• প্রচ্ছদ » সাবলিড » কাঁচামালের আমদানির ওপর শুল্ক, নির্মাণ কাজের শ্লথগতিতে সিমেন্ট শিল্পে স্থবিরতা


কাঁচামালের আমদানির ওপর শুল্ক, নির্মাণ কাজের শ্লথগতিতে সিমেন্ট শিল্পে স্থবিরতা

আমাদের নতুন সময় : 12/12/2019

সৈয়দ জহিরুল আবেদীন : সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে শ্লথ গতি এবং কাঁচামাল আমদানির বিভিন্ন পর্যায়ে শুল্কারোপের কারণে বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্পে বর্তমানে তীব্র মন্দাভাব বিরাজ করছে। এ খাতের উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন নিকট ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত অনেক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ‘বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৩৫ হাজার কোটি থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে দেশে সিমেন্ট উৎপাদন কারখানা করেছেন। বর্তমানে দেশে ৩৪ থেকে ৩৫টি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি চালু রয়েছে। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজে শ্লথগতি এবং সিমেন্ট শিল্পের কাচামাল আমদানির বিভিন্ন স্তরে শুল্কারোপের কারণে এই ফ্যাক্টরিগুলোর মধ্যে বেশ কটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।” এমনটাই বললেন বাংলাদেশ সিমেন্ট মানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) ১ম ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও মেট্রোসেম সিমেন্ট লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
আমাদের নতুন সময় এবং আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, দেশে উৎপাদিত মোট সিমেন্টের ৪৫ শতাংশ সরকার, ৩০ শতাংশ বেসরকারী খাতের রিয়েল এস্টেট কোম্পানীগুলো এবং বাকী ২৫ শতাংশ সাধারণ ক্রেতারা কেনে। কিন্তু বিগত কয়েক মাস যাবত সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর নির্মাণ কাজে শ্লথগতি নেমে আসায় সিমেন্ট উৎপাদনকারী কোম্পানীগুলো এক ধরনের মন্দাভাবের মধ্যে রয়েছে। প্রতিবছর দেশের সিমেন্ট খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল গড়ে ৮-১০ শতাংশ। কিন্তু সিমেন্টের বাজারে আশানুরূপ চাহিদা না থাকায় এই শিল্পে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি নাও হতে পারে।
অন্যদিকে, সিমেন্ট রপ্তানিও বর্তমানে মারাতœকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশে সিমেন্ট রপ্তানি করে থাকে। সম্প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির অবমূল্যায়নের কারণে ভারতে সিমেন্ট রপ্তানি বেশ কমে গেছে।
বিদ্যমান আমদানি শুল্ক কাঠামোর উল্লেখ করে বিসিএমএ ১ম ভাইস-প্রেসিডেন্ট বলেন, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে সিমেন্ট শিল্পে ব্যবহৃত আমদানিকৃত কাচামালের ওপর ৫ শতাংশ হারে আগাম কর (এডভান্সড ট্যাক্স) ধার্য্য করা হয়েছে। পাশাপাশি, ৩ শতাংশ হারে উৎসে কর আরোপিত রয়েছে।
দেশের সিমেন্ট ফ্যাক্টরীগুলো চালু রাখার জন্য অপরিহার্য পাঁচটি কাচামাল হচ্ছে ক্লিংকার, জিপসাম, স্লাগ, লাইমস্টোন ও ফ্লাই অ্যাশ। এডভান্সড ট্যাক্স ও উৎসে করের কারণে কাচামাল আমদানি ব্যয় বহুলাংশে বেড়ে গেছে। ফলে, কাচামাল আমদানিও কমে গেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যেখানে ৭৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ক্লিংকার আমদানি হয়েছিল, গত অর্থবছরে তা কমে ৬৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাড়িয়েছে।
বর্তমানে সিমেন্ট উৎপাদনকারী কোম্পানীগুলোকে তাদের উৎপাদিত সিমেন্টের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। কিন্তু ৫ শতাংশ হারে আগাম কর এবং ৩ শতাংশ হারে উৎসে কর-এই মোট ৮ শতাংশ হারে কর কেটে নেয়ার কারণে বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্পের ভবিষ্যত এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
‘ব্যাংকগুলোর কাছে আমাদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটেল সংরক্ষিত রয়েছে। সেখান থেকে আমদানিকৃত কাচামালের ওপর এই ৮ শতাংশ কর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কেটে নেয়। এই কর তারা কেটে নেবেই। পৃথিবীর কোন দেশে এ ধরনের কর প্রদানের বিধান আছে কিনা আমার জানা নেই,’ যোগ করেন তিনি।
‘এর ফলে, বর্তমানে দেশের সিমেন্ট উতপাদনকারকরা খুব একটি খারাপ সময় পার করছে,” মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]