• প্রচ্ছদ » » একাত্তরে বীরের জাতি ছিলাম, পঁচাত্তরে হয়েছি নিমকহারাম জাতি, বললেন বীরপ্রতীক সৈয়দ সদরুজ্জামান হেলাল


একাত্তরে বীরের জাতি ছিলাম, পঁচাত্তরে হয়েছি নিমকহারাম জাতি, বললেন বীরপ্রতীক সৈয়দ সদরুজ্জামান হেলাল

আমাদের নতুন সময় : 13/12/2019

সালেক খোকন : বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার মাধ্যমে জাতি হিসেবে আমরা হেয় হয়েছি বলে মনে করেন এই সূর্যসন্তান। তিনি বলেন, সারা বিশ্ব এখনো বলে- ‘তোমরা এমন জাতি যে, তোমাদের নেতাকেই তোমরা মেরে ফেলেছো! তিনি তোমাদের জাতির জনক ছিলেন। তাকে কীভাবে হত্যা করলা?’ এই প্রশ্নের উত্তর আজও দিতে পারি না। একাত্তরে আমরা বীরের জাতি ছিলাম, পঁচাত্তরে হয়েছি নিমকহারাম জাতি। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই কারও। বঙ্গবন্ধুর সরকারে যারা ছিলো, তাদের অধিকাংশই পরে খুনিদের সরকারে চলে গিয়েছিলো। এর চেয়ে নিমকহারামি আর কি হতে পারে’। শেখ হাসিনার শাসনামল প্রসঙ্গে এই যোদ্ধার মত, সব দিক দিয়ে তিনি সফল। দেশের ভালোর জন্য চিন্তা করেন, চেষ্টাও কম করছেন না। কিন্তু শেখ হাসিনা যতোটা সৎ, তার দলের তৃণমূল ততোটা নয়। এখন রাজনীতিতে রাজনীবিদ কম। ব্যবসায়ীরা আজ মন্ত্রী হয়ে বসে আছে। তাই ভালোদের স্থান দেওয়াটা অনেক জরুরি। এখন যেটা চেষ্টা করছেন শেখ হাসিনা। দলের লাগাম শক্ত হাতে ধরতে না পারলে সোনার বাংলা হবে না। এখন তো তার জন্যও রীতিমতো ভয় হয়। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে কেমন বাংলাদেশ চান? ‘সবকিছু থেকে অস্বচ্ছতা আর লুটপাট বন্ধ করতে হবে। আজ মুষ্টিগত হয়ে আছে খারাপরা। নিয়োগে যদি যোগ্যরা স্থান না পায়, তবে সোনার বাংলাদেশ কাদের নিয়ে গড়বেন? তাই নিয়োগটা স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। সৎ দেশ গড়তে সততার মূল্যায়ন করতে হবে। একইভাবে শিশুদেরকে বাধ্যতামূলক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে হবে। এটার দায়িত্ব পরিবারেরও।’ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট লাগে না বলে মনে করেন মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সদরুজ্জামান হেলাল। তিনি বলেন- “ব্যক্তিগতভাবে কিছু পাওয়ার জন্য তো মুক্তিযুদ্ধ করিনি। বিগত সময়ে সচিব মহোদয়রা নিজেরাই ছিলেন দুই নম্বর। তারাই তালিকাটাকে বির্তকিত করার সুযোগ করে দিয়েছে। এখন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারাই মাইনোরিটিতে। স্বাধীনের পর জামালপুর-শেরপুর মিলে ৩৫২৩জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা ছিল। এখন শুধু জামালপুরেই ভাতা তুলে ৪৫০০জন আর শেরপুরে ২৬০০জনের মতো। বাকীরা কোথা থেকে আসলো! জানা নাই আমার।’ ‘এই প্রজন্মকে দেশ আইনা দিছি, ফ্ল্যাগ আইনা দিছি। এবার রক্ষা করুক তারা’Ñ প্রজন্মের উদ্দেশে এমনটাই বললেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক সৈয়দ সদরুজ্জামান হেলাল। তার ভাষায়- ‘রাজাকারদের কথাবার্তা শুনলে সহ্য করতে পারি না। এ প্রজন্মও সেটা পারে না। এটা আশার কথা। সেক্টর কমান্ডার ফোরামের ফাইন্ডার মেম্বার ছিলাম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে সারা দেশ ঘুরেছি। প্রজন্মের ফিলিক্সটা কাছ থেকে দেখেছি। ওরা পারবে। রিয়েল পেট্রিয়ট হওয়ার চেষ্টাটা প্রজন্মের আছে। তবে আমাদের উচিত তাদের গাইড করা, পাশে থাকা’।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]