• প্রচ্ছদ » » ফুল টাইম শিক্ষক কীভাবে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্ট টাইম শিক্ষক হন


ফুল টাইম শিক্ষক কীভাবে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্ট টাইম শিক্ষক হন

আমাদের নতুন সময় : 14/12/2019

কামরুল হাসান মামুন

সান্ধ্যকালীন কোর্সই কি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একমাত্র সমস্যা? না মোটেও একমাত্র না বরং বলা যায় অন্যতম সমস্যা। গত কয়েক বছরে এই সান্ধ্যকালীন কোর্সের পাশাপাশি আরেকটি সমস্যা দানা বেঁধেছে অথচ কেউ সেটা নিয়ে এখন পর্যন্ত একটি কথাও বলেনি বা বলে না। আগে প্রত্যেকটি বিভাগকে কিছু মাইনর কোর্স পড়াতে হতো। যেমন আমাদের ছাত্রদের আমাদের সময়ে গণিত, পরিসংখ্যান ও রসায়ন পড়তে ওইসব বিভাগে গিয়ে ক্লাস করতে হতো। এখন এই সিস্টেমের স্খলন ঘটেছে। এখন আমরা ছাত্রছাত্রীদের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পড়ে আসার পরিবর্তে ওই বিভাগের শিক্ষককে পার্ট-টাইম হিসেবে নিয়োগ দিই এবং তিনি এসে পড়িয়ে যান। এতে শিক্ষক মোটামোটি অঙ্কের বেতন পান। এটা শুরুতে খুব ছোট স্কেলে ছিলো। দিন যতো যাচ্ছে এর ব্যাপ্তি এবং মাত্রা দুই-ই বাড়ছে। আগে নিজের বিভাগের ছাত্রছাত্রী ছাড়াও অন্য বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের কিছু কোর্স অফার করা প্রত্যেকটি বিভাগের একটা মোরাল দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হতো। এই মোরাল দায়িত্বের জায়গাটি দিন দিন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। যুগের পরিবর্তনের কারণে পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্রদের এখন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কোর্স পড়তে হয়। উচিত ছিলো আমাদের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ মাইনর কোর্স হিসেবে দুয়েকটি কোর্স শুধু পদার্থবিজ্ঞান না গণিত এবং অন্যান্য বিভাগের ছাত্রছাত্রীদেরও পড়াতে পারতো। কিন্তু কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ সবসময়ই এই কাজটি করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে আসছে। গণিত বিভাগের এক সিনিয়র শিক্ষকের সঙ্গে কয়েক বছর আগে এই বিষয়ে কথা হচ্ছিলো। তিনি বলছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ নিয়ে তাদেরও সমস্যা হচ্ছিলো, কিন্তু তারা যখন বললেন তাদের ছাত্রদের প্রোগ্রামিং কোর্স না নিলে তারাও তাদের ছাত্রদের গণিত মাইনর হিসেবে পড়াবে না। এই থ্রেটের পর তারা রাজি হয়েছিলো। অথচ কোনো বিভাগ যদি তাদের ছাত্রদের অন্য বিভাগের একটি কোর্স পড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সেই বিভাগকে অনুরোধ করে তাদের না করা উচিত নয়। এটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় না যে টাকা ও শ্রমের হিসাব কিতাব করতে হবে।
আমরা কেন পার্ট-টাইম শিক্ষক নিয়োগের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছি? কারণ অর্থ প্রাপ্তি। আমাদের শিক্ষকদের মাঝে এখন কীভাবে অর্থ উপার্জন করা যায় সেই পথ খোঁজার এক তীব্র বাসনা আমি অনেকদিন যাবৎ লক্ষ্য করছি। সান্ধ্যকালীন কোর্স, অন্যত্র পার্ট-টাইম পড়ানো ইত্যাদি এরই প্রতিফলন। আসলে যতোদিন শিক্ষকদের বেতন, গবেষণার সুবিধার পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধা অনুপস্থিত থাকবে ততোদিন এসব ছন্দাইনন্দাই করে অলিগলি পথ বের করতেই থাকবো। কিন্তু আমরা ভুলে যাই যে, এসবের ভিক্টিম হচ্ছে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা। এমনকি আমাদের আদর্শের চ্যুতির ফলেও ছত্রছাত্রীরা ভিক্টিম হচ্ছে। তাই সব বিষয় সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভারত ও পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিকে তাকান। তাদের বেতন ও সুবিধাদি আমাদের চেয়ে অনেক ভালো। কেন এতো পার্থক্য থাকবে? আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা কি তাদের চেয়ে খারাপ? দৈন্যতা হচ্ছে আমাদের সরকারের। আমাদের সরকারগুলো ভাবতে অক্ষম যে শিক্ষক ও শিক্ষার পেছনে ব্যয় বরাদ্দই হতে পারে সবচেয়ে উন্নত বিনিয়োগ। বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে ৪-৫ বছর যদি তারা ভালো মানের শিক্ষা পায় তাহলেই কেবল তারা সুনাগরিক হয়ে দেশের বার্ডেন না হয়ে দেশের সম্পদ হয়। ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিক্ষকদের ভালো বেতন ও পর্যাপ্ত গবেষণার সুযোগ দিন এবং একইসঙ্গে নিজ বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্যত্র পার্ট-টাইম, সান্ধ্যকালীন কোর্সে পড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করুন। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েরই ফুল টাইম টিচার কি করে আবার পার্ট-টাইম টিচার হিসেবে পড়ায়? সবাই তো আর পার্ট-টাইম পড়ানোর সুযোগ পাবে না। এর ফলে পার্ট-টাইম পড়ানোর জন্য ফেভার পাওয়া কিংবা ডিসফেভার দেয়ার রাজনীতি চলে। ফলে পড়ষষবমরধষ ৎবষধঃরড়হংযরঢ় নষ্ট হওয়ার কারণ সৃষ্টি হয় যা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনোভাবেই কাম্য নয়। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]