• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » কেরানীগঞ্জে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ লাইফ সাপোর্টে ৮ জন, হতাহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা, দুটি তদন্ত কমিটি গঠন


কেরানীগঞ্জে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ লাইফ সাপোর্টে ৮ জন, হতাহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা, দুটি তদন্ত কমিটি গঠন

আমাদের নতুন সময় : 12/12/2019

সুজন কৈরী : ভয়াবহ অগ্নিকা- ঘটেছিলো কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার হিজলতলা এলাকার প্রাইম প্লেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামক কারখানায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান একজন, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১২ জনের মৃত্যু ঘটে। মৃতরা হলেন- ইলেক্টিকশিয়ান বাবলু হোসেন (২৬), মেশিন ম্যান্টাইনার্স মো. সালাউদ্দিন (৩২), মেশিন অপারেটর আব্দুল খালেক খলিফা (৩৫), সিনিয়ার অপারেটর জিনারুল ইসলাম মোল্লা (৩২), ইলেক্ট্রিশিয়ান জাহাঙ্গীর হোসেন (৫৫), ইমরান (১৮), সুজন (১৯), মো. আলম (২৫), রায়হান বিশ্বাস (১৬), ফয়সাল (২৯), মেহেদী হোসেন (২০), মাহবুব (২৫) ও ওমর ফারুক। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসকরা বলছেন, দগ্ধদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। অগ্নিকা-ে হতাহতের ঘটনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বৃহস্পতিবার গভীর শোক, দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। সেইসঙ্গে হতাহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ঢামেক মর্গে শুরু হয় নিহতদের লাশের ময়নাতদন্ত। এরপর একে একে হস্তান্তর করা হয় মরদেহ। গতকাল রাত পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিদের ময়নাতদন্ত আজ শুক্রবার করার কথা রয়েছে।

আগুনের ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের গঠিত ৪ সদস্যের কমিটির প্রধান অ্যাম্বুলেন্স শাখার উপ-পরিচালক আবুল হোসেন। গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি জানান, আবাসিক এলাকায় কারখানা করা হয়েছে। কারখানার নিরাপত্তা রক্ষায় যা যা থাকা উচিত, যে পরিবেশ রাখা উচিত, তা এখানে ছিলো না।
অপরদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করবো না। মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম বলেন, তদন্ত কমিটিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, শুধু ঘটনার কারণ নির্ধারণ করলেই হবে না, পাশাপাশি তদন্তে যদি কারো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে।
এর আগে২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর কারখানাটিতে প্রথম অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। এরপর চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো আগুন লাগে। তবে ওই দুটি অগ্নিকা-ে কারখানার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত না করে কারখানা পরিচালনার অভিযোগ এনে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর ওই কারখানার বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে গত ৫ নভেম্বর মামলা করেছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানান, শ্রম আইন অনুযায়ী গঠিত শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে দেয়া হবে। আর আহত হয়ে যারা ঢামেক বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন, তাদের চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে দেয়া হবে ৫০ হাজার টাকা করে। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]