• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » বিজেপি সাংসদ ও অভিনেত্রী রুপা গাঙুলির প্রশ্ন, তিনি বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী, তিনি কিভাবে বিধায়ক হন!


বিজেপি সাংসদ ও অভিনেত্রী রুপা গাঙুলির প্রশ্ন, তিনি বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী, তিনি কিভাবে বিধায়ক হন!

আমাদের নতুন সময় : 15/12/2019

দেবদুলাল মুন্না : ভারতে লোকসভার পর রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা ক্যাব ( সিএবি) পাশ হওয়ার পর এখন আইনে রুপ নেওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী রুপা গাঙুলি জানান , তিনি অনুপ্রবেশকারী। বোরখা পরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়েছিলেন। তার নাগরিকত্ব কি থাকবে? শুক্রবার রাতে তার এমন টুইটকে কেন্দ্র করে ভারতে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। কারণ তিনি বিজেপির এমপি। তিনি দাবি করেছেন চার দশক আগে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, তা হলে তাকে কি এখন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় শরণার্থী থেকে নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে? যদি করতে হয়, তা হলে এখন তার অবস্থান কী? তিনি কি জনপ্রতিনিধি হয়ে বিধানসভায় থাকতে পারেন? নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) রাজ্যসভায় পাশ হওয়ার পর শুক্রবার রূপা টুইট করেছেন, ‘আমি তো খান টাইগারের বেগম হয়ে যাচ্ছিলাম। আমাকে অপহরণ করতে এসেছিল। সে রাতে যদি আমি এবং আমার মা বোরকা পরে বাংলাদেশের দিনাজপুর থেকে পালাতে না পারতাম, তবে আজ বিজেপির বিধায়ক হতে পারতাম না।’ এ নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘রূপা গাঙুলি তো নিজেই বলছেন, উনি বোরকা পরে এসেছেন। উনি তো নিজের পরিচয় প্রকাশ করেননি! সে ক্ষেত্রে তো উনি নাগরিক নন, একজন অনুপ্রবেশকারী! তা হলে বিজেপি তাকে বিধায়ক করল কী করে? এখনই তার পদত্যাগ করা উচিত।’ এর উত্তরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘রূপা শরণার্থী হয়ে থাকলে কালই নাগরিকত্বের আবেদন করবেন এবং পেয়েও যাবেন। আর শরণার্থী অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম অনেক রাজ্য থেকেই অনেকে বিধায়ক হয়েছেন।’ স্থানীয় আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দিলীপের এই বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে এক ঝাঁক প্রশ্ন। এক, ‘অ-নাগরিক’ বিধায়কদের নিয়ে গঠিত সরকার কি বৈধ? দুই, রূপার মতো যত মানুষ ‘নির্যাতনের শিকার হয়ে’ বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছেন, তাদের প্রায় সকলেই ইতিমধ্যে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, গাড়ি চালানোর লাইসেন্স, পাসপোর্টসহ নাগরিকত্বের নানা বৈধ নথি পেয়েছেন। অনেকের নিজস্ব সম্পত্তিও আছে। তাদের অনেকেই এ দেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরি বা ব্যবসা করছেন। সে ক্ষেত্রে আইনি পথে ‘নাগরিকত্ব’ পাওয়ার আগেকার ওই সব নথি কি গ্রাহ্য? যদি গ্রাহ্য না হয়, তা হলে তারা কি শরণার্থী হিসাবেই নাগরিকত্বের অধিকার ভোগ করছেন? এটা কি স্ববিরোধিতা নয়? এখানেই নাকি বিজেপি নেতারা নয়া তত্ত্ব নিয়ে মাঠে নামছেন ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, গাড়ি চালানোর লাইসেন্স, পাসপোর্টসহ যে ১৪টি নথি এখন ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহ্য হয়, তার একটাও নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। স্বাধীনতার পর একের পর এক ভোট দিয়ে যারা সরকার গড়েছেন, তারাও নাগরিক নন। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]