• প্রচ্ছদ » » সুচি একজন ক্রিমিনালের নাম, স্বাধীনতা শব্দটি যার কারণে পরাধীন হয়ে গেছে


সুচি একজন ক্রিমিনালের নাম, স্বাধীনতা শব্দটি যার কারণে পরাধীন হয়ে গেছে

আমাদের নতুন সময় : 13/12/2019

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি

শান্তিতে নোবেল পুরষ্কারজয়ী অং সাং সুচি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যার পক্ষে সাফাই দিয়েছেন, বলেছেন- রক্তপাত হলেও গণহত্যা হয়নি। আমি সুচির বক্তব্যে অবাক হইনি। কারণ সুচি যে বক্তব্য দেয়ার কারণে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার যোগ্যতা ধুলায় মিশিয়ে দিলেন সেই একই কারণে গত বছরের নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন ইরাকের নাদিয়া মুরাদ, কেবল ইয়াজিদী হওয়ার কারণে ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিরা তাকে দিনের পর দিন ধরে করেছিলো গণধর্ষণ। নামাজ পড়ার পর তাকে ধর্ষণ করা হতো এবং পায়ের জুতা চেটে দিলে মিলতো পরিবারকে একবার ফোন করার সুযোগ। উনিশশ একাত্তর সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকেও নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো যেন বাঙালি মেয়েদের ধর্ষণ করা হয় আর তাদের সন্তানদের মুসলমান বানানো হয়, বাঙালি কালচার বলতে তাদের বলা হতো হিন্দুদের কালচারকে এবং যুদ্ধে এসব নারীরা বিবেচিত ছিলো গণিমতের মাল হিসেবে। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আমাদের যুদ্ধ শিশুদের দত্তক নেয়া রোধ করেছিলো এরশাদ সরকার, সংবিধানে সংযুক্ত করেছিলো রাষ্ট্রধর্ম। সৌদি আরবে যে নির্যাতনটি করা হয় আমাদের প্রবাসী নারী শ্রমিকদের উপর, ভারতে যেভাবে সেই একই নির্যাতন করা হয় কাশ্মীরের মুসলমান নারীদের উপর। পাকিস্তানে যে কাজটি করা হয় অনার কিলিংয়ের নামে। যেভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী নারীদের ধর্ষণ হতে হয়, কল্পনা চাকমাকে গুম করে ফেলা হয়। সারা দুনিয়ায় নারীর কোনো নিরাপদ আশ্রয় হয়নি। রুম্পারা খুন হয় পুলিশ অফিসার বাবা থাকা সত্তে¡ও, তনুদের লাশ পড়ে থাকে ক্যান্টনমেন্টে। দেশের প্রাইম মিনিস্টাররা নারী হয়, তারপরও কেন নারীর নিরাপত্তা বাড়ে না জানেন? কারণ ক্ষমতা হাতে পেলে নারী-পুরুষ ভেদাভেদ থাকে না, সুচি বা হাসিনায় পার্থক্য থাকে না। ধর্মের নামে, সার্বভৌমত্ব রক্ষার নামে সেনাবাহিনীর অপরাধ গোপন করা হয়, তনুকে ভালুকে খেয়ে ফেলার তত্তে¡র বৈধতা দেয়া হয়। রাষ্ট্রের জিডিপি বাড়ে, রাষ্ট্রের উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নারীর নিরাপত্তা বাড়ে না। মাঝখান থেকে কিছু মানুষ আমরা চিৎকার করি, আমাদের গলাগুলো চেপে ধরতে সরকারের চ্যালাচামুÐারা, আশরাফুল আলম খোকনদের প্রেস উইং সক্রিয় হয়ে ওঠে। কাঁটাতারে ফেলানির লাশ ঝোলে, লোক দেখানো বিচার হয়, আমাদের রাষ্ট্রনেতারা লাশটি পাশ কাটিয়ে দিব্যি চলে যান। এই রাষ্ট্র, এই সমাজ নারীদের নৈতিকতা শেখানোর নামে ধর্ষণের বৈধতা দেয়, গণহত্যাও অনেক সময় জাস্টিফাই করে। ক্ষমতার লোভে, ধর্মের নামে, জাতীয়তাবাদ রক্ষার নামে। এই রাষ্ট্র এখনো মানুষের হয়নি, দেশ এখনো নারীর হয়নি, এই পৃথিবী এখনো মানুষের হয়নি। অং সাং সুচি একজন ডিক্টেটর, গণহত্যার পৃষ্ঠপোষক, একজন বর্ণবাদী ক্ষমতালোভীর নাম। সুচি কোনো নারীর নাম নয়, কোনো মানুষের নাম নয়। সুচি একজন ক্রিমিনালের নাম, স্বাধীনতা শব্দটি যার কারণে পরাধীন হয়ে গেছে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]