• প্রচ্ছদ » » ট্রাক বোঝাই হাত-পা বাঁধা একদল বুদ্ধিজীবীর কান্নার আওয়াজ এখনো শুনতে পাই


ট্রাক বোঝাই হাত-পা বাঁধা একদল বুদ্ধিজীবীর কান্নার আওয়াজ এখনো শুনতে পাই

আমাদের নতুন সময় : 14/12/2019

রবিউল আলম

স্বাধীনতা সংগ্রামে বিজয় অর্জনের ঊষালগ্নে দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যার স্থান বেছে নেয়া হয় রায়ের বাজার ইটের খোলায়। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো যাতে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জন করলেও দেশ পরিচালনায় যাতে ব্যর্থ হয়। দুর্ভাগ্যক্রমে আমার বাড়ি রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের পাশে। ৮ ডিসেম্বর থেকে রাজাকার, আলবদর বাহিনী গাড়ি নিয়ে পাড়া-মহল্লায় সশস্ত্র অবস্থায় বাড়ির তালিকা নিয়ে হাজির। সারা বাংলাদেশে অভিযান চলছে। আমার বাড়ির পাশে সোম পালের মিষ্টির দোকান। হোসেন সাহেবের গলিতে দেবরাজ মুহুরির বাড়িতে আমি থাকি। আমার মামা হোসেন সাহেব দেবরাজ মুহুরির বাড়িটি আরও আগেই কিনে নিয়েছিলেন। আমরা যে ঘরে থাকতাম, সেই ঘরের দরজায় একটি ফুটো ছিলো। ফুটো দিয়ে তাকালে বর্তমান ঋষিপাড়া পুরোটা দেখা যেতো, এমনকি শেরে বাংলা রোডও দেখা যেতো। ৮ ডিসেম্বর সকাল ১০ ঘটিকায় ট্যানারি মোড় থেকে বুদ্ধিজীবী ধরা শুরু করেছে। ট্রাক বোঝাই করে হাত-পা বাঁধা বুদ্ধিজীবী, অমুসলিম ও সাধারণ জনগণ। সোম পালের মিষ্টির দোকানে ঢুকে পড়লো কিছু আলবদর বাহিনী। অল্প কিছুক্ষণ পরই সোম পাল ও তার বড় ছেলে গোপালকে হাত-পা বেঁধে গাড়িতে তোলা হলো, আশপাশে কান্নার আওয়াজ। দরজার ফুটো দিয়ে চেয়ে আছি, ভয়ে আতঙ্কিত। কী হয় কে জানে, সোম পাল ও তার ছেলে গোপালকে গাড়িতে উঠানোর আগে চাইনিজ রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করা হলো, মুখে অকথ্য গালি-গালাজ। মনটা খারাপ হয়ে গেলো। প্রতিদিন সকাল হলেই সোম পালের দোকানের নাস্তা দিয়ে শুরু হতো আমাদের দিনের কার্যক্রম। ওইদিন রাতেই আমাদের বাড়ি ঘেরাও করা হলো। এক রাজাকার আলবদর বাহিনীর চিফকে বলছে, ইধার সব মালাউন হায়। প্রথমেই আমাদের ঘরে হামলা করলো। বাবার মুখভরা দাড়ি দেখে এক বেলুচি অবাক হয়ে রাজাকারকে প্রশ্ন করলো, এতনাবাড়া নূর হায়, এ কেয়সে মালাউন হো সাকতা। বাবাকে জিজ্ঞেস করা হলো চাচা আপ বাতাইয়ে আপ মুসলিম হো ইয়া মালাউন। বাবা ভারতে ৪০ বছর অবস্থান করার কারণে অনেক ভাষায় কথা বলতে পারতেন। মা আমাকে জোর করে ধরে রেখেছেন, আমি জোর করে মায়ের হাত ছাড়িয়ে বাবার পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। বাবা স্বহাস্যে উত্তর দিলো, এতনাবাড়া নূর লেকে হাম মালাউন? রাজাকারকে দেখিয়ে বাবা আরও বললেন, উনকা মুসলিম হোনেকা কিয়া হায়, সঙ্গে সঙ্গে দুইটি কলেমা উচ্চারণ করলেন। আলবদরের কমান্ডার খুশি হলেন। পরক্ষণে বাবার কাছে জানতে চাইলেন, ইধার মালাউন কাহা হায়। বাবা বললেন, ইধার মালাউন নেহি হায়, ইধার কুমার হায়। কমান্ডার জানতে চাইলেন, কুমার কেয়া করতা। বাবা বুদ্ধি করে বললেন, আপলোগ তান্দুর খাতা নেহি, তান্দুর বানাতা হায়। কমান্ডার রাজাকারকে মারতে মারতে নিয়ে গেলেন। বাড়ির ভেতরে অনেক হিন্দু পরিবার ছিলো, যারা কিনা বাবার বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তার জন্য রক্ষা পেলো। লেখক : মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]