• প্রচ্ছদ » লিড ১ » আপিল বিভাগেও বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হয়নি তবে তার সম্মতিসাপেক্ষে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ


আপিল বিভাগেও বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হয়নি তবে তার সম্মতিসাপেক্ষে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ

আমাদের নতুন সময় : 13/12/2019

নূর মোহাম্মদ : গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। এর আগে হাইকোর্টেও জামিন আবেদন নাকচ হয় এই মামলায়। তবে খালেদা জিয়ার সম্মতিতে মেডিকেল বোর্ডকে সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত তার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের (বায়োলজিক্যাল) জন্য পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। গতকাল সকালে কার্যতালিকার ক্রমানুসারে মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে প্রধান বিচারপতি সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল ও খন্দকার মাহবুব হোসেনের উদ্দেশ্যে বলেন, শুনানিতে উভয় পক্ষের ৩০ জন করে আইনজীবী থাকবেন। আমরা আসছি। একথা বলেই আদালত উঠে যান। এর আগে বিএনপির আইনজীবীদের পুলিশ এজলাসে প্রবেশ করতে দিচ্ছেনা বলে আদালতে অভিযোগ করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। সকাল ১০ টা ১০ মিনিটে আবারও এজলাসে আসেন ছয় বিচারপতি। তবে এসময় কোন আইনজীবী বাইরে না গেলে আদালত বলেন, আপনারা কেউ কথা শোনেননি। এরপরই আদালত রেজিস্ট্রার জেনারেলকে ডাকলে তিনি মেডিকেল রিপোর্ট জমা দেন।
প্রথমেই আদালত খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের বক্তব্য শুনতে চান। এরপর জয়নুল আবেদীন বলেন, এটা দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপনাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। আমরা মানবিক কারণে খালেদা জিয়ার জামিন চাইছি। খালেদা জিয়া সুস্থ মানুষ ছিলেন। কিন্তু তার অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। আমি ডাক্তার না। তবু যেটুকু বুঝি, এই মেডিকেল প্রতিবেদন বলছে, উন্নত চিকিৎসা দরকার। এখানে সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। তিনি হাত-পা নাড়াতে পারছেন না। তার অবস্থা এমন যে, তিনি পঙ্গু অবস্থায় চলে গেছেন। আর ছয় মাস পর হয়তো লাশ হয়ে বের হবেন।
জয়নুল আরও আবেদীন বলেন, আমরা হিউম্যান বিং। এরপর আর কোথাও যেতে পারবো না। আর ওপরে আল্লাহ আছেন। খালেদা জিয়ার বয়স এখন ৭৫ বছর। আপনারা সব সময় এই বিষয়গুলো বিবেচনা করেছেন। খালেদা জিয়ার আত্মীয়-স্বজন তার সঙ্গে দেখা করেছেন। আমরা তো আর পারি না। আমাদের দেখা করতে দেয় না। আত্মীয়-স্বজন দেখা করে এসে বলেছে, তার অবস্থা খারাপের দিকে। আর জামিন পেলে তো তিনি পালিয়ে যাবেন না। রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে। তাই অ্যাটর্নি জেনারেলের আমাদের পক্ষে বলা উচিৎ। কারণ তিনি তো সরকারের না, রাষ্ট্রের। এর পর আমরা আসতেছি বলে আদালত ১১ টা ৪ মিনিটে বিরতিতে যান।
বিরতির পর ১১টা ৩৭ মিনিটে আবারও এজলাসে আসেন বিচারপতিরা। এসময় আবারো জয়নুল আবেদীন বলেন, তার আত্মীয় স্বজনরা বলেছেন, খালেদা জিয়া বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। পাকিস্তান বর্বর দেশ। অথচ সেখানেও নওয়াজ শরীফকে মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন দিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাঠিয়েছে আদালত। এসময় তিনি ৭ ও ৯ বছর সাজা এবং যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদ-প্রাপ্ত কয়েকজন আসামির জামিনের নজীর তুলে ধরেন।
জয়নুলের পর খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমাদের দেশে রাজনীতি আর কারাগার পাশাপাশি। রাজনীতি করলে জেলে যেতে হবে। জেলে থাকলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। আর ক্ষমতায় থাকলে তার থেকে আর ভালো কেউ নেই। খালেদা জিয়া অসুস্থ ও বয়স্ক নারী। তাকে জামিন দেয়ার আবেদন জানাই আদালতের কাছে।
জামিনের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মেডিক্যাল রিপোর্ট আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার যেসব রোগ তা দীর্ঘমেয়াদি। তিনি ডায়াবেটিসে ভুগছেন ২০ বছর ধরে। উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে ১০ বছর ধরে। আর তার আর্থ্রাইটিস ৩০ বছর ধরে। প্রতিবেদন বলছে, খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর যেসব রোগ, সেগুলোর চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের অন্তর্নিহিত ক্ষমতার ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপ করেননি। হাইকোর্ট এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকে অর্থ আত্মসাতের মতো অপরাধ করেছেন। এটা অভাবনীয়। খালেদা জিয়া কিছু ব্যাপারে সম্মতি দিচ্ছেন না। কোনো রোগী চিকিৎসককে সম্মতি না দিলে ওই চিকিৎসকের কী করার আছে। সব দিক বিবেচনা করে তার জামিন আবেদন খারিজের আর্জি জানান তিনি।
এরপর সব শেষে আবারও দাঁড়িয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, সব কিছু আপনাদের ওপর দিলাম। এসময় আদালত বলেন, আমরা একটু নামবো। সব বিচারপতিদের মতামত নিতে হবে বলে ১টা ৩ মিনিটে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারপতিরা। এরপর সোয়া ১টায় আবারও এজলাসে আসেন ছয় বিচারপতি। এসময় প্রধান বিচারপতি বলেন, এটা সর্বসম্মত আদেশ।
আদেশ দিয়ে বিচারপতিরা চলে গেলে বিএনপির আইনজীবীদের কয়েকজন বলেন, এটা অবিচার। এরপর এজলাসের বাইরে গিয়ে বিক্ষোভ করেন বিএনপির আইনজীবীরা। এসময় পাল্টা শ্লোগান দেন আওয়ামী লীগের আইনজীবীরাও। সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী ও সালেহ্ বিপ্লব




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]