• প্রচ্ছদ » » আমরা কেন এনআরসি ও সিএবি বিরোধী?


আমরা কেন এনআরসি ও সিএবি বিরোধী?

আমাদের নতুন সময় : 14/12/2019

ইনামুল হক

অভিবাসন বিশ্ববাসী স্বীকৃত একটি মানবিক অধিকার। মানুষ কোনো একটি দেশে নির্যাতিত হয়ে বা জীবনের ভয়ে বা রোজগারের আশায় দেশান্তরী হয়। সে যে দেশে যায় সেই দেশের আইন অনুযায়ী সে সেই দেশের নাগরিকত্ব পায়। এভাবেই ইউরোপ-আমেরিকায় কোটি কোটি মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অভিবাসী নাগরিক আছে। কিন্তু ভারত ও মিয়ানমারে স্থানীয়দের বা আগতদের যেভাবে নাগরিকত্ব হরণ করা হচ্ছে তা মানব সভ্যতার কলঙ্ক। ব্রিটিশরা উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যাবার আগে ভারতের বিহার, বাংলা ও আসাম বা পূর্বদেশ অঞ্চল নিয়ে ১৯৪৬ সালে একটি দেশ করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই সময় এই অঞ্চলের মানুষরা হিন্দু-মুসলমান বৈরিতায় নিমগ্ন থাকায় হিন্দুস্তানের নেতারা সুযোগ নেয় ও বাংলা ভাগ করে পাকিস্তান ও হিন্দুস্তানের সঙ্গে জুড়ে দেয়। ফলে দাঙ্গায় হাজার হাজার মানুষের নির্মম মৃত্যু হয় ও কোটি কোটি মানুষকে ভিটেমাটি ত্যাগ করতে হয়। বিহার আসাম ও বাংলার মানুষ ভৌগোলিক, প্রাকৃতিক ও সামাজিকভাবে পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু পশ্চিম ভারত ও মধ্য এশিয়া থেকে বাংলায় আসা আর্য বলে দাবিদার দিল্লিমুখী অভিজাতরা এবং চীন থেকে আসা অহোমরা বাংলার মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করে নিজেদের প্রভুত্ব কায়েম রাখতে চায়। তাদেরই ষড়যন্ত্রে এবং দিল্লির মদদে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা, মৈমন্সিঙ্গিয়া বাঙাল খেদাও ইত্যাদি আন্দোলন হয়। এসবেরই ফল এনআরসি ও ক্যাব।
আমরা এনআরসি ও ক্যাবের বিরোধী। কারণ ঘধঃরড়হধষ জবমরংঃৎধঃরড়হ ড়ভ ঈরঃরুবহং একটি অমানবিক প্রক্রিয়া। এই কাজ শুরু হলে বলা হয় ‘মুসলমান তাড়ানো হবে’। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশ থেকে আসামে যাওয়া যুগ যুগ ধরে থাকা বৈধ অধিবাসীরা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েছে। এখন আনা হয়েছে ক্যাব। এই আইনটিতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের কেবল নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। দিল্লি সরকার এই আইনে বাংলাদেশকে ধর্মীয় নিপীড়নকারী দেশ বলতে চায়। অথচ বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দুরা প্রত্যেকেই নিজ সম্পত্তি বিক্রি করে গেছেন। বাংলাদেশে তাদের প্রত্যেকের আত্মীয়-স্বজন আছে। তাই ঈরঃরুবহ অসবহফসবহঃ ইরষষ আইনটি ধর্মভিত্তিক নিপীড়ন উল্লেখ করে নয়, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে যারাই ৩১.১২.২০১৪ এর আগ পর্যন্ত ভারতীয় আইন মেনে ভারতে আছেন তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার লক্ষ্যে করার দাবি করছি। লেখক : আহবায়ক, সর্বজন বিপ্লবী দল। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]