বিচারিক স্বাধীনতা ‘ধারণাপ্রসূত’ ও ‘মাননির্ধারক’

আমাদের নতুন সময় : 15/12/2019

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে : স্বাধীনতা যদি আপনার চরিত্রের মধ্যে না থাকে, তাহলে হাজার নিয়ম-নীতি থাকলেও আপনি স্বাধীন হতে পারবেন না। লোকে কি বলবে, আমার প্রাইম মিনিস্টার কি বলবে, তাদের মুখের দিকে চেয়ে যদি বিচার করি তাহলে সুবিচার হবে না। বিচারপতিকে হতে হবে মোটিভলেস এবং স্পেশালিস্ট। আইনকে ব্যাখ্যা করতে হবে এমনভাবে, যাতে যাদের কাজটা নিশ্চিত হয়, আমরা যদি সজাগ থাকি এবং সৎ থাকি তাহলেই আমাদের জাজমেন্ট ভালো হবে। শনিবার ১৪ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের এক যুগ’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনা সভায় এই কথাগুলো বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. আবদুল মতিন। এতে সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ডক্টর সালেহ উদ্দিন আহমেদের এবং অন্যদের মাঝে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেন, হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন প্রমুখ।

নিঃসন্দেহে আলোচনাটি সময়োচিত এবং সাবেক বিচারপতি মতিনের বক্তব্য থেকে বিচারিক স্বাধীনতার নানা দিক উদ্ভাসিত। কারণ, বিচারিক স্বাধীনতা হচ্ছে, যেখানে কোর্ট ও বিচারকরা তাদের দায়িত্ব পালনে সকল প্রকার অর্থাৎ সরকার কিংবা ব্যক্তিগত পর্যায়ের প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ মুক্ত থাকবেন। সাধারণত এতে দু-ধরণের মতপার্থক্য দেখা যায়, যেমন- প্রথমটি ধারণাপ্রসূত, অর্থাৎ কোর্ট ও বিচারকরা কী ধরণের স্বাধীনতার অধিকারী হবেন, সেই স্বচ্ছতার অভাব এবং অপরটি মাননির্ধারক, অর্থাৎ কী ধরণের বিচারিক স্বাধীনতা প্রত্যাশিত। এই উভয় বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অর্থমন্ত্রী (১৭৮৯-৯৫) আলেকজান্ডার হ্যামিলটনের ভাষায় যথোপযুক্তভাবে উন্মোচিত। তার ভাষায়, বিচার বিভাগ হচ্ছে ‘কম বিপজ্জনক’ যার ‘সোর্ড বা তরবারি কিংবা পার্স বা মানিব্যাগের উপর কোনো প্রভাব নেই’; সেজন্য অপরাপর বিভাগ থেকে সেটি নিজেকে সুরক্ষায় কম ক্ষমতাবান।
তথাপি বিচারিক স্বাধীনতার সমন্বিত ও আসঞ্জিত সংজ্ঞা নানাবিধ প্রশ্নের জন্ম দেয়, যেমন- ‘কাদের জন্য স্বাধীনতা’, ‘কার থেকে স্বাধীনতা’ ও ‘কিসের জন্য স্বাধীনতা’। এগুলোর উত্তর খুঁজতে গেলে অপরিহার্যভাবে বিবেচনায় চলে আসে, প্রকৃত অর্থে কেনো বিচারিক স্বাধীনতা আবশ্যক ও তা অর্জন বাঞ্চনীয়, যে প্রেক্ষাপটে ‘কিসের উদ্দেশ্যে স্বাধীনতা প্রয়োজন’।

সেজন্য সাধারণভাবে বিচারিক স্বাধীনতা হচ্ছে একটি উপায়ান্তরের উপসংহার রচনার চেয়ে উপসংহার অন্বেষণই যথার্থ। অনেকেই সোজাসাপ্টা ভাষায় সম্ভবত লক্ষ্যটি বলবেন ‘আইনের দৃষ্টিতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার সাধন’। যদি সেটাই লক্ষ্য হয়, তা হলে বিচারিক স্বাধীনতার অন্বেষণে নানাবিধ আপত্তির স্ফূরণ হওয়াটা স্বাভাবিক। তাতে একটি আপত্তি উঠতে পারে, আইনের প্রকৃতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যটি বিচারিক স্বাধীনতায় ভ্রান্ত ধারণাপ্রসূত এবং অপর আপত্তিটি, বিচারিক স্বাধীনতা প্রয়োজনহীন অথবা আইনের দৃষ্টিতে নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় লক্ষ্যহীন, যদি সেটা হয় নিরীক্ষণহীন। নিশ্চয়ই প্রত্যাশা থাকবে, এই ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গীর আলোকে বাংলাদেশে বিচারিক স্বাধীনতা তার অবয়বটি ধারণ করবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]