতেই এখানে শুরু হয় অতিথি পাখির আনাগোনা। শীতের আগমনী বার্তার সাথে সাথেই হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে অতিথি পাখি দল বেঁধে আসতে শুরু বাংলাদেশে। ঢাকার অদূরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের লেকগুলোও এসব পাখির কলতানে মুখরিত। শীত এলেই যেন অন্যরকম প্রাণ ফিরে পায় বিশ^বিদ্যালয়ের সর্বত্র। এসময় ক্যাম্পাসে ভিড় জমান পাখিপ্রেমী সহ সব বয়সের দর্শনার্থীরা।
অন্যান্য বছর থেকে এবারের চিত্র ভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের লেকগুলোতে। উপাচার্যবিরোধী আন্দোলের বিশ^বিদ্যালয় দীর্ঘ একমাস বন্ধে ক্যাম্পাসে ছিল শুনশান নীরবতা। বিশ^বিদ্যালয়ে পরিবেশ যেন মনে হয়েছে পাখ-পাখালির অভয়ারণ্য। ঝিঁ ঝিঁ পোকার শব্দ, শিয়ালের ডাকাডাকি, পাখিদের কিচিরমিচির, মাঝে মাঝে বাঁদরের লাফালাফি, কাঠবিড়ালির গাছে গাছে দৌড়াদৌড়ি মনে হয় বুঝি অরণ্য। পাখিরা এমন পরিবেশে নিজেদের রাজতে¦ নিয়েছে ক্যাম্পাসের জলাশয় আর আকাশ। তাইতো জলাশয়গুলোর লিজ বাতিল করে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করায় এবার আগে ভাগেই আসতে শুরু করেছে পাখিরা।
দীর্ঘ বন্ধ শেষে ক্যাম্পাসে এসেছে প্রাণচঞ্চলতা। মনে হচ্ছে বুঝি নিথর দেহে প্রাণ ফিরে এলো। এবারে একটু ভিন্নভাবেই দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীদের বরণ করছে অতিথিরা। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে লাল শাপলার মাঝে উড়াউঠি হাজারো পাখির । কিছুক্ষণ পর পর আকাশে দলবেঁধে উড়াল দিয়ে ছুটে চলছে এক লেক থেকে অন্য লেকে । ডানা ঝাপটিয়ে পাখিরা পানিতে দিচ্ছে ঢেউয়ের তরঙ্গ।
শীতের তীব্রতা ও খাবারের সংকট থেকে বাঁচতে প্রতিবছর সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া, নেপাল থেকে অক্টোবরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশের জলাশয়গুলোতে আসতে থাকে অতিথিরা। তার উল্লেখযোগ্য একটা অংশ আসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের লেকগুলোতে। বিশ্¦বিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিশ^বিদ্যালয়ে ছোট-বড় ১২ টি জলাশয় রয়েছে । এরমধ্যে প্রশাসনিক ভবনের সামনের জলাশয়, জাহানারা ইমাম ও প্রীতিলতা হল সংলগ্ন জলাশয়, ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের ভেতরের জলাশয়, সুইমিংপুল এলাকার জলাশয়ে অতিথি পাখির আধিক্য দেখা যায়।
খায়রা, চখাবালি, বালিহাঁস, কাদাখোঁচা, হেরণ, কার্লিউ, বুনোহাঁস, ছোটসারস, বড়সারস, সরালি, পিচার্ড, মানিকজোড়, জলপিপি, ফ্লাইপেচারসহ নানা নামের পাখি আসে এখানে। তবে এবার সরালি পাখির সংখ্যাটা একটু বেশি। বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের তথ্যমতে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের জলাশয়গুলোতে ১৯৮৬ সালে সর্বপ্রথম অতিথি পাখি আসতে শুরু করে। তখন ক্যাম্পাসে ল্যাঞ্জা হাঁস, কার্কেনী, সরালি সহ ৪-৫ প্রজাতির পাখি আসতো। এর পর আস্তে আস্তে পাখিদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের লেকগুুলোতে ৫০-৬০ প্রজাতির পাখি আসে।
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের হাসান বলেন, অতিথি পাখিদের আগমন আমাদের বিশ^বিদ্যালয়কে ভিন্নভাবে পরিচিত করেছে। জাহাঙ্গীরনগরের সবুজ প্রকৃতির সাথে অতিথি পাখি যুক্ত হয়ে অন্যরকম সৈৗন্দর্য সৃষ্টি করেছে। উপযুক্ত পরিবেশ পাওয়ায় এবার পাখির উপস্থিতি বেশ সন্তোষজনক। তাই আমাদের সচেতনতা এসব পাখিদের আসার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে বিশ^বিদ্যালের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক লিফলেট ও বিলবোর্ড টানানো হয়েছে।
পাখি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের আয়োজনে প্রতিবছর পাখিমেলার আয়োজন করা হয়। পাখি গবেষক প্রাণীবিদা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও জানুয়ারী মাসে পাখিমেলার আয়োজন করা হবে। সম্পাদনা: মাসুদ কামাল।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]