• প্রচ্ছদ » » শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তানদের চোখে বাংলাদেশ


শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তানদের চোখে বাংলাদেশ

আমাদের নতুন সময় : 14/12/2019

হারুন উর রশীদ স্বপন : একাত্তর সালে বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বহীন ও মেধাশূন্য করতে হত্যা করা হয় বুদ্ধিজীবীদের? তারা একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন, যা আজ তাদের সন্তানরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চান? শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দিন হোসেনের ছেলে সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর হতাশ নন? তিনি মনে করেন, অনেক পাথর আর বাধা সরিয়ে আবার বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে? বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা হয়েছিলো? কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা পারেনি অপশক্তি? তাই বাংলাদেশ ইতিহাসের সঠিক পথেই এখন হাঁটছে? তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবীরা এক অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং শোষণমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন? কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয় এবং বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়? এরপর এ দেশে স্বাধীনতাবিরোধীরা মন্ত্রী হয়? ঘাতকরা ক্ষমতায় আসে? আর আমরা শহীদদের সন্তানরা হতাশায় নিমজ্জিত হই? কিন্তু ইতিহাস তার পথ খুঁজে নেয়? অনেক চাপ আর ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে বাংলাদেশে অবশেষে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, বিচার চলছেও? এটা আমাদের অনেক বড় অর্জন। তবে সাম্প্রদায়িকতামুক্ত এবং শোষণমুক্ত বাংলাদেশের জন্য আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে? আমি হতাশ নই? কারণ সামনে আলো আছে? আমাদের সময় লাগবে? কিন্তু আমরা এগিয়ে যাবোÑ এই বিশ্বাস শাহীন রেজানুরের? শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. এএফএম আবদুল আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী। তিনি আজকের বাংলাদেশকে দেখেন দু’ভাবে? প্রথমত তিনি মনে করেন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে? বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এটা আমাদের বড় অর্জন? একটা সময় দেশ স্বাধীনতাবিরোধীরা দখল করে নিলেও আবার তা মুক্ত হয়েছে? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে? কিন্তু অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনো সফল হয়নি? তিনি বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবীরা যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাইতেন তা অর্জন করতে আরও অনেক সময় লাগবে? আমাদের অসাম্প্রদায়িক সংবিধানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর সাম্প্রদায়িক করা হয়েছে? এখনো সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো সক্রিয়? এখনো দেশে আমরা সাম্প্রদায়িক হানাহানি দেখি? অর্থনৈতিক শোষণ এখনো বিদ্যমান? তবে এরপরও আমি হতাশ নই? আমার মনে হয় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি’? শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের সন্তান শমী কায়সার মনে করেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি যাত্রা শুরু হয়েছে, গণজাগরণ মঞ্চ হয়েছে? তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে নতুন করে ভাবছে? তারা তাদের মতো করে মুক্তিযুদ্ধকে দেখছে? তারা সঠিক ইতিহাস জানছে? বঙ্গবন্ধুকে জানছে? অনেকে ভাবতেই পারতো না যে এ দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে? অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে এই বিচার বন্ধে? কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এটা সম্ভব করেছেন? আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ’। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা সত্য যে আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি এখনো আসেনি? সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প এখনো আছে? কিন্তু আমরা এগোচ্ছি? অনেক কিছু এখনো অর্জনের বাকি? কিন্তু এখন আশাবাদী আমাদের হবে’?




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]