• প্রচ্ছদ » » লেবার পার্টির পরাজয় বিশ্লেষণ


লেবার পার্টির পরাজয় বিশ্লেষণ

আমাদের নতুন সময় : 15/12/2019

মাসুদ রানা

লেবার পার্টির হার কি অপ্রত্যাশিত? না, আমার কাছে মোটেও তা নয়। কেন নয়? কারণ পার্লামেন্টারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হওয়ার পর, গত ১৪ নভেম্বরে, এই ফেসুবকেই পৌষ্টিত একটি লেখায় আমি লিখেছিলাম : ‘বর্তমান বিশ্ব-পরিস্থিতি এমনই যে, প্রতিটি জাতির মধ্যে নতুন করে জাতীয় আত্মসচেতনতার উন্মেষ ও বিকাশ ঘটছে। এটি হচ্ছে সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বগামী মনোরাজনৈতিক ক্ষেত্রপ্রস্তুতির অংশ। সাধারণভাবে, বিশ্বব্যাপী বামপন্থীরা জাতীয়তাবাদকে রূপত পাপ মনে করার কারণে, তাদের পক্ষে গণ-মানুষের জাতীয়তাবাদী চেতনাকে ধারণ করা কিংবা এড্রেস করা সম্ভব নয়। একইভাবে, ব্রিটিশ লেইবার পার্টির বর্তমান নেতৃত্ব সমাজাতান্ত্রিক হওয়ার কারণে তাদের পক্ষে ইংলিশ জনগোষ্ঠীর জাতীয় অনুভ‚তির মর্ম উপলব্ধি করে তার প্রতি সঠিক ক্রিয়া করা সম্ভব হচ্ছে না।
যদিও লেবার পার্টি ক্ষমতায় এলে তা শুধু ব্রিটিশ জনগণের জন্যেই নয়, সারা বিশ্বের জন্য ইতিবাচক হবে, কিন্তু জাতীয় চেতনায় উত্থিত ইংলিশ জনগোষ্ঠীর মধ্যে তারা ইতিবাচক সাড়া জাগাতে পারছে না’। লেবার দলের পরাজয় বিশ্লেষণে আমি সিরিজ-পৌষ্টিং দেবো। এটি হচ্ছে সে-সিরিজের প্রথম, যেখানে আমার বিশ্লেষণের প্রেক্ষিত হিসেবে বৈশ্বিক জাতীয় পুনর্জাগরণের বিষয়টিকে স্থাপন করেছি। ২. প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একটি দলের জয় কিংবা পরাজয়ের পেছনে অনেক উৎপাদক (ভধপঃড়ৎ) কাজ করে, যাদের কতিপয় অন্তঃস্থ (রহঃবৎহধষ) এবং কতিপয় বহিঃস্থ (বীঃবৎহধষ)। নির্বাচনে একটি দলের জয়-পরাজয়ের যথাসম্ভব বস্তুনিষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে যথাসম্ভব সমস্ত উৎপাদকে নিরাসক্তভাবে বিবেচনায় আনতে হয়। তা না হলে, ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ কার্য-কারণ উপলব্ধি করা যায় না। উপরে নির্দেশিত অন্তঃস্থ উৎপাদকসমূহের মধ্যে রয়েছে নেতৃত্ব, সংগঠন, কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতি। আর বহিঃস্থ উৎপাদকসমূহের মধ্যে রয়েছে প্রতিদ্ব›দ্বী নেতৃত্ব, প্রতিদ্ব›দ্বী সংগঠন, কর্মসূচি ও প্রতিদ্ব›দ্বী কর্মপদ্ধতি, জাতীয় পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও জনগণের স্থানীয় ও জাতীয় প্রত্যাশা এবং সর্বোপরি দৈবঘটনা (অসচরাচর অর্থে দৈব)।
লক্ষ করছি, একদল বিশ্লেষক লেইবার পার্টির নির্বাচনী পরাজয়ের জন্যে সম্পূর্ণরূপে নেতৃত্ব তথা জেরেমি করবিনের ব্যক্তিত্ব ও অক্ষমতাকে দায়ী করে জাতীয় গণ-মাধ্যমসমূহের ফিচার লিখছেন। এসব সমালোচক প্রধানতঃ করবিন-বিদ্বেষী। বিপরীতে, আরেকদল জেরেমি করবিনের ব্যক্তিত্ব সততা, সহশীলতা, উদারতা ইত্যদি ব্যক্তিগত গুণের তারিফ করে একটি বেদনার্ত আবেগ নিয়ে প্রত্যক্ষভাবে গৃহশত্রæ, বিরোধী দল, মিডিয়া, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এবং পরোক্ষভাবে জনগণের রাজনৈতিক রুচির অবনমনকে দায়ী করে বলছেন, ‘রাজনীতিতে ভালোমানুষের স্থান নেই’। স্পষ্টতঃ এরা হচ্ছেন করবিন-ভক্ত।
যাহোক, বিষয়াদি ও ঘটনাসমূহকে (ঢ়যবহড়সবহধ) সঠিভাবে বুঝর জন্যে চাই ভক্তিমুক্ত ও বিদ্বেষমুক্ত নিরাসক্ত বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ, যা প্রায়শ বিশ্লেষকের রাজনৈতিক বিশ্বাস, অবস্থান, প্রেষণা ও উদ্দেশ্যের দ্বারা প্রায়শ বাধাগ্রস্ত হয়। ‘লেবার পার্টির নির্বাচনী পরাজয় বিশ্লেষণ’ সিরিজে আমি চেষ্টা করবো আমার পাঠকদের জন্যে যথাসম্ভব একটি বস্তুনিষ্ঠ ও নিরাসক্ত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করতে। ১৪/১২/২০১৯, লÐন, ইংল্যাÐ। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com