• প্রচ্ছদ » » ভালোবাসা কোথায় কোন্ দ্রাঘিমায় অ্যামবুশ করে বসে আছে, সেটা আপনি জানতেও পারবেন না


ভালোবাসা কোথায় কোন্ দ্রাঘিমায় অ্যামবুশ করে বসে আছে, সেটা আপনি জানতেও পারবেন না

আমাদের নতুন সময় : 13/12/2019

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

ভালোবাসা কোথায় কোন দ্রাঘিমায় অ্যামবুশ করে বসে আছে, সেটা আপনি জানতেও পারবেন না। আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি, এ রকম সম্ভাব্য-অসম্ভাব্য জায়গায় ভালোবাসার দ্বারা আক্রান্ত হই বলে। এটা আমার মাহাত্ম্য নয়, এটা ভালোবাসা দাতার মাহাত্ম্য। দুই বছর আগে মিলানে গেছি ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে। গিয়েই জ্বর-সর্দিতে কাবু। খাওয়া-দাওয়া মুখে রোচে না। একদিন সকালে হোটেলের রিসেপশন থেকে ফোন। বাংলাদেশ অ্যামবাসি থেকে কেউ একজন এসেছে। খানিকটা অবাক। কারণ আমি সম্ভবত মোস্ট বেসরকারি লোক। আমার কাছে অ্যামবাসির লোক কেন আসবে? পরিষ্কার বুঝতে পারলাম কোনো একটা গোলমাল হয়েছে। যাই হোক, বললাম, পাঠিয়ে দিন। অপেক্ষা করে বসে আছি, কেউ আর আসে না। যেই কম্বলের নিচে ঢুকতে যাবো, বেল বাজলো। দরজা খুলে দেখলাম এক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে হাতে বিশাল ব্যাগ। জানতে চাইলাম, কি বিষয়? তিনি বললেন, কনসুলার ম্যাডাম ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষ মারফত জানতে পেরেছেন আপনি অসুস্থ, কিছু খেতে পারছেন না, তাই এগুলো রান্না করে পাঠিয়েছেন। আমি নিজের সৌভাগ্যে ভড়কে গেলাম এবং কৃতজ্ঞবোধ করলাম অজানা, অচেনা সেই কনসুলার ম্যাডামের প্রতি। আচ্ছা তারা না হয় বাংলাদেশের, কিন্তু নিউইয়র্কে যে এয়ার বিএনবিতে আমি থাকলাম গত একমাস সেখানে কেন ভালোবাসা আমাকে অ্যামবুশ করবে? এটা তো কোনোভাবেই আমার মাহাত্ম্য হতে পারে না। এটা নিশ্চিতভাবেই ‘বেøসিংস’। এখানে যে বাসায় আজ একমাস আছি, সেই ভদ্রমহিলা ক্যারিবিয়ান। কিছুদিন না যেতেই তিনি আমি কি কি খেতে পছন্দ করি খোঁজ নিয়ে রান্না করতে শুরু করলেন এবং আক্ষরিক অর্থেই প্রতি দুদিন পর পর রান্না করে পাঠাতে থাকলেন। আমার ফ্লাইট। দেখি তিনি রান্না করে হাজির। পরিমাণ দেখে বললাম, আমি তো একা। কে শেষ করবে এই খাবার? তিনি বললেন, তিনি বেশি করে রেঁধেছেন যাতে অর্ধেক খেয়ে বাকি অর্ধেক আমি বিমানে নিয়ে যাই। সেজন্য তিনি একটা বিশেষ বক্সও কিনে এনেছেন। বিমানের খারাপ খাওয়া যেন আমি না খাই, সেজন্যই তিনি এই ব্যবস্থা করেছেন। এরপরও আমি সৃষ্টিকর্তার কোনো নিয়ামতকে অস্বীকার করবো? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]