• প্রচ্ছদ » » লোকবিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পোষ্য কোটা বাতিল হোক


লোকবিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পোষ্য কোটা বাতিল হোক

আমাদের নতুন সময় : 15/12/2019

আর রাজী

সাধারণ লোকবিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রথমবর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হয়ে এলো। যারা সুযোগ পেয়েছেন কোনো না কোনো একটা লোকবিশ্ববিদ্যালয়ে তারা নানা রকম নির্যাতন নিপীড়ন সহ্য করেই ভর্তি হয়েছেন, হচ্ছেন। আর অসংখ্য শিক্ষার্থীর কেবল কষ্ট শিকারই সার হলো, তারা কোনো লোকবিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পেয়ে নানা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন, যাদের সামর্থ্য আছে তাদের অনেকে প্রাইভেট ইউনিতে বা কানাডা-অস্ট্রেলিয়া চলে যাবেন। কিন্তু এসব বলার জন্য এই পোস্ট নয়। এই পোস্ট আমার বন্ধুদের একথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জকে পাশ কাটিয়ে পিতা-মাতার চাকরির সুবাদে একদল শিক্ষার্থী এ বছরও আফসারাফ লোকবিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সেরা সেরা বিভাগে ভর্তি হয়ে গেলো বা যাচ্ছে। তারা ভর্তি হচ্ছেন বা হয়েছেন ‘পোষ্য-কোটায়’। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত এই কোটা। দেশে যখন কোটাবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন হচ্ছিলো, তখন কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষক ও স্টাফদের কোটা কেন থাকবে, তা থাকার প্রয়োজন কী? কেউ কেউ সে সময় এই কোটাও বাতিল করার কথা তুলেছিলেন। কিন্তু কোটা আন্দোলনের ডামাডোল মিটে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কোটা নিয়ে আর কোনো কথা কোথাও তেমন শুনিনি। কিন্তু আমি আবার নতুন করে এই প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসতে চাই। কেন লোকবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোষ্যদের জন্য এই কোটা রাখা হবে বা কেন তা বাতিল করা হবে না? বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা চাকরি করেন তাদের পোষ্যরা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে এমনিতেই বেশি জানেন, ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার সময় তারা বাসায় গরম ভাত খেয়েই পরীক্ষা দিতে যান, এটিই অন্যদের তুলনায় তাদের অনেক সুবিধা দেয়, তারপরও তাদের আবার কোটা দিতে হবে কেন? শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এই পোষ্য-কোটা রাখার কোনো সুস্থ-স্বাভাবিক-গ্রহণযোগ্য যুক্তি থাকতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি না। বরং এটা শিক্ষক-স্টাফদের পোষ্যদের মানসিক গড়নের জন্য হানিকর আর বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবার জন্য অবমাননাকর। এই পোষ্য কোটা বিষয়েও একটা অদ্ভুত নিয়ম আছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে, তা হচ্ছে সবার আগে অগ্রাধিকার পাবেন শিক্ষকের পোষ্যরা, তারপর কর্মকর্তা এবং সব শেষে কর্মচারীদের পোষ্যরা। আমার মাথায় ঢোকে না আমাদের শিক্ষকরা এমন একটা আয়োজন নিজেদের জন্য কেমন করে বহাল রেখে চলেছেন? কেন তারা নিজেরাই এই বৈষম্যমূলক কুৎসিত নিয়ম বাতিল করছেন না? এ ক্ষেত্রেও কি মহামান্য রষ্ট্রপতিকে কথা বলতে হবে, ইউজিসিকে নির্দেশনা জারি করতে হবে? এই পোষ্য কোটা সুবিধার খারাপ দিকগুলো আমি বিশদে লিখতে চাই না। যাদের সঙ্গে নিত্য উঠবস তাদের এবং তাদের পোষ্যদের সম্পর্কে কিছু কটু কথা বলাটাও খুব কঠিন। কিন্তু আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জোর চাপ প্রয়োগ করে এই বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা বাতিল করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করছেন। যদি তা তারা না করেন তাহলে এই বিশেষ সুযোগ সব লোকবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা স্বেচ্ছায় সমর্পণ করবেন তেমন আশা করার কোনো কারণ দেখছি না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : info@amadernotunshomoy.com