• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » মানব উন্নয়ন সূচকে সার্ক দেশগুলোর বৈচিত্রময় অগ্রগতি দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাবে পিছিয়ে আছে কেউ কেউ


মানব উন্নয়ন সূচকে সার্ক দেশগুলোর বৈচিত্রময় অগ্রগতি দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাবে পিছিয়ে আছে কেউ কেউ

আমাদের নতুন সময় : 14/12/2019

রাশিদ রিয়াজ : স্বাস্থ্য, বৈষম্য, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ, পরিবেশের ভারসাম্য, নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিন্ন কৌশলের কথা বললেও সাফল্য এসেছে ভিন্ন ভিন্ন। সাফল্যের এই ভিন্নতার পিছনে কারণ হিসাবে পারিপাশির্^কতা যেমন রয়েছে তেমনি আছে দুর্নীতি কিংবা সুশাসনের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও। ইউএনডিপির ২০১৯ সালের ১৮৯টি দেশের মানব উন্নয়ন এ সূচকে বাংলাদশ এক ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছে ১৩৫তম অবস্থানে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভাল ফলাফল করে ৭১ নম্বরে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। ভারত ও পাকিস্তান রয়েছে যথাক্রমে তালিকার ১২৯ ও ১৫২ নম্বরে। মালদ্বীপ রয়েছে ১২৯, ভুটান ১৩৪, নেপাল ১৪৭ ও আফগানিস্তান রয়েছে ১৭০তম অবস্থানে। নেপাল গত বছরের চেয়ে এবার দুই ধাপ এগিয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত নেপাল মানব উন্নয়ন সূচকে ৫২.৬ শতাংশ এগিয়েছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে দেশটির মানুষের গড় আয়ু এবং স্কুল পড়–য়াদের সময়ের ব্যপ্তি বৃদ্ধি। একই সঙ্গে নেপালে মাথাপিছু আয় এই সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩০.৫ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ায় নেপালের নিচে এ সূচকে অবস্থান করছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। এরপরও নেপালে মানব বৈষম্য রয়েছে ২৪.৯ শতাংশ।
২০০৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ভুটানে মানব উন্নয়ন সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে ২০.১ শতাংশ। স্কুল পড়–য়াদের সময়ের ব্যপ্তি বৃদ্ধি পেয়েছে ৬.৯ বছর এবং মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৮৪.২ শতাংশ। দেশটির ৬ শতাংশ নারী অন্তত উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা শেষ করেছে। যদিও পুরুষের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ১৩.৭ শতাংশ। তবে এখনো এক লাখ নারীর সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে প্রসব জটিলতায় ১৪৮ জন মারা যায়।
২০০৯ সালে ১৮২টি দেশের মধ্যে মানব উন্নয়ন সূচকে আফগানিস্তান ১৮১তে থাকলেও এবছর আরো ১১ ধাপ এগিয়েছে। টানা যুদ্ধবিগ্রহে দেশটির ৪২ শতাংশ মানুষ বাস করছে দারিদ্র সীমায়, গড় আয়ু ৬৬.৬ শতাংশ। ৫ হাজার আফগান নাগরিকের জন্যে রয়েছে ১ জন ডাক্তার কিংবা হাসপাতালের দুটি বেড। ৫ বছরের নিচে প্রতি হাজারে ২৭৫ জন শিশু মারা যায়। শিশু জন্ম দেয়ার সময় প্রতি লাখে ১৪শ নারী মারা যায়। নিরাপদ পানির অভাবের পাশাপাশি স্যানিটেশন সুবিধা পায়না ৬৩ শতাংশ মানুষ।
এবারের প্রতিবেদনে বাংলাদেশিদের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৫৭ ডলার উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল দেখানো হয়েছে ৭২ বছর ৩ মাস। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মালদ্বীপ। পিছিয়ে আছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপাল। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে বৈষম্য বাড়ছে। এ ছাড়া উন্নয়ন ব্যয়ে অসাধুতার কারণেও বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে।
তবে প্রতিবেশি দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির মানুষের গড় আয়ু এখন ৭৬ বছর। শ্রীলঙ্কায় স্কুল পড়–য়াদের সময়ের ব্যপ্তি ১৪ বছর। মাথাপিছু আয় ১১ হাজার ৬১১ ডলার। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কমিয়ে আনতে পাড়ায় দেশটিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আশানুরুপ মানে নেয়া সম্ভব হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় মানব উন্নয়ন সূচকে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে পাকিস্তান। শিক্ষা ও মাথাপিছু আয়ের হার বাড়াতে না পারায় পাকিস্তান এক্ষেত্রে হোঁচট খেয়েছে। বৈষমের কারণেও পাকিস্তানে মানব উন্নয়ন সূচক হ্রাস পেয়েছে ৩১.১ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গড় মানেরও নিচে রয়েছে পাকিস্তানের মানব উন্নয় সূচক। দক্ষিণ এশিয়ায় ১১ শতাংশ স্কুলছাত্রী দারিদ্রসীমায় থাকলেও পাকিস্তানে এ হার ২৭ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ায় ৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ২৩ শতাংশ চরম দারিদ্রের শিকার হলেও পাকিস্তানে এ হার ৩৩ শতাংশ।
বিশে^র ২৮ শতাংশ দরিদ্র মানুষ বাস করছে ভারতে। গত ২৮ বছরে ভারতের মানব উন্নয়ন সূচক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মাথাপিছু আয় বেড়েছে আড়াইশ গুণ। কিন্তু নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে ভারতে উন্নয়ন সূচকে সুষম পরিবর্তন না হওয়ায় গোষ্ঠীগত বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ ভারতে রীতিমত এক দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা উন্নয়ন ও বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে ভিত্তি খুব দুর্বল রয়েছে দেশটিতে। সম্পাদনা: মাসুদ কামাল।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com