• প্রচ্ছদ » লিড ১ » গাম্বিয়া বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে দাবি করে সুচি বললেন, রোহিঙ্গা গণহত্যার তদন্ত মিয়ানমারের নিজস্ব বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নয়, স্বীকার করলেন, সামরিক বাহিনী অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে থাকতে পারে


গাম্বিয়া বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে দাবি করে সুচি বললেন, রোহিঙ্গা গণহত্যার তদন্ত মিয়ানমারের নিজস্ব বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নয়, স্বীকার করলেন, সামরিক বাহিনী অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে থাকতে পারে

আমাদের নতুন সময় : 12/12/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : ক্লিয়ারেন্স অপারেশনকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুধুমাত্র সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ মোকাবেলার প্রশ্নে ব্যবহৃত হয়েছে। সেনা সদস্যরা যুদ্ধাপরাধ করে থাকলে তা মিয়ানমারের দেশীয় তদন্ত ও বিচার ব্যবস্থায় নিষ্পত্তি করা হবে। এটিকে আর্ন্তজাতিকীকরণের কোনও সুযোগ নেই। ১৯৪৮ এর গণহত্যা সনদ এখানে প্রযোজ্য নয়। নেদারল্যান্ডের দ্য হেগ শহরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে নিজ দেশের পক্ষে সাফাই স্বাক্ষ্য দিতে গিয়ে বুধবার এসব মন্তব্য করেছেন, মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি। মঙ্গলবার হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে শুরু হয় গাম্বিয়ার করা রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শুনানি। বৃহস্পতিবার দুই পক্ষই বিতর্কে অংশ নেবে। দুই অধিবেশনের এই বিতর্কে দুই পক্ষের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯০ মিনিট করে।
সুচি দাবি করেন, সার্বিয়া বনাম বসনিয়া মামলায় গণহত্যা সনদের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে গাম্বিয়ার দাবি সংগতিপূর্ণ নয়। অং সান সুচি বলেন, মামলায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা অসম্পূর্ণ এবং সঠিক নয়। ওই সেনা অভিযানের পেছনে গণহত্যা চালানোর অভিপ্রায়ের কোনও প্রমাণ নেই। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতি উপলব্ধি করা সহজ নয়, এবং ২০১৭ সালের আগস্টের ঘটনাবলী শুরু হয়েছিলো যখন স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পুলিশ ফাঁড়ির উপর হামলা চালিয়ে ৩০ জনকে হত্যা করে। তবে তিনি স্বীকার করেন, মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা বাহিনী হয়তো মাত্রাতিরিক্ত রকমের শক্তি প্রয়োগ করেও থাকতে পারে। সুচি আরও বলেন, যদি মিয়ানমারের সৈন্যরা যুদ্ধাপরাধ করে থাকে তাহলে তাদের বিচার করা হবে। তবে সে বিচার হবে মিয়ানমারের সামরিক আইনে ও বিচার ব্যবস্থায়। আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের কোনও প্রয়োজন নেই।
মিয়ানমার রাখাইন প্রদেশের বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ, বলে দাবি করেছেন সুচি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রধান বাসভূমি রাখাইন প্রদেশে গোলযোগের ইতিহাস কয়েক শতাব্দীর, এবং এ সংঘাতকে আরও গভীর করতে পারে এমন কিছু না করতে আইসিজের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সুচি তার বক্তব্যের শুরুতে আন্তর্জাতিক আইন ও সনদসমূহের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে আদালত সহায়তা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। গণহত্যা সনদের বিধান রুয়ান্ডা ও সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় প্রয়োগ করা হয়নি বলে দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন, গাম্বিয়া বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। এ মামলায় মিয়ানমারের এজেন্ট সুচি আরাকানে মুসলমানদের ইতিহাস বর্ণনা করে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে সংঘাতের ফল হিসেবে অভিহিত করেন। কয়েকশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে বক্তব্য দিলেও তিনি বলেন যে অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও বিচারব্যবস্থা এ নিয়ে কাজ করছে। সুচি বলেন, রাখাইনে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। মুসলমান শিশু ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য বৃত্তি চালু করা হচ্ছে। তিনটি আইডিপি শিবির বন্ধ করা হয়েছে। দেশান্তরিত লোকজনকে স্বেচ্ছামূলক ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন,‘ এ রকম অবস্থায় কীভাবে বলা হয় যে গণহত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে সেখানে কার্যক্রম চলছে?’
গাম্বিয়া যেসব অন্তবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়েছে সেগুলো কেনো দেয়া উচিত নয়, তার দফাওয়ারি ব্যাখ্যা দেন মিয়ানমার নিযুক্ত আইনজীবি ক্রিস্টোফার স্টকার। তিনি বলেন, গণহত্যার প্রশ্নে অন্য যেসব দেশ মামলা করেছে তারা সবাই সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। গণহত্যা সনদের আওতায় কোনও আবেদন করতে হলে সরাসরি সংক্ষুব্ধ হওয়ার প্রশ্নটিকে অস্বীকার করা যায় না। মিয়ানমারের ঘটনাবলিতে যদি কোনো দেশ সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকে, সেটা হওয়ার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু, বাংলাদেশ গণহত্যা সনদের প্রযোজ্য ধারাটি গ্রহণ না করায় কোনও মামলা করার অধিকার রাখে না। কার্যত লাওস ছাড়া মিয়ানমারের অন্য কোনও প্রতিবেশীই এমন মামলা করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্টকার।
আরেক আইনজীবি ফোবে ওকোয়া বলেন, বিভিন্ন জাতীয় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছে। ইউএনএইচসিআর মাঠপর্যায় থেকে প্রত্যাবাসন তদারক করবে এবং কোনো ধরনের ঝুঁকি দেখলে তারা তা জানাতে পারবে। সুতরাং, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে চলতে দেওয়া উচিত। তার বক্তব্যের মাধ্যমে বুধবারের শুনানি শেষ হয়। বৃহস্পতিবার দুইবেলা অধিবেশন বসবে। এবং উভয় পক্ষই ৯০ মিনিট করে সময় পাবেন। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]