• প্রচ্ছদ » » দেহকে শাস্তি প্রদানের তত্ত¡টি জনপ্রিয় ছিলোই এখন ‘নো মাইন্ড’ তত্ত¡টি খুবই জনপ্রিয়


দেহকে শাস্তি প্রদানের তত্ত¡টি জনপ্রিয় ছিলোই এখন ‘নো মাইন্ড’ তত্ত¡টি খুবই জনপ্রিয়

আমাদের নতুন সময় : 13/12/2019

ড. এমদাদুল হক

জগৎখ্যাত গুরুরা পাওয়ার অব নো-ম্যানকাইন্ড প্রচারে মুখর। দেহকে শাস্তি প্রদানের তত্ত¡টি জনপ্রিয় ছিলোই, এখন ‘নো মাইন্ড’ তত্ত¡টি খুবই জনপ্রিয়। নো মাইন্ড স্তরে যাওয়ার তত্ত¡টি এলো কোথা থেকে? মন থেকে। ‘নো মাইন্ড’ স্তর বলে যদি বাস্তবেও কিছু থাকে, তবে তা জানলো কে? মন। মন ছাড়া ভাব নেই, ভাব ছাড়া ভাষা নেই। মন যদি জানতে পারে ‘নো মাইন্ড’ আছে, তবে নো মাইন্ডেও মন ছিলো। মন নিজেই নিজেকে হারানোর প্রেরণা হতে পারে না। স্বর্গ অতি মনোরম স্থান, কিন্তু কেউ মরতে চায় না। কল্পিত স্বর্গের মতোই নো-মাইন্ড ধর্ম ব্যবসার উপাদান। মন ‘নো মাইন্ড’ স্তরে যেতে পারে না। যেতে পারলেও তা বর্ণনা করার কোনো সাক্ষী নেই। এগুলো স্রেফ আধ্যাত্মিক মিথ্যাচার। সত্য হলো এই যে, মানুষ এক-এ থাকতে পারে। দেহ-মনের সব শক্তি মানুষ এক পথে চালনা করতে পারে। এতেই রয়েছে জ্ঞান, এতেই রয়েছে পরমানন্দ। চিন্তারোগ মানুষের থাকতে পারে, কিন্তু চিন্তারোগের ওষুধও চিন্তাই। চিন্তা দুঃখের কারণ হতে পারে, কিন্তু সুখের কারণও চিন্তাই। চিন্তা নরকে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু স্বর্গে যাওয়ার বাহনও চিন্তাই। দেহ থেকে মন এবং মন থেকে দেহ পৃথক নয়। পৃথিবী বৃত্তাকার, সব গ্রহ নক্ষত্র, এমনকি গোটা মহাবিশ্ব বৃত্তাকার। মনুষের চিন্তাজগৎটিও বৃত্তাকার। দেহমন থেকে সত্যানুসন্ধান শুরু হয়Ñ জগৎ ঘুরে দেহমনেই ফিরে আসে। দেহমনের বাইরে কোনো আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা নেই। যা কিছু ঘটে তা দেহমনের পরিধিতেই ঘটে। মানুষের মন ফ্যান্টাসি উৎপন্ন করে এবং স্বউৎপাদিত ফ্যান্টাসি উপভোগ করে। এজন্য নয় যে, ফ্যান্টাসি সত্য, বরং এজন্য যে, ফ্যান্টাসি বিনোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। আধ্যাত্মিক গুরুদের ফ্যান্টাসি কোটি কোটি মানুষ শোনে। যদিও এর মধ্যে কোনো সত্য নেই, তবু মানুষ কাল্পনিক গল্প শুনে মুগ্ধ হয়। যতো বড় ফ্যান্টাসি ততো বেশি মুগ্ধতা। ফ্যান্টাসিগুলোকে সত্য মনে করলেই বিপদ। সত্যোপলব্ধির জন্য দেহ-মন বাধা তো নয়ই বরং দেহ-মন ছাড়া উপলব্ধি অসম্ভব। নো বডি, নো মাইন্ড মানেÑ নো নলেজ, নো ট্রুথ। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]