• প্রচ্ছদ » » ভিন্নমতাবলম্বীদের বিপদে ফেলতে ফেসবুক ব্যবহারকারীর ‘সত্য কথা’ মিথ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, অভিযোগ ড. আসিফ নজরুলের, মোহাম্মদ এ আরাফাতের মতে, সত্য-মিথা যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষমতা যাদের নেই, তাদের ফেসবুকে কোনো কিছু শেয়ার করা উচিত নয়


ভিন্নমতাবলম্বীদের বিপদে ফেলতে ফেসবুক ব্যবহারকারীর ‘সত্য কথা’ মিথ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, অভিযোগ ড. আসিফ নজরুলের, মোহাম্মদ এ আরাফাতের মতে, সত্য-মিথা যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষমতা যাদের নেই, তাদের ফেসবুকে কোনো কিছু শেয়ার করা উচিত নয়

আমাদের নতুন সময় : 12/12/2019


আশিক রহমান : ১২ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবারÑ সরকার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস’ পালন করেছে। দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিলো, ‘সত্য-মিথ্যা যাচাই আগে, ইন্টারনেটে শেয়ার পরে’। দেশের প্রায় ১০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর জন্য কি তা হুমকি? এতে কি ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা সীমিত হয়ে আসবে? সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীরা কীভাবে বুঝবেÑ কোনটি সত্য নিউজ, আর কোনটি মিথ্যা?

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক, অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের মতে, যখন মানুষ ফেসবুকে কোনোকিছু শেয়ার করে তখন সাধারণভাবেই ব্যবহারকারীর পক্ষে অনেককিছু যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ থাকে না। তারপরও কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা যায়। দায়িত্বশীল কোনো সোর্স থেকে পাওয়া নিউজ শেয়ার করলে ঝুঁকি কম থাকে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যে সরকার এই সত্য-মিথ্যার কথা বলছে, তারা তো নিজেরাই প্রতিনিয়তই অসংখ্য মিথ্যা কথা বলে। তারা মিথ্যা অভিযোগ করেন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। যারা এই বার্তা দিচ্ছেন তাদের মধ্যে সততার চর্চা সবচেয়ে বেশি থাকতে হবে। কিন্তু তাদের মধ্যে তো সততার চর্চাটা নেই। তারা যদি বিরোধী বা ভিন্নমতাবলম্বী কাউকে মামলায় ফেলতে চান, হয়রানি, ঝামেলা কিংবা হুমকি দিতে চান, তখন ব্যবহারকারীর সত্য কথাগুলোও মিথ্যা হিসেবে উপস্থাপন করেন। সরকারের সমালোচকেরা সত্য কথা বললেও বিপদে পড়েন। সুচিন্তা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ এ আরাফাত অবশ্য অন্য কথা বলছেন। তার মতে, যাদের মাথার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা কাজ করে তারা নিউজের সামনে কিছু একটা লাগাবে, পেছনে লাগাবে। লাগিয়ে যেটা বলা হয়নি, সেটাকে জোর করে বলা হয়েছে বলে দাবি করবে। যাচাই-বাছাই করে শেয়ার করার বিষয়টি সবার জন্যই প্রযোজ্য, সেটা সরকারি পক্ষ কিংবা অন্য যেকোনো পক্ষই হোক। প্রযুক্তিবিদ জাকারিয়া স্বপন যেকোনো কিছু শেয়ারের আগে চিন্তা করার পক্ষে। তিনি বলেন, মানুষের মাথায় যদি ঢুকে যায় যে, আমরা সাধারণত অনেক দেখে, না দেখেও অনেককিছু শেয়ার করে দিই। মুহূর্তে যেকোনো কিছু পোস্ট করি, শেয়ার দিই, কমেন্টও করি খুব অল্প সময়ের মধ্যে। ৩০ সেকেন্ড বা ১ মিনিট চিন্তা করে শেয়ার করলে অনেক ঝামেলা কমে যাবে সাধারণ মানুষের জন্য।
আইন সবার ক্ষেত্রে সমান থাকে না অভিযোগ করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফেসবুকে শেয়ার করা হয় কারও ‘ওপিনিয়ন’। ওপিনিয়ন বা মতামতে কোনো সত্য-মিথ্যা থাকে না, সেটা যাচাই-বাছাইয়েরও কোনো উপায় নেই। মতামত প্রদানের ক্ষেত্রে সবার উচিত অন্যের মানহানি হয় কিংবা উসকানিমূলক মতামত না দেয়া। কিন্তু অতীতে দেখা গেছে, দেশপ্রেম নিয়ে কেউ কিছু লিখলে বা বললেও তাকে বিপদে পড়তে হয়েছে। যেমন কোটা সংস্কার ও সড়ক আন্দোলনের সময়ে দেখেছি। কিংবা ভারতের বিভিন্ন নেতিবাচক ভূমিকার সমালোচনা করার ক্ষেত্রে দেখেছি। এ ধরনের বার্তা বা নীতি তখনই সফল হবে যখন আইনপ্রয়োগকারীরা সৎ থাকবেন। তবে আসিফ নজরুলের এসব অভিযোগ মানতে রাজি নন মোহাম্মদ এ আরাফাত। দ্বিমত প্রকাশ করে তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেউ আটকাচ্ছে না। কিন্তু যেটা সরকার বলার চেষ্টা করছে, স্বাধীনতার সঙ্গে স্বেচ্ছাচারিতা যদি আসে, তাহলে তো সমাজের জন্য তা ক্ষতিকর। এখানে দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন জড়িত। যেকোনো কিছু পেলেই শেয়ার করার লোভ আমাদের সংবরণ করতে হবে। এটা দায়িত্বশীলতারই অংশ। যাচাই-বাছাই করার ক্ষমতা যাদের নেই, তাদের কিছু শেয়ার না করাই উচিত। মিথ্যা বা ভুল কিছু শেয়ার করে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরির অধিকার তো কারও নেই। তাদের স্বাধীনতা সীমিত হওয়ারও কিছু নেই। এই জায়গায় মোহাম্মদ এ আরাফতের সঙ্গে অনেকটা সহমত প্রকাশ করেছেন জাকারিয়া স্বপ্ন। যাচাই-বাছাই করে ফেসবুকে শেয়ার করার সরকারি বার্তা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন তিনি। এই প্রযুক্তিবিদ বলেন, কিছু মানুষ রয়েছে যারা ইচ্ছে করেই ভুল বা মিথ্যা ছড়াচ্ছে, সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্তি করছে। তাদের এই মেসেজটা দেয়া দরকার যে, ইচ্ছে করে মিথ্যা ছড়ালে তোমাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হওয়ার কোনোরকম আশঙ্কা আছে বলেও মনে করেন না জাকারিয়া স্বপন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]