• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার বন্ধে বিএফআইইউ’র সমন্বিত উদ্যোগ


বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার বন্ধে বিএফআইইউ’র সমন্বিত উদ্যোগ

আমাদের নতুন সময় : 12/12/2019

মো. আখতারুজ্জামান : বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার তথা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের আওতায় মঙ্গলবার গাইডলাইন্স জারি করেছে মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিএফআইইউ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ফোকাস গ্রুপ এই গাইডলাইন প্রস্তুত করেছে। বিএফআইইউ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গাইডলাইনে বলা হয়, বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচারকে উচ্চ ঝুঁকি বিবেচনায় এ সম্পর্কিত কেস বিশ্লেষণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। এ খাত সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক কর্মকর্তাকে বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। অর্থ পাচারের মামলা তদন্তে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরকে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করতে হবে। এছাড়া, প্রত্যেকটি ব্যাংককে বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিং ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব গাইডলাইন্স প্রস্তুত করে ২০২০ সালের ১০ মার্চের মধ্যে বিএফআইইউএ দাখিল করতে এবং ১ জুন, ২০২০ এর মধ্যে এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
বিএফআইইউ পক্ষ থেকে বলা হয়, পাচারকৃত অর্থের বেশীরভাগ অর্থাৎ, ৮০ শতাংশেরও বেশী বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে পাচার হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন ও সংবাদ মাধ্যমেও বাংলাদেশ হতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশী অর্থ পাচার হচ্ছে এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও বিএফআইইউ, দুদক ও সিআইডি’র যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত বাংলাদেশের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঝুঁকি নিরূপণ প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং ও বিদেশে অর্থ পাচারকে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতি অর্থ বছরে প্রকাশিত এবং ওয়েবসাইটে আপলোডকৃত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’র বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায়ও দেখা যায় ইউনিট কর্তৃক তদন্ত সংস্থায় যতগুলো কেস প্রেরণ করা হয় তার বেশির ভাগ বাণিজ্য ভিত্তিক মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত। যে সকল পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক কম যেমন মুলধনী যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, কম্পিউটার সামগ্রী ইত্যাদি পণ্যের দাম নির্ধারণ কঠিন সেসব পণ্য বা সেবা আমদানির মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়ে থাকে। বিপরীতে রপ্তানিকৃত পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে অবশিষ্ট অর্থ বিদেশে রেখেও অর্থ পাচার ঘটে থাকে। পাশাপাশি আমদানিকৃত পণ্যের বিবরণ পরিবর্তন করে বা কোনো পণ্য আমদানি না করে শুধুমাত্র ডকুমেন্টের বিপরীতে মূল্য পরিশোধ করেও অর্থ পাচার হয়ে থাকে। তা ছাড়া, একই পণ্য বা সেবার একাধিক চালান ইস্যুকরণ, ঘোষণার তুলনায় পণ্য বা সেবা বেশী বা কম জাহাজীকরণের মাধ্যমেও অর্থ পাচার হয়ে থাকে।
বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং ও বিদেশে অর্থ পাচার একটি গুরুতর ও জটিল বিষয়। এ বিষয়ে কৌশলগত বিশ্লেষণে একজন উপমহাব্যবস্থাপকের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্পাদনা: মাসুদ কামাল।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]